সেই তুষারকেই জেলা কমিটির আহ্বায়ক করেছে এনসিপি
Advertisement
মাদারীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মাদারীপুর জেলার আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেছে দলটি। এতে আহ্বায়ক করা হয়েছে দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়ি বিতর্কে জড়িত মো. মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া ওরফে তুষার ভূঁইয়াকে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ কমিটির কথা জানানো হয়। এ কমিটির মেয়াদ ছয় মাস।
কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে আতিকুর রহমান হাওলাদারকে। এ ছাড়া যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে মো. মনির হোসেন, রাজু আহমেদ, তুষার সব্যসাচী, বিপ্লব কাজী, হাসিবুল হাসান ও রেজাউল করিমকে।
কমিটিতে সদস্যসচিব করা হয়েছে ইমামজ্জম হোসেন রোমানকে। সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মো. ফরহাদ হোসেন। যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন মহসিন ফকির, লায়ন আলমগীর হোসেন, শেখ মাসুদ, রুবেল মাহমুদ, মো. আবেদ আব্দুল্লাহ ও মো. হেলাল উদ্দিন।
চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ছয় মাসের জন্য মাদারীপুর জেলা কমিটি অনুমোদন করা হল। ফলে তুষার ভূঁইয়ার নেতৃত্বেই আগামী ছয় মাস মাদারীপুরে দলীয় কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
সম্প্রতি ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চকে ঘিরে গাড়ি নিয়ে বিতর্কে জড়ান এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। আওয়ামী লীগ নেতার মালিকানাধীন প্রাডো গাড়িতে পাটওয়ারী ‘লংড্রাইভ’ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান। ৬ সেপ্টেম্বর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ অভিযোগ করেন রাশেদ খান।
রাশেদ খান বলেন, মন্ত্রীপাড়ায় নাহিদ ইসলামের বাড়িতে আলোচনার সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সব সময় বলত আওয়ামী লীগের বাড়িঘর, ধনসম্পদ দখল করতে হবে। আজকে তার কিছুটা নমুনা পাওয়া গেল! আওয়ামী লীগ নেতার প্রাডো গাড়ি করে লংড্রাইভ করেছে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। আওয়ামী লীগ নেতাকে নিরাপত্তা দেওয়ার কারণে গাড়িটি উপহার দিয়েছে, নাকি আওয়ামী লীগের সম্পদ দখলের খায়েশ থেকে গাড়িটিও দখল করেছে, তা খতিয়ে দেখা দরকার।
প্রধানমন্ত্রীর এ রাজনৈতিক সহকারী বলেন, লংমার্চের পিকনিক থেকে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ও গণহত্যার বিচারের দাবিতে কেন কোনো বক্তব্য ছিল না- তা বোঝার চেষ্টা করুন। কারণ, এই লংমার্চের উদ্দেশ্যই ছিল শেখ হাসিনাকে ডিসেম্বরে ফিরিয়ে আনার প্রেক্ষাপট সৃষ্টি করা। আর সেই লক্ষ্যে উসকানিমূলক স্লোগান ও বহরে লাঠিসোঁটা নিয়ে গিয়েছে। কিন্তু বিএনপি বা অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা জামায়াতের পাতানো ফাঁদে পা দেয়নি। দেখা যাক, এ বিষয়ে এনসিপি দলীয় কোনোব্যবস্থা নেয় কিনা!
অন্যদিকে আমজনতা পার্টির তারেক রহমানও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ব্যবহৃত গাড়িটি মনিরুল হকের বলে দাবি করেন। একটি ভিডিওতে গাড়িটির মালিকানার প্রমাণ হাজির করার কথাও জানান তিনি।
গাড়িটির মালিক মনিরুল হক ভূঁইয়া ওরফে তুষার ভূঁইয়া ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মাদারীপুর সদর থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন বলে জানা গেছে। এরপর তিনি আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হন। বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে দলটির পক্ষে বক্তব্যও দিয়েছেন তিনি।
২০২২ সালে বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে মাদারীপুরে আওয়ামী লীগের মিছিলের সামনেও ছিলেন তিনি। সেসময় পত্রিকার খবরে বলা হয়েছিল, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি আওয়ামী লীগের ওই মিছিলে উপস্থিত ছিলেন। তার পদ না থাকলেও তিনি পুরোপুরি আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে ছিলেন।
তবে তুষার ভূঁইয়ার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে থাকা পোস্ট থেকে দেখা যায়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া গণআন্দোলনের সময় তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে পোস্ট করেছিলেন।
তুষার ভূঁইয়ার বাবার নাম বাচ্চু ভূঁইয়া। তিনি ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচন। এরশাদের পতনের পর তিনি বিএনপিতে যোগদান করেন। আমৃত্যু তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার বড় ছেলে তুষার ভূঁইয়া। তিনিও বাবার সঙ্গে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যোগদান করেন। ২০১৯ সালে মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থনে ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন।
এছাড়া মাদারীপুরের স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তুষার ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে। এ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ঝাড়ুমিছিলসহ বিভিন্নভাবে আন্দোলন করেছেন ব্যবসায়ীরা।
