তামাক করের ‘গলদ’ কোথায়? প্রশ্ন সাবের হোসেনের
jugantor
তামাক করের ‘গলদ’ কোথায়? প্রশ্ন সাবের হোসেনের

  সংসদ প্রতিবেদক  

১৫ জুন ২০২২, ০০:৪৮:২১  |  অনলাইন সংস্করণ

তামাক করের ‘গলদ’ কোথায়? প্রশ্ন সাবের হোসেনের

বছর বছর সিগারেটের ওপর কর বাড়িয়ে তামাক নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য যে পূরণ হচ্ছে না, তাতে কেবল তামাক কোম্পানির মুনাফাই যে বাড়ছে, সে কথা জাতীয় সংসদে তুলে ধরলেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী।

মঙ্গলবার সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

সাবের হোসেন হোসেন চৌধুরী আরও বলেন, বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করার যে লক্ষ্য সরকার নিয়েছে, এভাবে তা পূরণ হওয়ার নয়। প্রধানমন্ত্রী ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু আমরা যে হারে চলছি, তাতে ২০৮০ সালেও তামাকমুক্ত হব না। তাহলে রোডম্যাপটা কোথায়? প্রধানমন্ত্রী যে ঘোষণা দিলেন, সেটা বাস্তবায়নে আমরা কী করলাম?
তামাক নীতির গলদটা কোথায়?

সে বিষয়টি তুলে ধরে সাবের বলেন, আমরা প্রতিবছর সিগারেটের মূল্য বাড়িয়ে তার ওপর করারোপ করি। এতে তারা উৎপাদন খরচ না বাড়িয়ে বেশি টাকা লাভ করছে। এতে সরকারের তিন হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে। আমরাতো তামাক কোম্পানির মুনাফা বাড়াতে সংসদে আসিনি।
তিনি বলেন, আমাদের সমস্যা হচ্ছে, এই কথাগুলো আমরা ডিফেন্ড করতে পারি না। আমাদের যে ট্যাকসেশন পলিসি, ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো কোম্পানির পরিচালকমণ্ডলীতে কারা? সরকারের শেয়ার এখানে ৮ শতাংশ। কিন্তু পরিচালক ৫০ শতাংশ। ১১ পরিচালকের পাঁচজনই সরকারের কর্মকর্তা। আমি বলছি না তাদের কারণে এটা হচ্ছে না। কিন্তু কেন হচ্ছে না?

সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, আমরাতো সরকারি দলের। আমি নৌকার টিকিট নিয়ে নির্বাচিত হয়েছি। সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্তের পাশে আমি আছি। সেটা আমি সমর্থন করছি। কিন্তু এ ধরনের পরিস্থিতি যখন আসে তখন আমাদের চুজ করতে হয়।

তিনি আরও বলেন, আমাদের সংবিধানে জনস্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা আছে। এটা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। আদালতের রায় বলেছে, তামাক আমাদের বেঁচে থাকার অধিকারের সাথে সাংঘর্ষিক। কিন্তু এরপরও দেখছি জাপানি বিনিয়োগ এসেছে। বিনিয়োগ বাড়ছে।

সার্বিক পরিস্থিতিতে হতাশা প্রকাশ করে সাবের হোসেন বলেন, তামাক নিয়ে অনেকবার কথা বলে হয়ত আমি বোঝাতে পারছি না। কিংবা যাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই তারা বুঝছেন না। সপ্তম ও অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় আমরা তামাক নিয়ন্ত্রণের কথা বলেছি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান হচ্ছে, প্রতি বছর বাংলাদেশে এক লাখ ৬০ হাজার মানুষ অকাল মৃত্যুবরণ করে এই তামাকের জন্য।

তিনি বলেন, কোভিডে আমরা সফল হয়েছি, সরকারের পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে দুই বছরে মৃত্যুর সংখ্যা ৩০ হাজারের কমে রাখতে সক্ষম হয়েছি। কিন্তু এক বছরে তামাকে মারা যাচ্ছে এক লাখ ৬০ হাজার মানুষ। পরিকল্পনা কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রতি বছর এ জন্য ক্ষতি ৩০ হাজার কোটি টাকা। অথচ তামাকের কর থেকে আমরা পাচ্ছি ২২ হাজার কোটি টাকা। আমি এখানে জীবনের মূল্যের বিষয়টি ধরলাম না!

সাবের হোসেন বলেন, বাজেটে অনেক ইতিবাচক দিক রয়েছে, তবে এই বাজেটে বায়ু দূষণের বিষয়টির স্থান পাওয়া উচিত ছিল। বায়ু দূষণের কারণে বছরে দুই লাখের বেশি মানুষ অকাল মৃত্যুবরণ করছে। বিষয়টি নিয়ে অর্থমন্ত্রী তার সমাপনী ভাষণে কথা বললে আমরা খুশি হব।

তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশকে প্লাস্টিক ও পলিথিন মুক্ত দেখতে চাই। কিন্তু আমরা পলিথিন ও প্লাস্টিকে আমদানি শুল্ক কমিয়ে দিয়েছি। এক্ষেত্রে আমরা পরিবেশ দূষণ কীভাবে রোধ করব?

তামাক করের ‘গলদ’ কোথায়? প্রশ্ন সাবের হোসেনের

 সংসদ প্রতিবেদক 
১৫ জুন ২০২২, ১২:৪৮ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
তামাক করের ‘গলদ’ কোথায়? প্রশ্ন সাবের হোসেনের
সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী। ফাইল ফটো

বছর বছর সিগারেটের ওপর কর বাড়িয়ে তামাক নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য যে পূরণ হচ্ছে না, তাতে কেবল তামাক কোম্পানির মুনাফাই যে বাড়ছে, সে কথা জাতীয় সংসদে তুলে ধরলেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী। 

মঙ্গলবার সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। 

সাবের হোসেন হোসেন চৌধুরী আরও বলেন, বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করার যে লক্ষ্য সরকার নিয়েছে, এভাবে তা পূরণ হওয়ার নয়। প্রধানমন্ত্রী ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু আমরা যে হারে চলছি, তাতে ২০৮০ সালেও তামাকমুক্ত হব না। তাহলে রোডম্যাপটা কোথায়? প্রধানমন্ত্রী যে ঘোষণা দিলেন, সেটা বাস্তবায়নে আমরা কী করলাম?
তামাক নীতির গলদটা কোথায়? 

সে বিষয়টি তুলে ধরে সাবের বলেন, আমরা প্রতিবছর সিগারেটের মূল্য বাড়িয়ে তার ওপর করারোপ করি। এতে তারা উৎপাদন খরচ না বাড়িয়ে বেশি টাকা লাভ করছে। এতে সরকারের তিন হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে। আমরাতো তামাক কোম্পানির মুনাফা বাড়াতে সংসদে আসিনি।
তিনি বলেন, আমাদের সমস্যা হচ্ছে, এই কথাগুলো আমরা ডিফেন্ড করতে পারি না। আমাদের যে ট্যাকসেশন পলিসি, ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো কোম্পানির পরিচালকমণ্ডলীতে কারা? সরকারের শেয়ার এখানে ৮ শতাংশ। কিন্তু পরিচালক ৫০ শতাংশ। ১১ পরিচালকের পাঁচজনই সরকারের কর্মকর্তা। আমি বলছি না তাদের কারণে এটা হচ্ছে না। কিন্তু কেন হচ্ছে না?

সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, আমরাতো সরকারি দলের। আমি নৌকার টিকিট নিয়ে নির্বাচিত হয়েছি। সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্তের পাশে আমি আছি। সেটা আমি সমর্থন করছি। কিন্তু এ ধরনের পরিস্থিতি যখন আসে তখন আমাদের চুজ করতে হয়।

তিনি আরও বলেন, আমাদের সংবিধানে জনস্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা আছে। এটা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। আদালতের রায় বলেছে, তামাক আমাদের বেঁচে থাকার অধিকারের সাথে সাংঘর্ষিক। কিন্তু এরপরও দেখছি জাপানি বিনিয়োগ এসেছে। বিনিয়োগ বাড়ছে।

সার্বিক পরিস্থিতিতে হতাশা প্রকাশ করে সাবের হোসেন বলেন, তামাক নিয়ে অনেকবার কথা বলে হয়ত আমি বোঝাতে পারছি না। কিংবা যাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই তারা বুঝছেন না। সপ্তম ও অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় আমরা তামাক নিয়ন্ত্রণের কথা বলেছি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান হচ্ছে, প্রতি বছর বাংলাদেশে এক লাখ ৬০ হাজার মানুষ অকাল মৃত্যুবরণ করে এই তামাকের জন্য।

তিনি বলেন, কোভিডে আমরা সফল হয়েছি, সরকারের পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে দুই বছরে মৃত্যুর সংখ্যা ৩০ হাজারের কমে রাখতে সক্ষম হয়েছি। কিন্তু এক বছরে তামাকে মারা যাচ্ছে এক লাখ ৬০ হাজার মানুষ। পরিকল্পনা কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রতি বছর এ জন্য ক্ষতি ৩০ হাজার কোটি টাকা। অথচ তামাকের কর থেকে আমরা পাচ্ছি ২২ হাজার কোটি টাকা। আমি এখানে জীবনের মূল্যের বিষয়টি ধরলাম না!

সাবের হোসেন বলেন, বাজেটে অনেক ইতিবাচক দিক রয়েছে, তবে এই বাজেটে বায়ু দূষণের বিষয়টির স্থান পাওয়া উচিত ছিল। বায়ু দূষণের কারণে বছরে দুই লাখের বেশি মানুষ অকাল মৃত্যুবরণ করছে। বিষয়টি নিয়ে অর্থমন্ত্রী তার সমাপনী ভাষণে কথা বললে আমরা খুশি হব।

তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশকে প্লাস্টিক ও পলিথিন মুক্ত দেখতে চাই। কিন্তু আমরা পলিথিন ও প্লাস্টিকে আমদানি শুল্ক কমিয়ে দিয়েছি। এক্ষেত্রে আমরা পরিবেশ দূষণ কীভাবে রোধ করব?

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন