Logo
Logo
×
   

Advertisement

অন্যান্য

আমির হামজার বিষয়ে খতিয়ে দেখছে সরকার

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২২, ০৮:৫৬ পিএম

আমির হামজার বিষয়ে খতিয়ে দেখছে সরকার

আমির হামজা। ফাইল ছবি

Advertisement

রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ এর জন্য আমির হামজার নাম ঘোষণার পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সর্বত্র বির্তক শুরু হয়েছে কয়েক দিন ধরে। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, যাকে চিনিই না- তাকে কীভাবে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হলো? এমন পরিস্থিতিতে বিষয়টি পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

জাতীয় পুরস্কার সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির আহ্বায়ক ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক একটি গণমাধ্যমকে বলেন, তারা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখবেন। পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সুযোগও রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

গত ১৫ মার্চ সরকার এবারের স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত ১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম ঘোষণা করে। তাতে সাহিত্যে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হয় প্রয়াত আমির হামজাকে।  অচেনা এই ব্যক্তিকে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননায় ভূষিত করায় অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেন। বিতর্কের পর আমির হামজার লেখা ‘বাঘের থাবা’, ‘পৃথিবীর মানচিত্রে একটি মুজিব তুমি’ ও ‘একুশের পাঁচালি’ নামে তিনটি বইয়ের সন্ধ্যান পাওয়া গেছে।

মরণোত্তর পদকপ্রাপ্ত সাহিত্যিক আমির হামজার বাড়ি মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার বরিশাট গ্রামে। ওই গ্রামসহ সারাজেলার মানুষের কাছে তিনি পালাগানের শিল্পী কিংবা কবি হিসেবে পরিচিত। তবে বরিশাট গ্রামে ১৯৭৮ সালে শাহাদত ফকির নামে একজন কৃষক এবং শিল্পী নামে আড়াই বছরের একটি শিশু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি। সর্বশেষ ২০০৭ সালেও স্থানীয় একটি গ্রাম্য মারামারির ঘটনায় তিনি আসামি ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

বরিশাট গ্রামের নিহত শাহাদত হোসেন ফকিরের ছেলে দিয়ানত ফকির বলেন, গরুতে ক্ষেতের ফসল খাওয়ার ঘটনা নিয়ে আমির হামজার পরিবারের সঙ্গে আমাদের বিরোধ হয়। ওই বিরোধের জের ধরে আমির হামজা এবং তার ভাই রব্বানী সরদারের নেতৃত্বে আমার বাবার উপর হামলা চালানো হয়। তারা নির্মমভাবে আমার বাবাকে কুপিয়ে খুন করে। একই সময়ে সাবান মোল্যার আড়াই বছরের শিশু শিল্পীকে সড়কির আঘাতে খুন করা হয়। এ ঘটনায় তারা দুই ভাইসহ মোট ৬ জনের কারাদণ্ড হয়। আট বছর জেল খাটার পর ৯১ সালের দিকে বিএনপি সরকার গঠন করলে মাগুরার মন্ত্রী মজিদুল হকের সহায়তায় বেরিয়ে আসেন তারা। ‘রাজনৈতিক বিবেচনায়’ সাধারণ ক্ষমা পান এই আমির হামজাও।

আমির হামজার ছেলে আসাদুজ্জামান সরকারি কর্মকর্তা। খুলনা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে আছেন তিনি। এ বিষয়ে আসাদুজ্জামানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি যুগান্তরকে বলেন, বাবা যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ছিলেন ঘটনাটি সত্য। তবে জীবদ্দশায় বাবাকে ভালো মানুষ হিসেবে জেনেছি। তিনি উদার মানুষ ছিলেন। মানুষকে ভালোবাসতেন।

এ পরিপ্রেক্ষিতে মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী মোজাম্মেল ওই গণমাধ্যমটিকে বলেন, আমরা পত্রপত্রিকায় দেখেছি- লক্ষ্য করেছি বিভিন্ন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিদের মতামত। আমি খতিয়ে দেখি সেগুলো সঠিক অভিযোগ কি না।মার্ডারের সঙ্গে সম্পৃক্ত কি না? তার সাহিত্যকর্ম কী আছে, সেগুলো ভালো করে খতিয়ে দেখব।

এর আগে ২০২০ সালে সাহিত্যে এসএম রইজ উদ্দিন আহম্মদের স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্তি নিয়েও বিতর্ক দেখা দিয়েছিল। অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা রইজ উদ্দিনের নাম ঘোষণা বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছিল সাহিত্যিকদের মধ্যে।

রইজ উদ্দিনের মতো আমির হামজার বিষয়টিও পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে কি না- এ বিষয়ে মোজাম্মেল হক বলেন, হ্যাঁ- আছে।

Advertisement

আমির হামজা সাহিত্য স্বাধীনতা পুরস্কার খতিয়ে দেখছে সরকার মন্ত্রী মোজাম্মেল হক

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম