বিমানের অনলাইন টিকিট বিক্রি বন্ধ, সেবাদান প্রতিষ্ঠানের যে বক্তব্য
jugantor
বিমানের অনলাইন টিকিট বিক্রি বন্ধ, সেবাদান প্রতিষ্ঠানের যে বক্তব্য

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১১ আগস্ট ২০২১, ২৩:০৪:২৬  |  অনলাইন সংস্করণ

রহস্যজনক কারণে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভারের বিল পরিশোধ না করায় শেষ পর্যন্ত বন্ধ হয়ে গেল বিমানের অনলাইন টিকিট বিক্রির প্ল্যাটফর্ম ‘বিমান ড্যাস এয়ারলাইন্স ডটকম’। এই অবস্থায় দেশে বিদেশে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বিমান যাত্রীরা।

করোনাভাইরাস মহামারির এই সময়ে যখন দেশ-বিদেশের বিমান যাত্রীদের টিকিটিংয়ের একমাত্র ভরসাই অনলাইন ফ্ল্যাটফর্ম, সেখানে বিমানের এই জনপ্রিয় ওয়েবসাইটটি বন্ধ হওয়ায় তোপের মুখে পড়েছে বিমানের শীর্ষ ম্যানেজমেন্ট।

খোদ বিমানের অনেক শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেছেন, বিল না পরিশোধ করে এভাবে অনলাইন ফ্ল্যাটফর্ম বন্ধ করানোর নেপথ্যে বড় ধরনের দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। দেশ-বিদেশের লাখ লাখ বিমান যাত্রীকে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর হাতে তুলে দেওয়ার জন্য এটি অন্যরকম সাবোটাজও হতে পারে। তারা অবিলম্বে এই বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি প্রদানের দাবি জানান। এর সঙ্গে বিমানের কিংবা দেশীয় প্রতিষ্ঠান ট্রাভেল শপের কেউ জড়িত আছেন কি না, সেটা দ্রুত খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

কেন ওয়েব সার্ভারের বিল পরিশোধ করা হয়নি কিংবা কেন বিল প্রসঙ্গে অ্যামাজন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি- তা খুঁজে বের করারও দাবি জানান।

জানা গেছে, বারবার চিঠি দিয়ে বিল পরিশোধ করার জন্য বলা হলেও বিমানের ফাইনান্স ও মার্কেটিং বিভাগ বিল পরিশোধে কোনো ধরনের উদ্যোগ নেয়নি। বুধবার সকালেও ট্রাভেল শপের পক্ষ থেকে সর্বশেষ চিঠি দিয়ে বিমানকে বলা হয়েছে, বিল পরিশোধ করার সঙ্গে সঙ্গে সার্ভারটি পুনরায় চালু হয়ে যাবে। কিন্তু বিমান ম্যানেজমেন্ট এই বিষয়েও কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ট্রাভেল শপের অফিস থেকে বলা হয়েছে, উদ্যোগ নেওয়া দূরের কথা বিমানের পক্ষ থেকে মেইলের উত্তর পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। কেউ টেলিফোন করেও এ নিয়ে কোনো কিছু জানতে চাননি।

শফিউদ্দিন নামে ট্রাভেল শপের একজন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, বিমান যদি কিছু টাকা বিল দিয়ে বাকি টাকা পরিশোধের জন্য সময় চাইতো সেক্ষেত্রেও হয়তো সার্ভারটি চালু রাখা সম্ভব হতো। তিনি বলেন, অ্যামাজন একটি বিদেশি কোম্পানি। এ ধরনের কোম্পানিগুলোতে বিল বকেয়া থাকলে তারা সার্ভার নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেয় এটাই স্বাভাবিক। তবে যখন বিল পরিশোধ করা হবে তখন আবার সার্ভারটি চালু করা যাবে।

এদিকে সার্ভার বন্ধের পরই দেশীয় সার্ভিস প্রোভাইডার ট্রাভেল শপ লিমিটেড গণমাধ্যমে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেছে। এতে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের দেশীয় সার্ভিস প্রোভাইডার ট্রাভেল শপ লিমিটেড বিমানকে সেবা প্রদান বন্ধ করেনি। বিমানের বকেয়া বিল পরিশোধ না করায় অ্যামাজন ওয়েব সার্ভার তাদের সার্ভার কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত করেছে। গত জানুয়ারি ২০২০ থেকে বিমানের ওয়েব সার্ভার যা অ্যামাজনের আওতাধীন তার বিল পরিশোধের জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স তাগাদা প্রদান করে আসে ট্রাভেল শপ। অ্যামাজনের পক্ষ থেকে ১০ আগস্ট ২০২১ সময়সীমা দেওয়া হয় বকেয়া বিল পরিশোধের জন্য। কিন্তু সময়মতো বিল পরিশোধ না করায় সার্ভার কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত করে ৩১ আগস্ট ২০২১ পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়। এর জন্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার ট্রাভেল শপ লিমিটেড। কারণ এই সিস্টেম নির্মাণ, সচল রাখা ও সহায়তা সেবার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটির কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় পতাকবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে অনলাইন বিক্রয়ে সহযোগিতা করার লক্ষ্যে দেশীয় সার্ভিস প্রোভাইডার ট্রাভেল শপ লিমিটেড বিনামূল্যে বিমানের মোবাইল অ্যাপস নির্মাণ ও বাজারজাত করে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী তা উদ্বোধন ও চালু করেন।পরবর্তীতে জ্যাপওয়েজকে প্রতিস্থাপন করে ট্রাভেল শপ লিমিটেড অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু করে এবং এই করোনাকালীন পরিস্থিতিতেও দেশীয় সার্ভিস প্রোফাইডার ট্রাভেল শপ লিমিটেডের প্রতিস্থাপিত বিমান অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১২৫ কোটি টাকার টিকিট সফলভাবে বিক্রয় হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বিমানের অনলাইন টিকিট বিক্রি বন্ধ, সেবাদান প্রতিষ্ঠানের যে বক্তব্য

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১১ আগস্ট ২০২১, ১১:০৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

রহস্যজনক কারণে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভারের বিল পরিশোধ না করায় শেষ পর্যন্ত বন্ধ হয়ে গেল বিমানের অনলাইন টিকিট বিক্রির প্ল্যাটফর্ম ‘বিমান ড্যাস এয়ারলাইন্স ডটকম’। এই অবস্থায় দেশে বিদেশে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বিমান যাত্রীরা। 

করোনাভাইরাস মহামারির এই সময়ে যখন দেশ-বিদেশের বিমান যাত্রীদের টিকিটিংয়ের একমাত্র ভরসাই অনলাইন ফ্ল্যাটফর্ম, সেখানে বিমানের এই জনপ্রিয় ওয়েবসাইটটি বন্ধ হওয়ায় তোপের মুখে পড়েছে বিমানের শীর্ষ ম্যানেজমেন্ট। 

খোদ বিমানের অনেক শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেছেন, বিল না পরিশোধ করে এভাবে অনলাইন ফ্ল্যাটফর্ম বন্ধ করানোর নেপথ্যে বড় ধরনের দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। দেশ-বিদেশের লাখ লাখ বিমান যাত্রীকে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর হাতে তুলে দেওয়ার জন্য এটি অন্যরকম সাবোটাজও হতে পারে। তারা অবিলম্বে এই বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি প্রদানের দাবি জানান। এর সঙ্গে বিমানের কিংবা দেশীয় প্রতিষ্ঠান ট্রাভেল শপের কেউ জড়িত আছেন কি না, সেটা দ্রুত খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। 

কেন ওয়েব সার্ভারের বিল পরিশোধ করা হয়নি কিংবা কেন বিল প্রসঙ্গে অ্যামাজন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি- তা খুঁজে বের করারও দাবি জানান।

জানা গেছে, বারবার চিঠি দিয়ে বিল পরিশোধ করার জন্য বলা হলেও বিমানের ফাইনান্স ও মার্কেটিং বিভাগ বিল পরিশোধে কোনো ধরনের উদ্যোগ নেয়নি। বুধবার সকালেও ট্রাভেল শপের পক্ষ থেকে সর্বশেষ চিঠি দিয়ে বিমানকে বলা হয়েছে, বিল পরিশোধ করার সঙ্গে সঙ্গে সার্ভারটি পুনরায় চালু হয়ে যাবে। কিন্তু বিমান ম্যানেজমেন্ট এই বিষয়েও কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ট্রাভেল শপের অফিস থেকে বলা হয়েছে, উদ্যোগ নেওয়া দূরের কথা বিমানের পক্ষ থেকে মেইলের উত্তর পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। কেউ টেলিফোন করেও এ নিয়ে কোনো কিছু জানতে চাননি।

শফিউদ্দিন নামে ট্রাভেল শপের একজন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, বিমান যদি কিছু টাকা বিল দিয়ে বাকি টাকা পরিশোধের জন্য সময় চাইতো সেক্ষেত্রেও হয়তো সার্ভারটি চালু রাখা সম্ভব হতো। তিনি বলেন, অ্যামাজন একটি বিদেশি কোম্পানি। এ ধরনের কোম্পানিগুলোতে বিল বকেয়া থাকলে তারা সার্ভার নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেয় এটাই স্বাভাবিক। তবে যখন বিল পরিশোধ করা হবে তখন আবার সার্ভারটি চালু করা যাবে।

এদিকে সার্ভার বন্ধের পরই দেশীয় সার্ভিস প্রোভাইডার ট্রাভেল শপ লিমিটেড গণমাধ্যমে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেছে। এতে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের দেশীয় সার্ভিস প্রোভাইডার ট্রাভেল শপ লিমিটেড বিমানকে সেবা প্রদান বন্ধ করেনি। বিমানের বকেয়া বিল পরিশোধ না করায় অ্যামাজন ওয়েব সার্ভার তাদের সার্ভার কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত করেছে। গত জানুয়ারি ২০২০ থেকে বিমানের ওয়েব সার্ভার যা অ্যামাজনের আওতাধীন তার বিল পরিশোধের জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স তাগাদা প্রদান করে আসে ট্রাভেল শপ। অ্যামাজনের পক্ষ থেকে ১০ আগস্ট ২০২১ সময়সীমা দেওয়া হয় বকেয়া বিল পরিশোধের জন্য। কিন্তু সময়মতো বিল পরিশোধ না করায় সার্ভার কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত করে ৩১ আগস্ট ২০২১ পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়। এর জন্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার ট্রাভেল শপ লিমিটেড। কারণ এই সিস্টেম নির্মাণ, সচল রাখা ও সহায়তা সেবার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটির কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় পতাকবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে অনলাইন বিক্রয়ে সহযোগিতা করার লক্ষ্যে দেশীয় সার্ভিস প্রোভাইডার ট্রাভেল শপ লিমিটেড বিনামূল্যে বিমানের মোবাইল অ্যাপস নির্মাণ ও বাজারজাত করে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী তা উদ্বোধন ও চালু করেন।পরবর্তীতে জ্যাপওয়েজকে প্রতিস্থাপন করে ট্রাভেল শপ লিমিটেড অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু করে এবং এই করোনাকালীন পরিস্থিতিতেও দেশীয় সার্ভিস প্রোফাইডার ট্রাভেল শপ লিমিটেডের প্রতিস্থাপিত বিমান অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১২৫ কোটি টাকার টিকিট সফলভাবে বিক্রয় হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন