Logo
Logo
×
   

Advertisement

দ্বিতীয় সংস্করণ

সাভার এনাম মেডিকেল হাসপাতাল

লাশ আটকে রেখে বিল ৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকা

ভিটেবাড়ি বিক্রি করে পথে বসেছে দরিদ্র পরিবার * ‘মগের মুল্লুক নাকি পুরো টাকা পরিশোধ করে লাশ নিয়ে যান’

Advertisement

Icon

যুগান্তর রিপোর্ট, সাভার

প্রকাশ: ০৪ জানুয়ারি ২০১৮, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এক নারীকে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় বৃহস্পতিবার। অ্যাম্বুলেন্স ঠিক করার পর স্থানীয় এক দালাল চক্রের হাতে পড়ে গুরুতর আহত ওই নারীকে নিয়ে আসা হয় এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সোমবার রাতে স্বজনদের জানানো হয় আহত ওই নারী মারা গেছেন। এরপর বিলের ৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকা বকেয়া থাকায় লাশ মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত আটক রাখে এনাম মেডিকেল কর্তৃপক্ষ। নিহত ওই নারী গ্রাম পুলিশ সদস্য নেপাল চন্দ্র দাসের স্ত্রী মিনুপাল। মঙ্গলবার বিকালে জানাজানি হলে সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা পরিশোধ করে লাশ নিয়ে যায় স্বজনরা। লাশ টঙ্গাইলের নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর পর বুধবার সকালে শ্মশানে পোড়ানো হয়।

স্বজনরা রোগীকে বাঁচানোর আশায় ঘরবাড়ি বিক্রি ও ধার করে আড়াই লাখ টাকা চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরিশোধ করে। পরে লাশ নেয়ার সময় দেয়া হয় আরও ২০ হাজার টাকা। চার দিন আইসিইউতে রাখার খরচ ও অপারেশনের জন্য এ টাকা নেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সোমবার মৃত্যুর সংবাদ জানানো হলেও স্বজনরা জানায়- তাদের রোগী চার দিন আগেই মারা গেছে। কিন্তু তাদের না জানিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। স্বজনরা জানায়, ২০ হাজার টাকা দিয়ে লাশ নিতে গেলে এনাম মেডিকেলের পরিচালক তাদের বলেন, ‘মগের মুল্লুক পাইসো নাকি’। পুরো বিল পরিশোধ করে লাশ নিয়ে যান। এরপর টাকার জন্য দু’দিন লাশ আটকে রাখা হয়।

এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মো. সাইফুল বুধবার যুগান্তরকে জানান, রোগী সোমবার মারা যায়। কিন্তু বিল পরিশোধ করতে না পারায় মঙ্গলবার লাশ হস্তান্তর করা হয়। তিনি বলেন, বিল ৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকা হলেও তারা ওষুধের জন্য আড়াই লাখ টাকা পরিশোধ করেছে। গরিব বলে তাদের ২ লাখ টাকা মওকুফ করে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। মগের মুল্লুক পাইসো নাকি- এ ধরনের কথা বলেছেন কিনা জানতে চাইলে সাইফুল বলেন, মৃতের স্বজনদের সঙ্গে আমার দেখাই হয়নি।

বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইলের গোপালপুরে অটোরিকশা ও ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে স্থানীয় গ্রাম পুলিশ নেপাল চন্দ্র দাসের স্ত্রী মিনুপাল গুরুতর আহত হন। তাকে প্রথমে টাঙ্গইল সদর হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।নেপালের মেয়ে জামাই সেলুন কর্মচারী জানান, অ্যাম্বুলেন্স ঠিক করার সময় স্থানীয় দালাল দীপু সাহা অ্যাম্বুলেন্সকে সাভার এনাম মেডিকেলে নিয়ে যেতে বলেন। তিনি রোগীর স্বজনদের জানান, এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে রোগী বেঁচে যাবে।

নেপালের ছেলে সজিব যুগান্তরকে জানান, এনাম মেডিকেলে নেয়ার পর চিকিৎসার জন্য ভিটেবাড়ি বিক্রির আড়াই লাখ টাকা পরিশোধের পর তাদের কাছে মাত্র ২০ হাজার টাকা ছিল। আমি হাসপাতালের পরিচালক সাইফুলের হাতে-পায়ে পড়ে বলেছিলাম, এ ২০ হাজার টাকার পর আমাদের লাশ নেয়ারও খরচ থাকবে না। কিন্তু তারা টাকার জন্য লাশ দু’দিন আটক রাখল। তিনি বলেন, তাদের প্রতি এ অমানবিক আচরণের বিষয় স্থানীয় সাংবাদিকরা জানতে পারেন। পরে তাদের হস্তক্ষেপে লাশ দেয়া হয়। ভিটে বিক্রি করে তারা এখন পথের ফকির হয়েছেন।

সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আমজাদুল হক বুধবার যুগান্তরকে বলেন, এ ধরনের ঘটনা আমরা শুনেছি। তবে মুমূর্ষু রোগীকে অপারেশন ও লাশ আটক রাখার বিষয়টি অবশ্যই তদন্ত করে দেখা হবে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম