jugantor
৩৬ বছর পর স্টেডিয়াম পেল হবিগঞ্জ

  সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন, হবিগঞ্জ থেকে  

১৩ নভেম্বর ২০১৪, ০০:০০:০০  | 

দফায় দফায় মেয়াদ বাড়িয়েও ৩৬ বছর পর অবশেষে শেষ হয় হবিগঞ্জ আধুনিক স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ। ২৯ নভেম্বর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ নিয়ে ক্রীড়ামোদীদের উচ্ছ্বাসের কমতি নেই। নিজের নির্বাচনী প্রতিশ্র“তির অন্যতম আধুনিক স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ শেষ করতে পেরে উল্লসিত জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহির। তিনি বলেন, ‘জেলার ক্রীড়াঙ্গনে প্রাণের স্পন্দন হবে এই স্টেডিয়াম। সুন্দর পরিবেশে খেলাধুলা করার সুযোগ পাবে এ অঞ্চলের মানুষ। কাজটি সম্পন্ন করতে পেরে আমি কৃতজ্ঞ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে।’ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সাধারণ সম্পাদক ও ক্রিকেট কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রশিদ এমরান যুগান্তরকে বলেন, ‘বর্তমান জালাল স্টেডিয়াম ছোট। ফলে দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনামাফিক ক্রিকেট এবং ফুটবলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। খেলোয়াড়দের মেধা থাকা সত্ত্বেও মাঠ ও অবকাঠামোর অভাবে তা কাজে লাগানো যায়নি। আধুনিক স্টেডিয়ামের কার্যক্রম শুরু হলে খেলাধুলার মান বজায় রেখে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভূমিকা রাখতে পারবেন এ অঞ্চলের খেলোয়াড়রা। জেলার ক্রীড়াঙ্গনে সফলতার দ্বার উন্মোচন হবে বলে আমি প্রত্যাশা করি।’ ১৯৭৮ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হবিগঞ্জ সফরে এসে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন একটি নতুন আধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণে ২০ লাখ টাকা দেয়ার ঘোষণা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে একসময়ের ঘোড়দৌড় মাঠ হিসেবে পরিচিত নিউফিল্ডে স্টেডিয়াম নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরে বিভিন্ন সময় জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও জেলা পরিষদ বিচ্ছিন্নভাবে প্রকল্প এলাকায় মাটি ভরাটের কিছু কাজ করে। কিন্তু এতে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি।

একপর্যায়ে হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ওই ভূমি নিজেদের বলে দাবি তুললে মাঠ নির্মাণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। পরবর্তী সময় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের তত্ত্বাবধানে ১৯৯৫ সালে ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে শহরতলির সুলতান মাহমুদপুর গ্রামের পাশে ১১.৫০ একর ভূমি অধিগ্রহণ করে নতুন আধুনিক স্টেডিয়াম স্থাপনকল্পে মাটি ভরাট কাজ শুরু হয়। ১৯৯৭ সালের ২৪ ফেব্র“য়ারি প্রস্তাবিত স্টেডিয়ামের ভূমির মালিকানা দাবি করে হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। স্কুলের পক্ষে প্রধান শিক্ষক বাদী হয়ে হবিগঞ্জের সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একটি স্বত্ব মামলা দায়ের করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ভূমিটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে নির্মাণকাজ স্থগিত রাখা হয়।

রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হলে ১৯৯৭ সালের শেষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ভূমি সংক্রান্ত জটিলতার নিরসন হয়। (আগামীকাল নীলফামারী)



সাবমিট

৩৬ বছর পর স্টেডিয়াম পেল হবিগঞ্জ

 সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন, হবিগঞ্জ থেকে 
১৩ নভেম্বর ২০১৪, ১২:০০ এএম  | 
দফায় দফায় মেয়াদ বাড়িয়েও ৩৬ বছর পর অবশেষে শেষ হয় হবিগঞ্জ আধুনিক স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ। ২৯ নভেম্বর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ নিয়ে ক্রীড়ামোদীদের উচ্ছ্বাসের কমতি নেই। নিজের নির্বাচনী প্রতিশ্র“তির অন্যতম আধুনিক স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ শেষ করতে পেরে উল্লসিত জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহির। তিনি বলেন, ‘জেলার ক্রীড়াঙ্গনে প্রাণের স্পন্দন হবে এই স্টেডিয়াম। সুন্দর পরিবেশে খেলাধুলা করার সুযোগ পাবে এ অঞ্চলের মানুষ। কাজটি সম্পন্ন করতে পেরে আমি কৃতজ্ঞ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে।’ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সাধারণ সম্পাদক ও ক্রিকেট কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রশিদ এমরান যুগান্তরকে বলেন, ‘বর্তমান জালাল স্টেডিয়াম ছোট। ফলে দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনামাফিক ক্রিকেট এবং ফুটবলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। খেলোয়াড়দের মেধা থাকা সত্ত্বেও মাঠ ও অবকাঠামোর অভাবে তা কাজে লাগানো যায়নি। আধুনিক স্টেডিয়ামের কার্যক্রম শুরু হলে খেলাধুলার মান বজায় রেখে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভূমিকা রাখতে পারবেন এ অঞ্চলের খেলোয়াড়রা। জেলার ক্রীড়াঙ্গনে সফলতার দ্বার উন্মোচন হবে বলে আমি প্রত্যাশা করি।’ ১৯৭৮ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হবিগঞ্জ সফরে এসে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন একটি নতুন আধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণে ২০ লাখ টাকা দেয়ার ঘোষণা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে একসময়ের ঘোড়দৌড় মাঠ হিসেবে পরিচিত নিউফিল্ডে স্টেডিয়াম নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরে বিভিন্ন সময় জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও জেলা পরিষদ বিচ্ছিন্নভাবে প্রকল্প এলাকায় মাটি ভরাটের কিছু কাজ করে। কিন্তু এতে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি।

একপর্যায়ে হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ওই ভূমি নিজেদের বলে দাবি তুললে মাঠ নির্মাণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। পরবর্তী সময় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের তত্ত্বাবধানে ১৯৯৫ সালে ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে শহরতলির সুলতান মাহমুদপুর গ্রামের পাশে ১১.৫০ একর ভূমি অধিগ্রহণ করে নতুন আধুনিক স্টেডিয়াম স্থাপনকল্পে মাটি ভরাট কাজ শুরু হয়। ১৯৯৭ সালের ২৪ ফেব্র“য়ারি প্রস্তাবিত স্টেডিয়ামের ভূমির মালিকানা দাবি করে হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। স্কুলের পক্ষে প্রধান শিক্ষক বাদী হয়ে হবিগঞ্জের সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একটি স্বত্ব মামলা দায়ের করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ভূমিটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে নির্মাণকাজ স্থগিত রাখা হয়।

রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হলে ১৯৯৭ সালের শেষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ভূমি সংক্রান্ত জটিলতার নিরসন হয়। (আগামীকাল নীলফামারী)



 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র