jugantor
কলাপাড়ায় খাল দখল করে মাছ চাষ আ’লীগ ক্যাডারদের
৪ কিমি. দীর্ঘ এ খালের দু’পাশের সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর জমির কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে

  অমল মুখার্জী, কলাপাড়া থেকে  

৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ০০:০০:০০  | 

কলাপাড়া উপজেলার সলিমপুর ও ইসলামপুর গ্রামের মধ্যদিয়ে বয়ে যাওয়া সরকারি হাজীর খালে বেড়া দিয়ে মাছ চাষ করছে সরকারি দলের ক্যাডারা। নীলগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুল আউয়াল হাওলাদারের নেতৃত্বে সরকারি খাল দখল করে মাছ চাষ করা হচ্ছে। তিন মাস ধরে এ কাজটি চললেও স্থানীয় প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এ দুটি গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ নিরুপায় হয়ে খালটি অবৈধ দখলদারের হাত থেকে উদ্ধার করে সবার জন্য উন্মুক্ত করার আবেদন জানিয়েছেন জেলা প্রশাসকের কাছে। পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ও কলাপাড়া ইউএনওর কাছে করা আবেদন থেকে জানা গেছে, নীলগঞ্জ ইউনিয়নের নবীপুর মৌজার এসএ ১৬৬০নং দাগের হাজীর খালটি একটি সরকারি খাল। কিন্তু জুলাই মাস থেকে নীলগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুল আউয়াল হাওলাদার, তার অন্যতম সহযোগী দেলোয়ার মৃধা, জামাল গাজী, নিয়াজ আকন, হানিফ হাওলাদার, রুহুল আমীন গাজী, আনোয়ার হোসেন, আল আমিন ও রুহুল আমিন জোরপূর্বক দখল করে মাছ চাষ করছে। দখলদাররা সবাই ইউনিয়ন যুবলীগ, শ্রমিক লীগ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত। এ খালের দু’পাড়ে অন্তত সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর কৃষি জমি রয়েছে। খাল সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা খালের মিঠা পানি ব্যবহার করে কৃষি কাজসহ সবজি চাষ করে থাকে। খাল দখল হয়ে যাওয়ায় খালের পানি পর্যন্ত এলাকার বাসিন্দারা ব্যবহার করতে পারছে না। তাছাড়া খালের পাশের দরিদ্র পরিবারগুলো এক সময় এই খালে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করত। সে পথও এখন বন্ধ হয়ে গেছে। দখলদারদের নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা মাছ ধরতে পারছে না। এলাকার লোকজন জানায়, খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ার পর এলাকার বাসিন্দাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১১ সালে উপজেলা প্রশাসন খালটি ৪০ দিনের কর্মসূচির মাধ্যমে পুনর্খনন করে দেয়। অথচ সরকারি খাল জনগণের ব্যবহারের পরিবর্তে সরকারি দলের লোকজন দখল করে মাছ চাষ করছে। এ কারণে ওই এলাকার কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে। সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, খালের উত্তর ও দক্ষিণ দু’দিকেই বাঁশ আর কচা দিয়ে আড়াআড়ি করে বেড়া দিয়ে, তার ওপর ঘন করে জাল দিয়ে আটকিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। ৪ কিমি. দীর্ঘ খালটি দখল করে তাতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের চাষ করা হয়েছে। এলাকার কয়েকজন বিষয়টির প্রতিবাদ করলে তাদের মারধর করা হয়। এলাকার লোকজন আরও জানায়, খালের দক্ষিণ মাথার স্লুইজ গেটের নিচের সিমেন্টের ব্লকটি দখলদাররা পিটিয়ে ভেঙে ফেলেছে। ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, খাল দখল করে মাছ চাষের প্রতিবাদ করায় হারুন নামে আমার এক ভাগিনাকে কলাপাড়া ফেরিঘাটে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। সলিমপুর গ্রামের মাওলানা শহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা কৃষিকাজে খালের পানি ব্যবহার করতে পারি না। খালের কাছে গেলে হাত-পা ভেঙে দেয়ার হুমকি দেয় দখলদাররা। আমাদের চলতে হলে খাল ছাড়া উপায় নেই। তাই জনগণের খাল জনগণকে ফিরিয়ে দেয়া হোক। তাসলিমা বেগম নামের একজন বললেন, ‘মাছ-পোনা ধইর‌্যা খামু তাও পারি না। আমরা জামু কই।’ নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের ইউপি সদস্য মাসুদ খান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন আমাদের কাছে বললেও আমরা কিছু করতে পারি না। সরকারদলীয় লোকজন জোর করে খাল দখল করে রেখেছে। সাধারণ মানুষ ওদের ভয়ে কিছু বলতে সাহস পায় না। নীলগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি খাল দখলদার আবদুল আউয়াল হাওলাদার বলেন, আমি একাই জড়িত না। আরও কয়েকজন এর সঙ্গে জড়িত। এতে আসলে জনস্বার্থের কোনো অসুবিধা হয় না। খালের আরেক দখলদার ও নীলগঞ্জ ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি জামাল গাজী বলেন, আমরা ১৮-২০ জনে সম্পূর্ণ খালটিতে বাঁধ দিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করেছি। নীলগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মালেক খান জানান, সরকারি খালটি একটি স্বার্থান্বেষী মহল দখল করে মাছ চাষ করায় কৃষিকাজের চরম ক্ষতি হচ্ছে। কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমি অভিযোগ পেয়েছি। ইতিমধ্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে তদন্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



সাবমিট

কলাপাড়ায় খাল দখল করে মাছ চাষ আ’লীগ ক্যাডারদের

৪ কিমি. দীর্ঘ এ খালের দু’পাশের সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর জমির কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে
 অমল মুখার্জী, কলাপাড়া থেকে 
৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ১২:০০ এএম  | 
কলাপাড়া উপজেলার সলিমপুর ও ইসলামপুর গ্রামের মধ্যদিয়ে বয়ে যাওয়া সরকারি হাজীর খালে বেড়া দিয়ে মাছ চাষ করছে সরকারি দলের ক্যাডারা। নীলগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুল আউয়াল হাওলাদারের নেতৃত্বে সরকারি খাল দখল করে মাছ চাষ করা হচ্ছে। তিন মাস ধরে এ কাজটি চললেও স্থানীয় প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এ দুটি গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ নিরুপায় হয়ে খালটি অবৈধ দখলদারের হাত থেকে উদ্ধার করে সবার জন্য উন্মুক্ত করার আবেদন জানিয়েছেন জেলা প্রশাসকের কাছে। পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ও কলাপাড়া ইউএনওর কাছে করা আবেদন থেকে জানা গেছে, নীলগঞ্জ ইউনিয়নের নবীপুর মৌজার এসএ ১৬৬০নং দাগের হাজীর খালটি একটি সরকারি খাল। কিন্তু জুলাই মাস থেকে নীলগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুল আউয়াল হাওলাদার, তার অন্যতম সহযোগী দেলোয়ার মৃধা, জামাল গাজী, নিয়াজ আকন, হানিফ হাওলাদার, রুহুল আমীন গাজী, আনোয়ার হোসেন, আল আমিন ও রুহুল আমিন জোরপূর্বক দখল করে মাছ চাষ করছে। দখলদাররা সবাই ইউনিয়ন যুবলীগ, শ্রমিক লীগ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত। এ খালের দু’পাড়ে অন্তত সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর কৃষি জমি রয়েছে। খাল সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা খালের মিঠা পানি ব্যবহার করে কৃষি কাজসহ সবজি চাষ করে থাকে। খাল দখল হয়ে যাওয়ায় খালের পানি পর্যন্ত এলাকার বাসিন্দারা ব্যবহার করতে পারছে না। তাছাড়া খালের পাশের দরিদ্র পরিবারগুলো এক সময় এই খালে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করত। সে পথও এখন বন্ধ হয়ে গেছে। দখলদারদের নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা মাছ ধরতে পারছে না। এলাকার লোকজন জানায়, খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ার পর এলাকার বাসিন্দাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১১ সালে উপজেলা প্রশাসন খালটি ৪০ দিনের কর্মসূচির মাধ্যমে পুনর্খনন করে দেয়। অথচ সরকারি খাল জনগণের ব্যবহারের পরিবর্তে সরকারি দলের লোকজন দখল করে মাছ চাষ করছে। এ কারণে ওই এলাকার কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে। সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, খালের উত্তর ও দক্ষিণ দু’দিকেই বাঁশ আর কচা দিয়ে আড়াআড়ি করে বেড়া দিয়ে, তার ওপর ঘন করে জাল দিয়ে আটকিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। ৪ কিমি. দীর্ঘ খালটি দখল করে তাতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের চাষ করা হয়েছে। এলাকার কয়েকজন বিষয়টির প্রতিবাদ করলে তাদের মারধর করা হয়। এলাকার লোকজন আরও জানায়, খালের দক্ষিণ মাথার স্লুইজ গেটের নিচের সিমেন্টের ব্লকটি দখলদাররা পিটিয়ে ভেঙে ফেলেছে। ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, খাল দখল করে মাছ চাষের প্রতিবাদ করায় হারুন নামে আমার এক ভাগিনাকে কলাপাড়া ফেরিঘাটে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। সলিমপুর গ্রামের মাওলানা শহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা কৃষিকাজে খালের পানি ব্যবহার করতে পারি না। খালের কাছে গেলে হাত-পা ভেঙে দেয়ার হুমকি দেয় দখলদাররা। আমাদের চলতে হলে খাল ছাড়া উপায় নেই। তাই জনগণের খাল জনগণকে ফিরিয়ে দেয়া হোক। তাসলিমা বেগম নামের একজন বললেন, ‘মাছ-পোনা ধইর‌্যা খামু তাও পারি না। আমরা জামু কই।’ নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের ইউপি সদস্য মাসুদ খান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন আমাদের কাছে বললেও আমরা কিছু করতে পারি না। সরকারদলীয় লোকজন জোর করে খাল দখল করে রেখেছে। সাধারণ মানুষ ওদের ভয়ে কিছু বলতে সাহস পায় না। নীলগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি খাল দখলদার আবদুল আউয়াল হাওলাদার বলেন, আমি একাই জড়িত না। আরও কয়েকজন এর সঙ্গে জড়িত। এতে আসলে জনস্বার্থের কোনো অসুবিধা হয় না। খালের আরেক দখলদার ও নীলগঞ্জ ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি জামাল গাজী বলেন, আমরা ১৮-২০ জনে সম্পূর্ণ খালটিতে বাঁধ দিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করেছি। নীলগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মালেক খান জানান, সরকারি খালটি একটি স্বার্থান্বেষী মহল দখল করে মাছ চাষ করায় কৃষিকাজের চরম ক্ষতি হচ্ছে। কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমি অভিযোগ পেয়েছি। ইতিমধ্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে তদন্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র