jugantor
বেপরোয়া ছাত্রলীগ
ছাত্র সংগঠনকে রাজনৈতিক দলের পেটোয়া বাহিনী হিসেবে ব্যবহার না করার পরামর্শ শিক্ষাবিদদের

  মুসতাক আহমদ  

৩১ আগস্ট ২০১৪, ০০:০০:০০  | 

ফের বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ছাত্রলীগ। সংগঠনটির এক শ্রেণীর নেতাকর্মীদের রোষানলের শিকার হচ্ছে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন ধরনের ভাগ-বাটোয়ারা ও প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়িয়ে পড়ছে তারা। নিজেদের মধ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষ, পুলিশের ওপর হামলা, পুলিশের সামনে প্রতিপক্ষ ছাত্র সংগঠনের ওপর হামলা, রেল স্টেশন ভাংচুরসহ একের পর এক নানা ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে ছাত্রলীগের কিছু সংখ্যক নেতাকর্মী। এমনকি তাদের হাত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তারা পর্যন্ত রেহাই পাচ্ছেন না। এসব ঘটনায় নামমাত্র কয়েকজনকে বহিষ্কার করা ছাড়া জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও শাস্তি দেয়ার ঘটনা খুবই সামান্য। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্তদেরই শাস্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ছাত্রলীগের এ ধরনের কার্মকাণ্ডে ক্ষমতাসীন দলের ভাবমূর্তির ওপর অহেতুক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলেও মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এক সপ্তাহে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সারা দেশে বিভিন্ন ধরনের অন্তত অর্ধশত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে। তাদের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আবাসিক হলও বন্ধ করে দিতে হয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা করেছে। একই সময়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট)। সেখানে ছাত্রলীগ-শিবির মুখোমুখি অবস্থান করছে। গত বছর আগস্ট মাসেও একই সঙ্গে চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এভাবে অস্থিরতা চলছিল।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ছাত্রলীগের এ বেপরোয়া কর্মকাণ্ড চলছে। তাদের কর্মকাণ্ডে ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে ২০০৯ সালের ৩ এপ্রিল ছাত্রলীগের ‘সাংগঠনিক নেত্রী’র পদ থেকে শেখ হাসিনা পদত্যাগ পর্যন্ত করেন। ওই সময়ে অধ্যাপক কবির চৌধুরী ও জিল্লুর রহমান সিদ্দিকীসহ দেশের বরেণ্য ৫ শিক্ষাবিদ ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের জন্য আওয়ামী লীগকে তাগিদ পর্যন্ত দিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামও একাধিকবার সতর্ক করেছিলেন ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্টদের। কিন্তু তারপরও তাদের লাগাম টানা সম্ভব হয়নি। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদের শুরুতেই সারা দেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল এ সংগঠনটি। বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে ফেব্র“য়ারিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারী সাধারণ শিক্ষার্থী ও প্রগতিশীল সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা দেশব্যাপী নিন্দার ঝড় তুলেছিল। মার্চে হল উদ্ধারের দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, জুলাইয়ে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন দাবিতে ভিসিকে অবরুদ্ধ করা, জুনে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) ছাত্রলীগের দু’গ্র“পের মধ্যে সংঘর্ষ, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের দু’গ্র“পের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়াসহ নানা কারণে অস্থির করে তুলেছিল শিক্ষাঙ্গন। এতে ব্যাহত হয় শিক্ষা কার্যক্রম। বন্ধ ছিল ক্লাস-পরীক্ষা। এসব ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ২৪ আগস্ট ঢাকার বাইরের দুটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ, ছাত্রশিবির ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ছাত্রলীগ এবং একাধিক গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে একশ্রেণীর নেতাকর্মী ঠিকাদারি, মাস্তানি, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসাসহ আর্থিক সংস্রব রয়েছে- এমন কর্মকাণ্ডে এতটাই ভিড়ে গেছেন যে, তাদের কাছে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নয়, অর্থ উপার্জনই মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে কারণে তারা অনেকটাই লাগামহীন। আর এসব নেতাকর্মীর অপকর্মের দায়ভার যাচ্ছে ছাত্রলীগের মতো ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের কাঁধে। আর তাদের এ ধরনের সন্ত্রাসীমূলক কর্মকাণ্ডে ক্ষমতাসীন দলের ভাবমূর্তির ওপরও পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু ছাত্রলীগই নয়, এর আগে সরকারে যখন বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট ছিল- তখন ছাত্রদলেরও একশ্রেণীর নেতাকর্মী একই ধরনের অপকর্মে রীতিমতো প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছিল। তাদের নিয়ন্ত্রণহীন কর্মকাণ্ডের কারণে জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ছাত্র রাজনীতি বন্ধে সব দলকে আহ্বানও জানিয়েছিলেন। এ ছাড়া ছাত্রদলের কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন বন্ধ পর্যন্ত রেখেছিলেন। অবশ্য জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামীসহ তখন বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি ছাত্র রাজনীতি বন্ধের বিষয়ে। বরং পরিস্থিতি অনেকটা এমন যে, ছাত্রলীগ, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরসহ অপরাপর ছাত্র সংগঠনগুলো মূল রাজনৈতিক দলগুলোর পেটোয়া বাহিনী হিসেবে আগের চেয়ে আরও বেশি করে ব্যবহৃত হচ্ছে।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, ছাত্র সংগঠনগুলোর এ ধরনের লাগামহীন আচরণের মূল কারণ হচ্ছে, ছাত্র সংগঠনগুলোকে মূল রাজনৈতিক দলগুলোর পেটোয়া বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করা। তারা রাজনৈতিক দলগুলোকে ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদের পরামর্শ দিয়েছেন। বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর ও রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. একেএম নূর-উন-নবী বলেন, বিশ্বের সব দেশেই ছাত্রদের রাজনীতি রয়েছে, কিন্তু তা ক্যাম্পাসের ভেতরে এবং ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থে। বাংলাদেশের ছাত্র সংগঠনগুলোর মতো এভাবে ব্যবহৃত হওয়ার ঘটনা বিশ্বের আর কোনো দেশে নেই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সামাজিক মূল্যবোধের অনেক অবক্ষয় হয়েছে। যে কারণে একশ্রেণীর শিক্ষক ছাত্রদের কাছে ধরনা দেন নানা কিছু পাওয়ার জন্য। আর এই শ্রেণীর ব্যক্তিরাই ভিসি হলে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করতে পারেন না। এটা অবশ্য সাধারণ দৃষ্টান্ত নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রায় একই ধরনের কথা বলেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক সদস্য ড. তারেক শামসুর রেহমান। তিনি বলেন, ষাটের দশকের ছাত্র রাজনীতি ছিল জাতীয় প্রয়োজনে। সেই ঐতিহ্য এখন নেই। এখন সময়ের দাবি দেশ গড়ার। ছাত্রদের তাই রাজনীতি বাদ দিয়ে দেশগড়ার কাজে ব্যবহারে সব দলকে ঐকমত্য হওয়া উচিত। তিনি বলেন, একসময়ে ছাত্রনেতা মোজাহিদুল ইসলাম সেলিম ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়েছেন। এখন ছাত্র নেতাদের রেজাল্ট কি সে রকম আছে? তাই এ দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে বলা যায়, ছাত্র রাজনীতির অতীত ঐতিহ্যের স্মৃতি রোমন্থন করে লাভ নেই। এখন ছাত্র সংগঠনগুলোর বেশিরভাগ নেতাকর্মী যা করছেন, তাতে তাদের ক্যাম্পাসের ভেতরেই রাখা ভালো। ছাত্র সংগঠনগুলোকে আগে রাজনৈতিক দল থেকে বিচ্ছিন্ন করে নিজেদের কাজে নিয়োজিত করতে হবে। এরপর ছাত্র সংগঠন নির্বাচনের কথা চিন্তা করা যেতে পারে।

প্রসঙ্গত, বিগত এক সপ্তাহে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অন্তত অর্ধশত নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। সর্বশেষ ২৮ আগস্ট রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিশ্ববিদ্যালয়ের) ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলীর ওপর হামলা করে মাথা ফাটিয়ে দেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তুহিন ও তার দলবল। একই দিন কমিটি গঠন না করাসহ অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জের ধরে বরিশালে ছাত্রলীগের দু’গ্র“পে সংঘর্ষ হয়। ওই দিনই শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজকর্ম বিভাগের চেয়ারম্যানকে কুপিয়ে জখম করে ওয়েস আহমেদ নামে এক ছাত্র। আর এ ঘটনাকে পুঁজি করে ক্যাম্পাসে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে ছাত্রলীগের অঞ্জন-উত্তম গ্র“পের নেতাকর্মীরা। তারা ছাত্রদল-শিবিরের নেতাকর্মী সন্দেহে ৬ ছাত্র ও এক শিক্ষককে পুলিশের উপস্থিতিতেই মারধর করে। এ ছাড়া ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক ড. আতিকউল্লাহর প্রাইভেটকার ভাংচুর করে। একইদিন আরেক ঘটনায় রাজশাহীতে চারঘাট থানার সামনে ছাত্রদল কর্মী সেন্টু রহমানকে পিটিয়ে আহত করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। আরেক ঘটনায় বুধবার রাতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি আশরাফ মিল্টনকে পিটিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ঢাকায় সমাবেশে যোগদানের জন্য টিকিট চেয়ে না পাওয়ায় চট্টগ্রামে রেলস্টেশনে ভাংচুর করে ছাত্রলীগ। ওই ঘটনায় উল্টো স্টেশনমাস্টার ও বুকিং ক্লার্কসহ ৫ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া জিআরপি থানার ওসিকে ১২ দিনের বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে।

২৪ আগস্ট চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উভয় পক্ষের দিনব্যাপী দফায় দফায় গুলি বিনিময় ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় ক্যাম্পাস প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। দিনের এ ঘটনা রাতভরও ছিল। পুলিশি অভিযানে সোহরাওয়ার্দী হল থেকে পেট্রলবোমা ও ককটেল উদ্ধারের পর ছাত্রাবাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বিগত এক সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে বড় ঘটনা ছিল কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে পুলিশ-ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ২৫ আগস্ট থেকে ১৫ দিনের জন্য বন্ধ হয়ে যায় এই বিশ্ববিদ্যালয়। এর আগে ২১ আগস্ট ভোর সাড়ে ৪টায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মওলানা ভাসানী হলে ছাত্রলীগের একপক্ষের ওপর আরেক পক্ষ হামলা চালায়। এ সময়ে তারা অন্তত ২৫টি কক্ষ ভাংচুর করে। এতে ১৪ জন নেতাকর্মী আহত হন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সভাপতি এএইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ শুক্রবার বিকালে মোবাইল ফোনে যুগান্তরকে বলেন, ৩১ আগস্ট ঢাকায় কেন্দ্রীয় সংগঠনের ছাত্র সমাবেশ রয়েছে। এ কর্মসূচিতে যোগ দিতে অগ্রিম টিকিটের জন্য চট্টগ্রাম শাখা ছাত্রলীগের নেতারা আগেই রেল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করে। ঘটনার দিন তারা স্টেশনে গেলে কালোবাজারিদের কাছ থেকে টিকিট নিতে বলা হয়। এ নিয়ে বচসার একপর্যায়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করা হয়। সেখানে ছাত্রলীগ কোনো হামলা করেনি। তিনি আরও বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য ক্যাম্পাসে বর্তমানে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তার জন্য ছাত্রশিবির দায়ী। শিবির বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। তাই তারা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। শান্তিপূর্ণ ক্যাম্পাসকে অশান্ত করতে তারা পরিকল্পিতভাবে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। ছাত্রলীগ নয়, সাধারণ ছাত্রছাত্রীরাই স্বাধীনতাবিরোধীদের প্রতিরোধ করছে। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় তুহিনের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেয়া হয়েছে। এভাবে দেশের কোথাও যখনই ছাত্রলীগের কেউ জড়িত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে, তখনই তার বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেয়া হয়েছে।


 

সাবমিট

বেপরোয়া ছাত্রলীগ

ছাত্র সংগঠনকে রাজনৈতিক দলের পেটোয়া বাহিনী হিসেবে ব্যবহার না করার পরামর্শ শিক্ষাবিদদের
 মুসতাক আহমদ 
৩১ আগস্ট ২০১৪, ১২:০০ এএম  | 

ফের বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ছাত্রলীগ। সংগঠনটির এক শ্রেণীর নেতাকর্মীদের রোষানলের শিকার হচ্ছে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন ধরনের ভাগ-বাটোয়ারা ও প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়িয়ে পড়ছে তারা। নিজেদের মধ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষ, পুলিশের ওপর হামলা, পুলিশের সামনে প্রতিপক্ষ ছাত্র সংগঠনের ওপর হামলা, রেল স্টেশন ভাংচুরসহ একের পর এক নানা ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে ছাত্রলীগের কিছু সংখ্যক নেতাকর্মী। এমনকি তাদের হাত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তারা পর্যন্ত রেহাই পাচ্ছেন না। এসব ঘটনায় নামমাত্র কয়েকজনকে বহিষ্কার করা ছাড়া জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও শাস্তি দেয়ার ঘটনা খুবই সামান্য। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্তদেরই শাস্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ছাত্রলীগের এ ধরনের কার্মকাণ্ডে ক্ষমতাসীন দলের ভাবমূর্তির ওপর অহেতুক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলেও মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এক সপ্তাহে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সারা দেশে বিভিন্ন ধরনের অন্তত অর্ধশত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে। তাদের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আবাসিক হলও বন্ধ করে দিতে হয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা করেছে। একই সময়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট)। সেখানে ছাত্রলীগ-শিবির মুখোমুখি অবস্থান করছে। গত বছর আগস্ট মাসেও একই সঙ্গে চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এভাবে অস্থিরতা চলছিল।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ছাত্রলীগের এ বেপরোয়া কর্মকাণ্ড চলছে। তাদের কর্মকাণ্ডে ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে ২০০৯ সালের ৩ এপ্রিল ছাত্রলীগের ‘সাংগঠনিক নেত্রী’র পদ থেকে শেখ হাসিনা পদত্যাগ পর্যন্ত করেন। ওই সময়ে অধ্যাপক কবির চৌধুরী ও জিল্লুর রহমান সিদ্দিকীসহ দেশের বরেণ্য ৫ শিক্ষাবিদ ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের জন্য আওয়ামী লীগকে তাগিদ পর্যন্ত দিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামও একাধিকবার সতর্ক করেছিলেন ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্টদের। কিন্তু তারপরও তাদের লাগাম টানা সম্ভব হয়নি। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদের শুরুতেই সারা দেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল এ সংগঠনটি। বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে ফেব্র“য়ারিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারী সাধারণ শিক্ষার্থী ও প্রগতিশীল সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা দেশব্যাপী নিন্দার ঝড় তুলেছিল। মার্চে হল উদ্ধারের দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, জুলাইয়ে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন দাবিতে ভিসিকে অবরুদ্ধ করা, জুনে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) ছাত্রলীগের দু’গ্র“পের মধ্যে সংঘর্ষ, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের দু’গ্র“পের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়াসহ নানা কারণে অস্থির করে তুলেছিল শিক্ষাঙ্গন। এতে ব্যাহত হয় শিক্ষা কার্যক্রম। বন্ধ ছিল ক্লাস-পরীক্ষা। এসব ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ২৪ আগস্ট ঢাকার বাইরের দুটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ, ছাত্রশিবির ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ছাত্রলীগ এবং একাধিক গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে একশ্রেণীর নেতাকর্মী ঠিকাদারি, মাস্তানি, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসাসহ আর্থিক সংস্রব রয়েছে- এমন কর্মকাণ্ডে এতটাই ভিড়ে গেছেন যে, তাদের কাছে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নয়, অর্থ উপার্জনই মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে কারণে তারা অনেকটাই লাগামহীন। আর এসব নেতাকর্মীর অপকর্মের দায়ভার যাচ্ছে ছাত্রলীগের মতো ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের কাঁধে। আর তাদের এ ধরনের সন্ত্রাসীমূলক কর্মকাণ্ডে ক্ষমতাসীন দলের ভাবমূর্তির ওপরও পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু ছাত্রলীগই নয়, এর আগে সরকারে যখন বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট ছিল- তখন ছাত্রদলেরও একশ্রেণীর নেতাকর্মী একই ধরনের অপকর্মে রীতিমতো প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছিল। তাদের নিয়ন্ত্রণহীন কর্মকাণ্ডের কারণে জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ছাত্র রাজনীতি বন্ধে সব দলকে আহ্বানও জানিয়েছিলেন। এ ছাড়া ছাত্রদলের কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন বন্ধ পর্যন্ত রেখেছিলেন। অবশ্য জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামীসহ তখন বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি ছাত্র রাজনীতি বন্ধের বিষয়ে। বরং পরিস্থিতি অনেকটা এমন যে, ছাত্রলীগ, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরসহ অপরাপর ছাত্র সংগঠনগুলো মূল রাজনৈতিক দলগুলোর পেটোয়া বাহিনী হিসেবে আগের চেয়ে আরও বেশি করে ব্যবহৃত হচ্ছে।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, ছাত্র সংগঠনগুলোর এ ধরনের লাগামহীন আচরণের মূল কারণ হচ্ছে, ছাত্র সংগঠনগুলোকে মূল রাজনৈতিক দলগুলোর পেটোয়া বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করা। তারা রাজনৈতিক দলগুলোকে ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদের পরামর্শ দিয়েছেন। বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর ও রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. একেএম নূর-উন-নবী বলেন, বিশ্বের সব দেশেই ছাত্রদের রাজনীতি রয়েছে, কিন্তু তা ক্যাম্পাসের ভেতরে এবং ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থে। বাংলাদেশের ছাত্র সংগঠনগুলোর মতো এভাবে ব্যবহৃত হওয়ার ঘটনা বিশ্বের আর কোনো দেশে নেই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সামাজিক মূল্যবোধের অনেক অবক্ষয় হয়েছে। যে কারণে একশ্রেণীর শিক্ষক ছাত্রদের কাছে ধরনা দেন নানা কিছু পাওয়ার জন্য। আর এই শ্রেণীর ব্যক্তিরাই ভিসি হলে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করতে পারেন না। এটা অবশ্য সাধারণ দৃষ্টান্ত নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রায় একই ধরনের কথা বলেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক সদস্য ড. তারেক শামসুর রেহমান। তিনি বলেন, ষাটের দশকের ছাত্র রাজনীতি ছিল জাতীয় প্রয়োজনে। সেই ঐতিহ্য এখন নেই। এখন সময়ের দাবি দেশ গড়ার। ছাত্রদের তাই রাজনীতি বাদ দিয়ে দেশগড়ার কাজে ব্যবহারে সব দলকে ঐকমত্য হওয়া উচিত। তিনি বলেন, একসময়ে ছাত্রনেতা মোজাহিদুল ইসলাম সেলিম ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়েছেন। এখন ছাত্র নেতাদের রেজাল্ট কি সে রকম আছে? তাই এ দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে বলা যায়, ছাত্র রাজনীতির অতীত ঐতিহ্যের স্মৃতি রোমন্থন করে লাভ নেই। এখন ছাত্র সংগঠনগুলোর বেশিরভাগ নেতাকর্মী যা করছেন, তাতে তাদের ক্যাম্পাসের ভেতরেই রাখা ভালো। ছাত্র সংগঠনগুলোকে আগে রাজনৈতিক দল থেকে বিচ্ছিন্ন করে নিজেদের কাজে নিয়োজিত করতে হবে। এরপর ছাত্র সংগঠন নির্বাচনের কথা চিন্তা করা যেতে পারে।

প্রসঙ্গত, বিগত এক সপ্তাহে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অন্তত অর্ধশত নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। সর্বশেষ ২৮ আগস্ট রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিশ্ববিদ্যালয়ের) ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলীর ওপর হামলা করে মাথা ফাটিয়ে দেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তুহিন ও তার দলবল। একই দিন কমিটি গঠন না করাসহ অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জের ধরে বরিশালে ছাত্রলীগের দু’গ্র“পে সংঘর্ষ হয়। ওই দিনই শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজকর্ম বিভাগের চেয়ারম্যানকে কুপিয়ে জখম করে ওয়েস আহমেদ নামে এক ছাত্র। আর এ ঘটনাকে পুঁজি করে ক্যাম্পাসে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে ছাত্রলীগের অঞ্জন-উত্তম গ্র“পের নেতাকর্মীরা। তারা ছাত্রদল-শিবিরের নেতাকর্মী সন্দেহে ৬ ছাত্র ও এক শিক্ষককে পুলিশের উপস্থিতিতেই মারধর করে। এ ছাড়া ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক ড. আতিকউল্লাহর প্রাইভেটকার ভাংচুর করে। একইদিন আরেক ঘটনায় রাজশাহীতে চারঘাট থানার সামনে ছাত্রদল কর্মী সেন্টু রহমানকে পিটিয়ে আহত করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। আরেক ঘটনায় বুধবার রাতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি আশরাফ মিল্টনকে পিটিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ঢাকায় সমাবেশে যোগদানের জন্য টিকিট চেয়ে না পাওয়ায় চট্টগ্রামে রেলস্টেশনে ভাংচুর করে ছাত্রলীগ। ওই ঘটনায় উল্টো স্টেশনমাস্টার ও বুকিং ক্লার্কসহ ৫ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া জিআরপি থানার ওসিকে ১২ দিনের বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে।

২৪ আগস্ট চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উভয় পক্ষের দিনব্যাপী দফায় দফায় গুলি বিনিময় ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় ক্যাম্পাস প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। দিনের এ ঘটনা রাতভরও ছিল। পুলিশি অভিযানে সোহরাওয়ার্দী হল থেকে পেট্রলবোমা ও ককটেল উদ্ধারের পর ছাত্রাবাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বিগত এক সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে বড় ঘটনা ছিল কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে পুলিশ-ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ২৫ আগস্ট থেকে ১৫ দিনের জন্য বন্ধ হয়ে যায় এই বিশ্ববিদ্যালয়। এর আগে ২১ আগস্ট ভোর সাড়ে ৪টায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মওলানা ভাসানী হলে ছাত্রলীগের একপক্ষের ওপর আরেক পক্ষ হামলা চালায়। এ সময়ে তারা অন্তত ২৫টি কক্ষ ভাংচুর করে। এতে ১৪ জন নেতাকর্মী আহত হন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সভাপতি এএইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ শুক্রবার বিকালে মোবাইল ফোনে যুগান্তরকে বলেন, ৩১ আগস্ট ঢাকায় কেন্দ্রীয় সংগঠনের ছাত্র সমাবেশ রয়েছে। এ কর্মসূচিতে যোগ দিতে অগ্রিম টিকিটের জন্য চট্টগ্রাম শাখা ছাত্রলীগের নেতারা আগেই রেল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করে। ঘটনার দিন তারা স্টেশনে গেলে কালোবাজারিদের কাছ থেকে টিকিট নিতে বলা হয়। এ নিয়ে বচসার একপর্যায়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করা হয়। সেখানে ছাত্রলীগ কোনো হামলা করেনি। তিনি আরও বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য ক্যাম্পাসে বর্তমানে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তার জন্য ছাত্রশিবির দায়ী। শিবির বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। তাই তারা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। শান্তিপূর্ণ ক্যাম্পাসকে অশান্ত করতে তারা পরিকল্পিতভাবে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। ছাত্রলীগ নয়, সাধারণ ছাত্রছাত্রীরাই স্বাধীনতাবিরোধীদের প্রতিরোধ করছে। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় তুহিনের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেয়া হয়েছে। এভাবে দেশের কোথাও যখনই ছাত্রলীগের কেউ জড়িত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে, তখনই তার বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেয়া হয়েছে।


 

 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র