‘কালো ছায়া সরিয়ে’ এলো খুশির ঈদ
jugantor
‘কালো ছায়া সরিয়ে’ এলো খুশির ঈদ

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৩ মে ২০২২, ০৪:৩০:৫৬  |  অনলাইন সংস্করণ

গত দুই বছর ধরে ঈদুল ফিতরের চাঁদ দেখা যাওয়ার পর রেডিও-টিভিতে কি ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’ এই গানটা বেজেছে? উত্তর হলো- বেজেছে এবং দেখানো হয়েছে। আমরাও (হয়তো) গুন গুন করে গেয়েছি ‘ও মন রমজানের ঐ…’। কিন্তু ঈদের আনন্দ উদযাপন করা হয়নি, উদযাপন করতে পারিনি, উদযাপন করা সম্ভব ছিল না।

মহামারি করোনা দুই বছর পুরো পৃথিবীর ওপর যে কালো থাবা বিস্তার করে রেখেছিল তা সরিয়ে এবার প্রায় স্বাভাবিকভাবেই উদযাপিত হচ্ছে ঈদুল ফিতর।

মহামারির এই সময়ে কতজন স্বজনকে হারিয়েছি, কতজন ভালোবাসার মানুষকে হারিয়েছি, তার কোনো হিসাব নেই। কত সন্তান তার বাবা-মাকে হারিয়েছে, কত বাবা-মা তার সন্তানকে হারিয়েছে, তারও কোনো হিসাব নেই। হিসাব নেই কতজন চাকরি বা আয়ের উৎস হারিয়ে শহর ত্যাগ করে গ্রামে গিয়েছেন। হিসাব নেই কত উদ্যোক্তা বা মালিক তার প্রতিষ্ঠানটিকে হারিয়েছেন।

দিনের আলোতেও সড়ক ছিল জনমানবশূন্য, ভুতুড়ে। দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় সবই ছিল বন্ধ। এই সময়টায় পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাই পাল্টে গিয়েছিল। চারিদিকে ছিল স্বজন হারানোর শোক।

সব শোক, সব হারানো বেদনা বুকে নিয়েই আমরা ফিরেছি স্বাভাবিকতায়। জীবন হয়েছে স্বাভাবিক, লেখাপড়ায় এসেছে স্বাভাবিক গতি, ব্যবসা-বাণিজ্যে এসেছে স্বাভাবিক গতি, পর্যটন ফিরেছে স্বাভাবিক অবস্থায়। সবমিলিয়ে এবারের ঈদুল ফিতরও আমরা উদযাপন করছি আগের সেই স্বাভাবিক নিয়মে।

‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’ এই খুশি ছড়িয়ে পড়েছে আমাদের সবার মাঝে।

ঈদ এই দেশে শুধু ধর্মীয় উৎসবই না, সামাজিক উৎসবও। এই উৎসব সর্বজনীন।

এবার এই উৎসবকে কেন্দ্র করে নাড়ির টানে গ্রামে ফিরে গেছেন অনেকেই, প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগির জন্য। সড়ক, রেল, নৌ পথে যাতায়াতেও তেমন কোনো ভোগান্তি ছিল না।

ঈদের ঠিক কয়েকদিন আগেই সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর হস্তান্তর নিশ্চিতভাবেই অনেকের ঈদের আনন্দ অনেক গুণে বৃদ্ধি করেছে।

রাজনৈতিক দলগুলো এবং তাদের নেতাকর্মীদের মধ্যেও ফিরে এসেছে উৎসাহ-উদ্দীপনা। ঈদ ও রোজা কেন্দ্রিক কর্মসূচিও বেড়েছে, গণসংযোগও বেড়েছে।

দেশের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে অনেক মানুষ ছুটে গেছেন পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে, এমনকি দেশের বাইরেও গেছেন বিপুল সংখ্যক মানুষ।

সবকিছুতেই মহামারিকে জয়ের ছাপ। যদিও এরমধ্যেই চলছে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ। যার প্রভাব চরমভাবে পড়েছে আমাদের জীবনযাত্রায়, দ্রব্যমূল্যে।

তবে এই ঈদযাত্রায় সবাইকে সাবধান হতে হবে, যাতে কালবৈশাখীর এই সময়ে কোনো নৌ দুর্ঘটনা না ঘটে। সড়কযাত্রা যেন নিরাপদ হয়। ঈদের আনন্দ শেষে সবাই যেন নিরাপদে ফিরতে পারি।

শোক কাটিয়ে, হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে সবাই যেন এক হয়ে ঈদ উদযাপন করতে পারি। ঈদ মোবারক।

‘কালো ছায়া সরিয়ে’ এলো খুশির ঈদ

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৩ মে ২০২২, ০৪:৩০ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

গত দুই বছর ধরে ঈদুল ফিতরের চাঁদ দেখা যাওয়ার পর রেডিও-টিভিতে কি ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’ এই গানটা বেজেছে? উত্তর হলো- বেজেছে এবং দেখানো হয়েছে। আমরাও (হয়তো) গুন গুন করে গেয়েছি ‘ও মন রমজানের ঐ…’। কিন্তু ঈদের আনন্দ উদযাপন করা হয়নি, উদযাপন করতে পারিনি, উদযাপন করা সম্ভব ছিল না।

মহামারি করোনা দুই বছর পুরো পৃথিবীর ওপর যে কালো থাবা বিস্তার করে রেখেছিল তা সরিয়ে এবার প্রায় স্বাভাবিকভাবেই উদযাপিত হচ্ছে ঈদুল ফিতর।

মহামারির এই সময়ে কতজন স্বজনকে হারিয়েছি, কতজন ভালোবাসার মানুষকে হারিয়েছি, তার কোনো হিসাব নেই। কত সন্তান তার বাবা-মাকে হারিয়েছে, কত বাবা-মা তার সন্তানকে হারিয়েছে, তারও কোনো হিসাব নেই। হিসাব নেই কতজন চাকরি বা আয়ের উৎস হারিয়ে শহর ত্যাগ করে গ্রামে গিয়েছেন। হিসাব নেই কত উদ্যোক্তা বা মালিক তার প্রতিষ্ঠানটিকে হারিয়েছেন।

দিনের আলোতেও সড়ক ছিল জনমানবশূন্য, ভুতুড়ে। দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় সবই ছিল বন্ধ। এই সময়টায় পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাই পাল্টে গিয়েছিল। চারিদিকে ছিল স্বজন হারানোর শোক।

সব শোক, সব হারানো বেদনা বুকে নিয়েই আমরা ফিরেছি স্বাভাবিকতায়। জীবন হয়েছে স্বাভাবিক, লেখাপড়ায় এসেছে স্বাভাবিক গতি, ব্যবসা-বাণিজ্যে এসেছে স্বাভাবিক গতি, পর্যটন ফিরেছে স্বাভাবিক অবস্থায়। সবমিলিয়ে এবারের ঈদুল ফিতরও আমরা উদযাপন করছি আগের সেই স্বাভাবিক নিয়মে।

‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’ এই খুশি ছড়িয়ে পড়েছে আমাদের সবার মাঝে।

ঈদ এই দেশে শুধু ধর্মীয় উৎসবই না, সামাজিক উৎসবও। এই উৎসব সর্বজনীন।

এবার এই উৎসবকে কেন্দ্র করে নাড়ির টানে গ্রামে ফিরে গেছেন অনেকেই, প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগির জন্য। সড়ক, রেল, নৌ পথে যাতায়াতেও তেমন কোনো ভোগান্তি ছিল না।

ঈদের ঠিক কয়েকদিন আগেই সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর হস্তান্তর নিশ্চিতভাবেই অনেকের ঈদের আনন্দ অনেক গুণে বৃদ্ধি করেছে।

রাজনৈতিক দলগুলো এবং তাদের নেতাকর্মীদের মধ্যেও ফিরে এসেছে উৎসাহ-উদ্দীপনা। ঈদ ও রোজা কেন্দ্রিক কর্মসূচিও বেড়েছে, গণসংযোগও বেড়েছে।

দেশের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে অনেক মানুষ ছুটে গেছেন পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে, এমনকি দেশের বাইরেও গেছেন বিপুল সংখ্যক মানুষ।

সবকিছুতেই মহামারিকে জয়ের ছাপ। যদিও এরমধ্যেই চলছে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ। যার প্রভাব চরমভাবে পড়েছে আমাদের জীবনযাত্রায়, দ্রব্যমূল্যে।

তবে এই ঈদযাত্রায় সবাইকে সাবধান হতে হবে, যাতে কালবৈশাখীর এই সময়ে কোনো নৌ দুর্ঘটনা না ঘটে। সড়কযাত্রা যেন নিরাপদ হয়। ঈদের আনন্দ শেষে সবাই যেন নিরাপদে ফিরতে পারি।

শোক কাটিয়ে, হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে সবাই যেন এক হয়ে ঈদ উদযাপন করতে পারি। ঈদ মোবারক।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন