jugantor
পীরগঞ্জে ইউএনও ও শিক্ষা কর্মকর্তাকে পেটাল ছাত্রলীগ

  যুগান্তর রিপোর্ট  

২৩ জুলাই ২০১৩, ০০:০০:০০  | 

রংপুর ব্যুরো ও পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি

রংপুরের পীরগঞ্জে বিক্ষুব্ধ ছাত্রলীগের ক্যাডার বাহিনী সিনেমা স্টাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে বেধড়ক মারধর করেছে। একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণের তদবিরের জন্য বেআইনিভাবে নথিপত্রে স্বাক্ষর না করায় তারা এ হামলা চালায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করলে পুলিশ বাধা দিলে সংঘর্ষ বাধে। এতে পুলিশের লাঠিচার্জে ১০ জন আহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ছাত্রলীগের এক ক্যাডারকে গ্রেফতার করেছে। এ খবর লেখা পর্যন্ত পীরগঞ্জে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা সদরের ওসমানপুর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সরকারিকরণের তালিকাভুক্ত হয়নি। ফলে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাশেদীন নবী, সম্পাদক মিথুন সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক পলাশ মিয়াসহ কয়েকজন নেতা ক্ষুব্ধ হয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ক. খ. আলাউল হাদীর কাছে সুপারিশ নিতে পীরগঞ্জ বিজ্ঞান ও কারিগরি কলেজে যান। এ সময় ওই কলেজে শিক্ষা কর্মকর্তা ন্যাশনাল সার্ভিসের ক্লাস নিচ্ছিলেন। সেখানেই ছাত্রলীগের ক্যাডার বাহিনী শিক্ষা কর্মকর্তাকে বেআইনিভাবে প্রতিষ্ঠানটি সরকারিকরণের তদবিরের জন্য কিছু নথিপত্রে স্বাক্ষর করতে বলেন। এতে তিনি রাজি না হলে বিক্ষুব্ধ ছাত্রলীগ ক্যাডার বাহিনী তাকে বেধড়ক পিটিয়ে একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে ইউএনও রফিকুল হক পুলিশ নিয়ে গিয়ে শিক্ষা কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। ওই ঘটনায় ন্যাশনাল সার্ভিসের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে রংপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহজাহান আলী (চলতি দায়িত্ব) এসে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ক. খ আলাওলকে বাদী করে পীরগঞ্জ থানায় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মুহূর্তেই খবরটি ছড়িয়ে পড়লে আরও বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে ছাত্রলীগ ক্যাডার বাহিনী। পরে তারা লাঠিসোটাসহ বেলা আড়াইটার দিকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করে। তারা মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। এ সময় রংপুর থেকে এএসপি রশিদুল হক, ওসি জাহিদুর রহমানসহ পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গেলে অবরোধকারীরা ইউএনওকে প্রত্যাহারের আলটিমেটাম দেয়। এক পর্যায়ে পুলিশ ফিরে আসে। পরে বিকাল ৬টার দিকে ইউএনও রফিকুল হক ঘটনাস্থলে গেলে উত্তেজিত ছাত্রলীগ নেতারা তাকে সেখানে সড়কের ওপর বেধড়ক মারধর করলে তিনি গুরুতর আহত হন। এ ঘটনার সময় পুলিশ ইউএনও রফিকুল হককে হামলাকারীদের হাত থেকে উদ্ধার করতে লাঠিচার্জ করলে ১০ জন আহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে আহতদের মধ্যে নবীন নামে এক ছাত্রলীগ নেতাকে পুলিশ আটক করে। অপরদিকে পীরগঞ্জ হাসপাতালে ইউএনওকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর ছেড়ে দেয়া হয়। পরে পুলিশ ওই সড়কে শক্ত অবস্থান গড়ে তুললে অবরোধকারীরা সেখান থেকে পিছু হটে। সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে সাড়ে চার ঘণ্টা পর ওই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। সড়ক অবরোধ থাকায় প্রায় পাঁচ কিলোমিটারজুড়ে সড়কে সব ধরনের যানবাহন আটকা ছিল। এ ব্যাপারে ইউএনও রফিকুল হক বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশক্রমে এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


 

সাবমিট

পীরগঞ্জে ইউএনও ও শিক্ষা কর্মকর্তাকে পেটাল ছাত্রলীগ

 যুগান্তর রিপোর্ট 
২৩ জুলাই ২০১৩, ১২:০০ এএম  | 

রংপুর ব্যুরো ও পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি

রংপুরের পীরগঞ্জে বিক্ষুব্ধ ছাত্রলীগের ক্যাডার বাহিনী সিনেমা স্টাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে বেধড়ক মারধর করেছে। একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণের তদবিরের জন্য বেআইনিভাবে নথিপত্রে স্বাক্ষর না করায় তারা এ হামলা চালায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করলে পুলিশ বাধা দিলে সংঘর্ষ বাধে। এতে পুলিশের লাঠিচার্জে ১০ জন আহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ছাত্রলীগের এক ক্যাডারকে গ্রেফতার করেছে। এ খবর লেখা পর্যন্ত পীরগঞ্জে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা সদরের ওসমানপুর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সরকারিকরণের তালিকাভুক্ত হয়নি। ফলে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাশেদীন নবী, সম্পাদক মিথুন সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক পলাশ মিয়াসহ কয়েকজন নেতা ক্ষুব্ধ হয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ক. খ. আলাউল হাদীর কাছে সুপারিশ নিতে পীরগঞ্জ বিজ্ঞান ও কারিগরি কলেজে যান। এ সময় ওই কলেজে শিক্ষা কর্মকর্তা ন্যাশনাল সার্ভিসের ক্লাস নিচ্ছিলেন। সেখানেই ছাত্রলীগের ক্যাডার বাহিনী শিক্ষা কর্মকর্তাকে বেআইনিভাবে প্রতিষ্ঠানটি সরকারিকরণের তদবিরের জন্য কিছু নথিপত্রে স্বাক্ষর করতে বলেন। এতে তিনি রাজি না হলে বিক্ষুব্ধ ছাত্রলীগ ক্যাডার বাহিনী তাকে বেধড়ক পিটিয়ে একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে ইউএনও রফিকুল হক পুলিশ নিয়ে গিয়ে শিক্ষা কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। ওই ঘটনায় ন্যাশনাল সার্ভিসের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে রংপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহজাহান আলী (চলতি দায়িত্ব) এসে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ক. খ আলাওলকে বাদী করে পীরগঞ্জ থানায় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মুহূর্তেই খবরটি ছড়িয়ে পড়লে আরও বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে ছাত্রলীগ ক্যাডার বাহিনী। পরে তারা লাঠিসোটাসহ বেলা আড়াইটার দিকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করে। তারা মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। এ সময় রংপুর থেকে এএসপি রশিদুল হক, ওসি জাহিদুর রহমানসহ পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গেলে অবরোধকারীরা ইউএনওকে প্রত্যাহারের আলটিমেটাম দেয়। এক পর্যায়ে পুলিশ ফিরে আসে। পরে বিকাল ৬টার দিকে ইউএনও রফিকুল হক ঘটনাস্থলে গেলে উত্তেজিত ছাত্রলীগ নেতারা তাকে সেখানে সড়কের ওপর বেধড়ক মারধর করলে তিনি গুরুতর আহত হন। এ ঘটনার সময় পুলিশ ইউএনও রফিকুল হককে হামলাকারীদের হাত থেকে উদ্ধার করতে লাঠিচার্জ করলে ১০ জন আহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে আহতদের মধ্যে নবীন নামে এক ছাত্রলীগ নেতাকে পুলিশ আটক করে। অপরদিকে পীরগঞ্জ হাসপাতালে ইউএনওকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর ছেড়ে দেয়া হয়। পরে পুলিশ ওই সড়কে শক্ত অবস্থান গড়ে তুললে অবরোধকারীরা সেখান থেকে পিছু হটে। সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে সাড়ে চার ঘণ্টা পর ওই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। সড়ক অবরোধ থাকায় প্রায় পাঁচ কিলোমিটারজুড়ে সড়কে সব ধরনের যানবাহন আটকা ছিল। এ ব্যাপারে ইউএনও রফিকুল হক বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশক্রমে এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


 

 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র