jugantor
ইবিতে ছাত্রলীগ ছাত্রদল সংঘর্ষে শিক্ষকসহ আহত ১৫

  ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি  

১৭ ডিসেম্বর ২০১৩, ০০:০০:০০  | 

মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ‘মুক্তবাংলায় ফুল’ দেয়াকে কেন্দ্র করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে সোমবার ছাত্রলগী ও ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষের সময় দুই রাউন্ড গুলি ও ককটেলের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। সংঘর্ষের সময় প্রশাসন ভবনে ব্যাপক ভাংচুর চালায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষকসহ উভয় সংগঠনের কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ছাত্র ছাত্রদল কর্মী আখিরুল ইসলামকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষের একপর্যায় ক্যাম্পাস থেকে পালিয়ে যায় ছাত্রলীগ।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে সোমবার মহান বিজয় দিবসের ফুল দেয়া ও জিয়াউর রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে থেকে ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল হাকিম সরকার ও প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. শাহীনুর রহমানের নেতৃত্বে বিজয় র‌্যালিসহ মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ‘মুক্তবাংলায় ফুল’ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তবাংলায় ফুল দিয়ে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নেয় ছাত্রলীগ। পরে পৃথকভাবে মুক্তবাংলায় ফুল দেয় ইবি জিয়া পরিষদ ও শিক্ষক সমিতির শিক্ষকরা। ফুল দেয়া শেষে জিয়া পরিষদের শিক্ষকরা প্রশাসন ভবনের পাশে থাকা ছাত্রদলকে নিয়ে আসতে চাইলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ও জিয়াউর রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করতে থাকে। একপর্যায় ছাত্রলীগ কর্মী জনি, বাবু শিমুল জাপান ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দিকে এলোপাতাড়ি ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষক আহত হন। শিক্ষক আহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্রদলও পাল্টা ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। একপর্যায়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনে ঢুকে পড়ে। পরে তারা পুলিশের সহযোগিতায় আবারও ছাত্রদলের ওপর হামলা চালালে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা পিছু হটে। পরে শিবিরের উপস্থিতিতে ছাত্রদলের সভাপতি ওমর ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদের নেতৃত্বে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা রামদা, চাপাতি, চাকু কুড়াল ও লাঠিসোটাসহ আবারও ছাত্রলীগের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রশাসন ভবন ও ক্যম্পাসের মেইন গেট দিয়ে ক্যাম্পাস ত্যাগ করে। এতে ছাত্রলীগের সাইফুল ইসলাম, হালিম, সোহেল, রানু ও ছাত্রদলের আখিরুল ইসলাম, আনিচুল ইসলাম মাহমুদ, আবুল খায়ের, সোহাগসহ উভয়দলের প্রায় ১৫ জন আহত হয়। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে ও কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের আছাদুল ইসলাম নামে এক কর্মচারীকে ছুরাকাঘাত করে ছাত্রদলের ক্যাডাররা। আহত শিক্ষকরা হলেন- ইবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. ইকবাল হোছাইন, প্রফেসর ড. আক্তারুজ্জামান, ড. আবুল কালাম আজাদ। সংঘর্ষের একপর্যায় শিবিরের বিজয় র‌্যালি করার কথা থাকলেও তারা তা না করে বিক্ষোভ মিছিল করে। সংঘর্ষের ব্যাপারে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল পরস্পর পরস্পরকে দায়ী করেছেন। এ বিষয় ছাত্রলীগের আহ্বায়ক শামীম খান বলেন, আমরা ফুল দিয়ে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নিলে ছাত্রদল আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ বিষয় ছাত্রদলের সভাপতি ওমর ফারুক বলেন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীকে বিজয় দিবসে ফুল দিতে দেবে না বলে জিয়াউর রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করে এবং পূর্বপরিকল্পিতভাবে ছাত্রলীগ আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়।

এ বিষয় প্রক্টর প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের মধ্যে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। বর্তমান ক্যাম্পাসের পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে।


 

সাবমিট

ইবিতে ছাত্রলীগ ছাত্রদল সংঘর্ষে শিক্ষকসহ আহত ১৫

 ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি 
১৭ ডিসেম্বর ২০১৩, ১২:০০ এএম  | 

মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ‘মুক্তবাংলায় ফুল’ দেয়াকে কেন্দ্র করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে সোমবার ছাত্রলগী ও ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষের সময় দুই রাউন্ড গুলি ও ককটেলের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। সংঘর্ষের সময় প্রশাসন ভবনে ব্যাপক ভাংচুর চালায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষকসহ উভয় সংগঠনের কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ছাত্র ছাত্রদল কর্মী আখিরুল ইসলামকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষের একপর্যায় ক্যাম্পাস থেকে পালিয়ে যায় ছাত্রলীগ।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে সোমবার মহান বিজয় দিবসের ফুল দেয়া ও জিয়াউর রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে থেকে ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল হাকিম সরকার ও প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. শাহীনুর রহমানের নেতৃত্বে বিজয় র‌্যালিসহ মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ‘মুক্তবাংলায় ফুল’ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তবাংলায় ফুল দিয়ে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নেয় ছাত্রলীগ। পরে পৃথকভাবে মুক্তবাংলায় ফুল দেয় ইবি জিয়া পরিষদ ও শিক্ষক সমিতির শিক্ষকরা। ফুল দেয়া শেষে জিয়া পরিষদের শিক্ষকরা প্রশাসন ভবনের পাশে থাকা ছাত্রদলকে নিয়ে আসতে চাইলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ও জিয়াউর রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করতে থাকে। একপর্যায় ছাত্রলীগ কর্মী জনি, বাবু শিমুল জাপান ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দিকে এলোপাতাড়ি ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষক আহত হন। শিক্ষক আহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্রদলও পাল্টা ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। একপর্যায়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনে ঢুকে পড়ে। পরে তারা পুলিশের সহযোগিতায় আবারও ছাত্রদলের ওপর হামলা চালালে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা পিছু হটে। পরে শিবিরের উপস্থিতিতে ছাত্রদলের সভাপতি ওমর ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদের নেতৃত্বে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা রামদা, চাপাতি, চাকু কুড়াল ও লাঠিসোটাসহ আবারও ছাত্রলীগের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রশাসন ভবন ও ক্যম্পাসের মেইন গেট দিয়ে ক্যাম্পাস ত্যাগ করে। এতে ছাত্রলীগের সাইফুল ইসলাম, হালিম, সোহেল, রানু ও ছাত্রদলের আখিরুল ইসলাম, আনিচুল ইসলাম মাহমুদ, আবুল খায়ের, সোহাগসহ উভয়দলের প্রায় ১৫ জন আহত হয়। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে ও কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের আছাদুল ইসলাম নামে এক কর্মচারীকে ছুরাকাঘাত করে ছাত্রদলের ক্যাডাররা। আহত শিক্ষকরা হলেন- ইবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. ইকবাল হোছাইন, প্রফেসর ড. আক্তারুজ্জামান, ড. আবুল কালাম আজাদ। সংঘর্ষের একপর্যায় শিবিরের বিজয় র‌্যালি করার কথা থাকলেও তারা তা না করে বিক্ষোভ মিছিল করে। সংঘর্ষের ব্যাপারে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল পরস্পর পরস্পরকে দায়ী করেছেন। এ বিষয় ছাত্রলীগের আহ্বায়ক শামীম খান বলেন, আমরা ফুল দিয়ে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নিলে ছাত্রদল আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ বিষয় ছাত্রদলের সভাপতি ওমর ফারুক বলেন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীকে বিজয় দিবসে ফুল দিতে দেবে না বলে জিয়াউর রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করে এবং পূর্বপরিকল্পিতভাবে ছাত্রলীগ আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়।

এ বিষয় প্রক্টর প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের মধ্যে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। বর্তমান ক্যাম্পাসের পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে।


 

 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র