সড়ক পরিবহন আইনের খসড়া অনুমোদন, সর্বোচ্চ ৫ বছরের দণ্ড

  যুগান্তর ডেস্ক    ০৬ আগস্ট ২০১৮, ১৩:৫৭ | অনলাইন সংস্করণ

সর্বোচ্চ সাজা পাঁচ বছর ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রেখে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।
ফাইল ছবি

সর্বোচ্চ সাজা পাঁচ বছর ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রেখে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।

নতুন আইন অনুযায়ী, বেপরোয়াভাবে বা অবহেলা করে গাড়ি চালানোর কারণে কেউ গুরুতর আহত বা নিহত হলে দণ্ডবিধির ৩০৪ (খ) ধারায় মামলা দায়ের হবে।

এই ধারায় সাজা সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড এবং সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা।

তবে গাড়ি চালানোর কারণে কারো নিহত হওয়ার ঘটনা তদন্তে হত্যা বলে প্রমাণিত হলে ফৌজদারি আইনে মৃত্যুদণ্ডের বিধান প্রয়োগ হবে।

এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, বেপরোয়া ও অবহেলা করে গাড়ি চালানোয় কেউ গুরুতর আহত বা কারো মৃত্যু হলো সে জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর সাজা হবে। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, যদি তদন্তে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায় তাহলে দণ্ডবিধি ৩০২ এবং ক্ষেত্রমতে ৩০৪ এই আইনে প্রযোজ্য হবে। তার মানে, কোনো একটা দুর্ঘটনা হলো। কিন্তু দেখা গেল, তা শুধু সড়ক দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেয়া যাবে না, এখানে চালক ইচ্ছে করলে দুর্ঘটনা এড়াতে পারত এবং তিনি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তখন দণ্ডবিধির ৩০২ অনুযায়ী বিচার হবে

এদিকে এক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, মোটরযান দুর্ঘটনায় আহত বা প্রাণহানি হলে পেনাল কোড অনুযায়ী অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। তবে শর্ত থাকে যে, পেনাল কোডে যা কিছু থাকুক না কেন অবহেলাজনিত কারণে গুরুতরভাবে আহত বা প্রাণহানি হলে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

সড়ক পরিবহন বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম ব্রিফিংয়ে বলেন, তদন্তে দুর্ঘটনা যদি উদ্দেশ্যমূলক হিসেবে প্রমাণিত হলে তা দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় (হত্যা, সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড) যাবে। আর চালকের কারণে প্রাণহানি হয়ে থাকলে ৩০৪ (বি) ধারা অনুযায়ী সাজা দেয়া হবে। তদন্ত কর্মকর্তাই ঠিক করবেন- অপরাধ কোন ধারায় যাবে।

আইনের নানা দিক তুলে ধরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, চালকদের কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণি বা সমমানের পাস হতে হবে। ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া কেউ গাড়ি চালাতে পারবেন না। অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য বয়স হতে হবে ১৮ বছর। পেশাদার হলে বয়স হতে হবে ২১ বছর।

প্রস্তাবিত আইনে চালকের ভুলের জন্য ১২টি পয়েন্ট রাখা হয়েছে। অপরাধের সঙ্গে সঙ্গে এসব পয়েন্ট কাটা যাবে। পয়েন্ট এভাবে শূন্য হয়ে গেলে ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাবে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

তিনি আরও জানান, নতুন আইনে যানবাহনের চালক, হেলপারসহ পরিবহনসংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা নির্ধারণ করা হবে। এটি গেজেট বা প্রজ্ঞাপনে নেই। শ্রম আইন ২০০৬-এর সঙ্গে মিল করে কর্মঘণ্টা সরকার ঠিক করবে।

আইনের নতুন ধারায় মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন সংখ্যা, সীমানা নির্ধারণ, মোটরযানের ইকোনমিক লাইফ, গতিসীমা, শব্দমাত্রা নিয়ন্ত্রণের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন আইনে দুর্ঘটনার কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আর্থিক সহায়তা তহবিল থাকবে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সেটা পরিচালনার জন্য একটি ট্রাস্টি বোর্ড থাকবে। সরকার, চালক সমিতি, মালিক সমিতি মিলে এই বোর্ড গঠন করা হবে।

তিনি জানান, প্রস্তাবিত আইনে বেশকিছু নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে আছে: গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যাবে না, সিটবেল্ট বাঁধতে হবে, নারীদের আসনে অন্য কেউ বসতে পারবে না।

উল্লেখ্য, বিদ্যমান ১৯৮৩ সালের মোটরযান অধ্যাদেশ সংশোধন, পরিমার্জন ও সংশোধন করে ২০১৩ সালে সরকার নতুন আইন প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেয়।

গত বছরের ২৭ মার্চ নতুন আইনের খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। আইন মন্ত্রণালয় থেকে সড়ক পরিবহনে পাঠানো আইনটির খসড়া আজ চূড়ান্ত অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা। এখন আইনটি পাস করতে সংসদে তোলা হবে।

ঘটনাপ্রবাহ : বিমানবন্দর সড়কে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter