jugantor
ছাত্রলীগ বনাম ছাত্রলীগ!
এ প্রবণতা শিক্ষাঙ্গনকে কলুষিত করছে

   

১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ০০:০০:০০  | 

ক্ষমতা পুনর্দখল ও ধরে রাখার লড়াইয়ে বরিশাল ছাত্রলীগের দুই গ্র“প মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে বলে গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায়। ইতিমধ্যে তাদের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষও হয়েছে। সেসব সংঘর্ষে ব্যবহৃত হয়েছে নানা ধরনের অস্ত্র। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, ছাত্রলীগ এবার নিজেরাই নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নির্ধারণ নিয়ে একই সংগঠনের নেতাকর্মীরা একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামার জন্য বৈধ-অবৈধ অস্ত্র হাতে রণদামামা বাজাচ্ছে, যা উদ্বেগজনক। দেখা যাচ্ছে, গত প্রায় ছয় বছর ধরে ছাত্রলীগ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘাত-সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে, ক্রমাগত এ সংগঠনের ঐতিহ্য ও ভাবমূর্তিকে কলুষিত করে চলেছে। দীর্ঘ ছয় দশকের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ছাত্রলীগ বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন থেকে শুরু করে জাতির যে কোনো সংকট আর ক্রান্তিকালে বলিষ্ঠ ভূমিকা গ্রহণকারী সংগঠন হিসেবে এক সময় মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছে। অথচ এখন ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে মানুষের অভিযোগের শেষ নেই। কিছুদিন আগে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) এক শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতা সহপাঠীদের হাতে খুন হয়েছেন। যাদের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ উঠেছে, তারাও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। অন্যদিকে ঢাকা কলেজে ছাত্রলীগের দুই গ্র“পের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের হানাহানি ও অরাজকতা শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করছে।

২০১২ সালের ডিসেম্বরে ছাত্রলীগের চরম বেপরোয়াপনা প্রকাশ পায় পুরান ঢাকায় দিনদুপুরে নিরীহ পথচারী বিশ্বজিৎকে কুপিয়ে খুন করার মধ্য দিয়ে। এ নৃশংস ঘটনার পর সবাই আশা করেছিল, ছাত্রলীগকে নিরস্ত করা হবে। কিন্তু সে আশায় গুড়েবালি। বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ঘটনাগুলো বলে দিচ্ছে, ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ড নিয়ে দল বা সরকারের কোনো মাথাব্যথা নেই। বিষয়টি পরিতাপের। সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টির পাশাপাশি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও টেন্ডারবাজির অভিযোগও রয়েছে। ছাত্র সংগঠনের বেআইনি কর্মকাণ্ড বন্ধে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব কম নয়। কেবল প্রকৃত শিক্ষার্থী ও মেধাবীদের হাতেই সংগঠনের নেতৃত্ব দেয়া উচিত। নিয়মিত ছাত্র, মেধাবী, যোগ্য ও দক্ষদের মধ্য থেকে নেতৃত্ব বাছাইয়ের কাজটি সম্পন্ন করা দরকার। এটি দেশের মানুষের জন্য যেমন, তেমনি ছাত্রলীগের জন্যও মঙ্গলজনক হবে। আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন- এটাই প্রত্যাশা।



সাবমিট

ছাত্রলীগ বনাম ছাত্রলীগ!

এ প্রবণতা শিক্ষাঙ্গনকে কলুষিত করছে
  
১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ১২:০০ এএম  | 
ক্ষমতা পুনর্দখল ও ধরে রাখার লড়াইয়ে বরিশাল ছাত্রলীগের দুই গ্র“প মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে বলে গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায়। ইতিমধ্যে তাদের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষও হয়েছে। সেসব সংঘর্ষে ব্যবহৃত হয়েছে নানা ধরনের অস্ত্র। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, ছাত্রলীগ এবার নিজেরাই নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নির্ধারণ নিয়ে একই সংগঠনের নেতাকর্মীরা একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামার জন্য বৈধ-অবৈধ অস্ত্র হাতে রণদামামা বাজাচ্ছে, যা উদ্বেগজনক। দেখা যাচ্ছে, গত প্রায় ছয় বছর ধরে ছাত্রলীগ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘাত-সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে, ক্রমাগত এ সংগঠনের ঐতিহ্য ও ভাবমূর্তিকে কলুষিত করে চলেছে। দীর্ঘ ছয় দশকের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ছাত্রলীগ বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন থেকে শুরু করে জাতির যে কোনো সংকট আর ক্রান্তিকালে বলিষ্ঠ ভূমিকা গ্রহণকারী সংগঠন হিসেবে এক সময় মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছে। অথচ এখন ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে মানুষের অভিযোগের শেষ নেই। কিছুদিন আগে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) এক শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতা সহপাঠীদের হাতে খুন হয়েছেন। যাদের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ উঠেছে, তারাও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। অন্যদিকে ঢাকা কলেজে ছাত্রলীগের দুই গ্র“পের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের হানাহানি ও অরাজকতা শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করছে।

২০১২ সালের ডিসেম্বরে ছাত্রলীগের চরম বেপরোয়াপনা প্রকাশ পায় পুরান ঢাকায় দিনদুপুরে নিরীহ পথচারী বিশ্বজিৎকে কুপিয়ে খুন করার মধ্য দিয়ে। এ নৃশংস ঘটনার পর সবাই আশা করেছিল, ছাত্রলীগকে নিরস্ত করা হবে। কিন্তু সে আশায় গুড়েবালি। বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ঘটনাগুলো বলে দিচ্ছে, ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ড নিয়ে দল বা সরকারের কোনো মাথাব্যথা নেই। বিষয়টি পরিতাপের। সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টির পাশাপাশি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও টেন্ডারবাজির অভিযোগও রয়েছে। ছাত্র সংগঠনের বেআইনি কর্মকাণ্ড বন্ধে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব কম নয়। কেবল প্রকৃত শিক্ষার্থী ও মেধাবীদের হাতেই সংগঠনের নেতৃত্ব দেয়া উচিত। নিয়মিত ছাত্র, মেধাবী, যোগ্য ও দক্ষদের মধ্য থেকে নেতৃত্ব বাছাইয়ের কাজটি সম্পন্ন করা দরকার। এটি দেশের মানুষের জন্য যেমন, তেমনি ছাত্রলীগের জন্যও মঙ্গলজনক হবে। আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন- এটাই প্রত্যাশা।



 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র