পদ্মা সেতু বাংলাদেশের গর্বের প্রতীক
jugantor
যুগান্তরকে বিএসআরএম গ্রুপ চেয়ারম্যান
পদ্মা সেতু বাংলাদেশের গর্বের প্রতীক

  শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার, চট্টগ্রাম  

২৫ জুন ২০২২, ০০:০০:০০  |  অনলাইন সংস্করণ

এই মুহূর্তে পদ্মা সেতু বাংলাদেশের জন্য একটি গর্বের প্রতীক। আন্তর্জাতিকভাবে এই সেতু বাংলাদেশকে উচ্চ মর্যাদার জায়গায় নিয়ে গেছে।

অনেক প্রতিকূলতা ও বাধা ডিঙিয়ে, আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একক ও দুঃসাহসিক সিদ্ধান্তে পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন হয়েছে। বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশে পদ্মা সেতুর মতো এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন সত্যি অবিশ্বাস্য।

সরকারের ধারাবাহিকতা, সদিচ্ছা-সর্বোপরি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকার কারণে পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। এই সেতু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অবহেলিত অঞ্চলকে পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে আসবে। অর্থনীতি ও জিডিপিতেও এই সেতু মাইলফলক হিসাবে ভূমিকা রাখবে।

পদ্মা সেতুর মতো বৃহৎ একটি প্রকল্পে বিএসআরএম অংশগ্রহণ করতে পেরেছে কোয়ালিটি রড সরবরাহ করে। ৫০ কিলোমিটার সড়ক হয়েছে বিএসআরএমের রডে। এছাড়া সেতুর অবকাঠামো (স্ট্রাকচার) তৈরির ৯৫ শতাংশ স্টিল সরবরাহ করেছে বিএসআরএম।

বিএসআরএম গ্রুপ অব কোম্পানির চেয়ারম্যান ও দেশের ইস্পাত শিল্পের পুরোধা ব্যক্তিত্ব আলী হোসাইন আকবর যুগান্তরকে এসব কথা বলেন। পদ্মা সেতুকে অধিকতর কার্যকর করতে খুলনার মোংলা বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও এক্সটেনশন জরুরি বলে মনে করেন এই শিল্প ব্যক্তিত্ব।

তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর কারণে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অবহেলিত বিশাল এলাকার অর্থনীতির চাকা ঘুরে যাবে। সেখানে রেললাইন যাবে। গ্যাস যাবে। শিল্পায়ন হবে। গড়ে উঠবে ইস্পাত শিল্পকারখানাসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানা। দেশের সড়ক যোগাযোগ তথা কানেকটিভিটির ক্ষেত্রে এই সেতু অপরিসীম অবদান রাখবে। যোগাযোগ উন্নত হওয়ার কারণে ঢাকা থেকে চাপ অনেক কমে যাবে।

এ মুহূর্তে মোংলা বন্দরে সরকারের মনোযোগ দেওয়া উচিত-এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, বন্দরের সি-সাইডে ড্যাম বা পাথরের বাঁধ (ব্রেক ওয়াটার) দিতে হবে। এতে দ্রুত পলি জমবে না। ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্য রক্ষার ব্যবস্থা রাখতে হবে। তখন সরাসরি বড় জাহাজ জেটিতে ভিড়তে পারবে।

মোংলা বন্দরের উন্নয়ন হলে চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর থেকেও অনেক চাপ কমে যাবে। তাছাড়া দক্ষিণাঞ্চলে কোটি কোটি টাকা খরচ করে সড়ক অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। মোংলা বন্দর কর্মব্যস্ত ও সচল থাকলে সেসব সড়কেরও সঠিক ব্যবহার হবে। কমবে পরিবহণ তথা ট্রান্সপোর্টেশন খরচ। যা দেশের জিডিপিতে যোগ হবে। চট্টগ্রামে বে-টার্মিনাল ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরও দ্রুত নির্মাণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বিএসআরএম চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কোয়ালিটি রড সরবরাহ করছেন তারা। রোড ডেভেলপমেন্ট, এয়ারপোর্ট, টানেলে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ বড় বড় প্রকল্পে দেশের রড ব্যবহার হচ্ছে। পদ্মা সেতুতেও হয়েছে। এতে দেশের সক্ষমতাও আরেকবার প্রমাণ হয়েছে। আমাদের রড আমদানি করার প্রয়োজন হয়নি। যদি আমদানি করতে হতো তবে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দেশের বাইরে চলে যেত। এখন তা সাশ্রয় হয়েছে। সাশ্রয়ী দরে সরকার দেশীয় রড পেয়েছে।

আলী হোসাইন আকবর আলী আরও বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম বুলেট ট্রেন করার কথা উঠছে। কিন্তু আমি মনে করি বুলেট ট্রেন না করে ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা উচিত। বুলেট ট্রেনে যত টাকা লাগবে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে তত টাকা লাগবে না। প্রাইভেট-পাবলিক পার্টনারশিপে এটা হলে টাকাও আসবে। কোনো ল্যান্ড অ্যাকুইজিশন বা ভূমি অধিগ্রহণ করতে হবে না।

বর্তমান বিদ্যমান সড়কে অনেক স্পেস আছে। সরকার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করলে, প্রাইভেট-পাবলিক পার্টনারশিপে এটা করার সুযোগ দিলে ৩ বছরের মধ্যে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ শেষ করা যাবে। এই এক্সপ্রেসওয়ে থেকে টাকাও আয় করা যাবে। যেটা বুলেট ট্রেনের ক্ষেত্রে সহজ হবে না। বুলেট ট্রেনে আদৌ মানুষ চড়বে কিনা বা কজন চড়বে সে হিসাব করতে হবে। না হলে এ ধরনের প্রকল্প বুমেরাং হবে।

তিনি বলেন, পদ্মা সেতু দেশের অর্থনীতির আরেকটি লাইফলাইন হিসাবে আবির্ভূত হবে। দুই-আড়াই ঘণ্টার মধ্যে খুলনা থেকে ঢাকা চলে আসবে সেখানকার মানুষ। কিন্তু বর্তমানে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যেতে ৫-৬ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হলে উভয় পাশ ইক্যুয়াল বা সমান হয়ে যাবে। একটা ব্যালেন্স আসবে। অর্থাৎ দেশের দুই অঞ্চলের সুযোগ-সুবিধা দুরকম হবে না। সমান হবে। শিল্পায়ন বা অন্যান্য ক্ষেত্রে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি হবে না।

বিএসআরএম চেয়ারম্যান বলেন, সরকার প্রধান দেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে ডায়নামিক রোল প্লে করেছেন। সরকার স্থায়িত্ব ও স্থিতিশীলতা দুটোই পেয়েছে। বিগত ১২-১৩ বছর দেশের অবিশ্বাস্য উন্নয়ন হয়েছে। এ কারণে ওয়েজ আর্নার্স, ট্যাক্সেশন থেকেও বিপুল অঙ্কের টাকা পাচ্ছে সরকার। স্থিতিশীলতার কারণে চায়না-জাপানের মতো দেশ বাংলাদেশে বড় বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ করছে। স্থিতিশীলতা না থাকলে এটা করত না। এতে দেশে পিছিয়ে যেত। উন্নয়নের পূর্বশর্তই হচ্ছে এই স্থিতিশীলতা। তাই সরকারেরও ধারাবাহিকতার প্রয়োজন।

পদ্মা সেতুতে বিএসআরএম ১ লাখ টন রড দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর মূল স্ট্রাকচারে ৯২ হাজার মেট্রিক টন রড ব্যবহার করা হয়েছে। যার মধ্যে ৮৮ হাজার টনই সরবরাহ করেছে বিএসআরএম। শতাংশের হিসাবে তা ৯৫ শতাংশ। এই উপমহাদেশের কোনো বড় প্রকল্পে এককভাবে এত বিপুল পরিমাণ কোয়ালিটি রড (৫০ এমএম) সরবরাহ করে দেশে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন তারা।

তিনি সরকারপ্রধান তথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এত বড় একটি প্রকল্প সাহসিকতার সঙ্গে বাস্তবায়নের জন্য ধন্যবাদ জানান। তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বলেন, পদ্মা সেতুর কারণে আমাদের দেশের সক্ষমতা, দেশের প্রকৌশলীদের সক্ষমতা থাকার বিষয়টি প্রমাণ হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ, বাংলাদেশের প্রকৌশলীরা কঠোর পরিশ্রমী ও সক্ষম-এটিও প্রমাণ হয়েছে। তিনি চীন সরকারকেও ধন্যবাদ জানান পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিনিয়োগের জন্য।

যুগান্তরকে বিএসআরএম গ্রুপ চেয়ারম্যান

পদ্মা সেতু বাংলাদেশের গর্বের প্রতীক

 শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার, চট্টগ্রাম 
২৫ জুন ২০২২, ১২:০০ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

এই মুহূর্তে পদ্মা সেতু বাংলাদেশের জন্য একটি গর্বের প্রতীক। আন্তর্জাতিকভাবে এই সেতু বাংলাদেশকে উচ্চ মর্যাদার জায়গায় নিয়ে গেছে।

অনেক প্রতিকূলতা ও বাধা ডিঙিয়ে, আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একক ও দুঃসাহসিক সিদ্ধান্তে পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন হয়েছে। বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশে পদ্মা সেতুর মতো এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন সত্যি অবিশ্বাস্য।

সরকারের ধারাবাহিকতা, সদিচ্ছা-সর্বোপরি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকার কারণে পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। এই সেতু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অবহেলিত অঞ্চলকে পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে আসবে। অর্থনীতি ও জিডিপিতেও এই সেতু মাইলফলক হিসাবে ভূমিকা রাখবে।

পদ্মা সেতুর মতো বৃহৎ একটি প্রকল্পে বিএসআরএম অংশগ্রহণ করতে পেরেছে কোয়ালিটি রড সরবরাহ করে। ৫০ কিলোমিটার সড়ক হয়েছে বিএসআরএমের রডে। এছাড়া সেতুর অবকাঠামো (স্ট্রাকচার) তৈরির ৯৫ শতাংশ স্টিল সরবরাহ করেছে বিএসআরএম।

বিএসআরএম গ্রুপ অব কোম্পানির চেয়ারম্যান ও দেশের ইস্পাত শিল্পের পুরোধা ব্যক্তিত্ব আলী হোসাইন আকবর যুগান্তরকে এসব কথা বলেন। পদ্মা সেতুকে অধিকতর কার্যকর করতে খুলনার মোংলা বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও এক্সটেনশন জরুরি বলে মনে করেন এই শিল্প ব্যক্তিত্ব।

তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর কারণে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অবহেলিত বিশাল এলাকার অর্থনীতির চাকা ঘুরে যাবে। সেখানে রেললাইন যাবে। গ্যাস যাবে। শিল্পায়ন হবে। গড়ে উঠবে ইস্পাত শিল্পকারখানাসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানা। দেশের সড়ক যোগাযোগ তথা কানেকটিভিটির ক্ষেত্রে এই সেতু অপরিসীম অবদান রাখবে। যোগাযোগ উন্নত হওয়ার কারণে ঢাকা থেকে চাপ অনেক কমে যাবে।

এ মুহূর্তে মোংলা বন্দরে সরকারের মনোযোগ দেওয়া উচিত-এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, বন্দরের সি-সাইডে ড্যাম বা পাথরের বাঁধ (ব্রেক ওয়াটার) দিতে হবে। এতে দ্রুত পলি জমবে না। ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্য রক্ষার ব্যবস্থা রাখতে হবে। তখন সরাসরি বড় জাহাজ জেটিতে ভিড়তে পারবে।

মোংলা বন্দরের উন্নয়ন হলে চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর থেকেও অনেক চাপ কমে যাবে। তাছাড়া দক্ষিণাঞ্চলে কোটি কোটি টাকা খরচ করে সড়ক অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। মোংলা বন্দর কর্মব্যস্ত ও সচল থাকলে সেসব সড়কেরও সঠিক ব্যবহার হবে। কমবে পরিবহণ তথা ট্রান্সপোর্টেশন খরচ। যা দেশের জিডিপিতে যোগ হবে। চট্টগ্রামে বে-টার্মিনাল ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরও দ্রুত নির্মাণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বিএসআরএম চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কোয়ালিটি রড সরবরাহ করছেন তারা। রোড ডেভেলপমেন্ট, এয়ারপোর্ট, টানেলে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ বড় বড় প্রকল্পে দেশের রড ব্যবহার হচ্ছে। পদ্মা সেতুতেও হয়েছে। এতে দেশের সক্ষমতাও আরেকবার প্রমাণ হয়েছে। আমাদের রড আমদানি করার প্রয়োজন হয়নি। যদি আমদানি করতে হতো তবে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দেশের বাইরে চলে যেত। এখন তা সাশ্রয় হয়েছে। সাশ্রয়ী দরে সরকার দেশীয় রড পেয়েছে।

আলী হোসাইন আকবর আলী আরও বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম বুলেট ট্রেন করার কথা উঠছে। কিন্তু আমি মনে করি বুলেট ট্রেন না করে ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা উচিত। বুলেট ট্রেনে যত টাকা লাগবে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে তত টাকা লাগবে না। প্রাইভেট-পাবলিক পার্টনারশিপে এটা হলে টাকাও আসবে। কোনো ল্যান্ড অ্যাকুইজিশন বা ভূমি অধিগ্রহণ করতে হবে না।

বর্তমান বিদ্যমান সড়কে অনেক স্পেস আছে। সরকার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করলে, প্রাইভেট-পাবলিক পার্টনারশিপে এটা করার সুযোগ দিলে ৩ বছরের মধ্যে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ শেষ করা যাবে। এই এক্সপ্রেসওয়ে থেকে টাকাও আয় করা যাবে। যেটা বুলেট ট্রেনের ক্ষেত্রে সহজ হবে না। বুলেট ট্রেনে আদৌ মানুষ চড়বে কিনা বা কজন চড়বে সে হিসাব করতে হবে। না হলে এ ধরনের প্রকল্প বুমেরাং হবে।

তিনি বলেন, পদ্মা সেতু দেশের অর্থনীতির আরেকটি লাইফলাইন হিসাবে আবির্ভূত হবে। দুই-আড়াই ঘণ্টার মধ্যে খুলনা থেকে ঢাকা চলে আসবে সেখানকার মানুষ। কিন্তু বর্তমানে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যেতে ৫-৬ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হলে উভয় পাশ ইক্যুয়াল বা সমান হয়ে যাবে। একটা ব্যালেন্স আসবে। অর্থাৎ দেশের দুই অঞ্চলের সুযোগ-সুবিধা দুরকম হবে না। সমান হবে। শিল্পায়ন বা অন্যান্য ক্ষেত্রে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি হবে না।

বিএসআরএম চেয়ারম্যান বলেন, সরকার প্রধান দেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে ডায়নামিক রোল প্লে করেছেন। সরকার স্থায়িত্ব ও স্থিতিশীলতা দুটোই পেয়েছে। বিগত ১২-১৩ বছর দেশের অবিশ্বাস্য উন্নয়ন হয়েছে। এ কারণে ওয়েজ আর্নার্স, ট্যাক্সেশন থেকেও বিপুল অঙ্কের টাকা পাচ্ছে সরকার। স্থিতিশীলতার কারণে চায়না-জাপানের মতো দেশ বাংলাদেশে বড় বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ করছে। স্থিতিশীলতা না থাকলে এটা করত না। এতে দেশে পিছিয়ে যেত। উন্নয়নের পূর্বশর্তই হচ্ছে এই স্থিতিশীলতা। তাই সরকারেরও ধারাবাহিকতার প্রয়োজন।

পদ্মা সেতুতে বিএসআরএম ১ লাখ টন রড দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর মূল স্ট্রাকচারে ৯২ হাজার মেট্রিক টন রড ব্যবহার করা হয়েছে। যার মধ্যে ৮৮ হাজার টনই সরবরাহ করেছে বিএসআরএম। শতাংশের হিসাবে তা ৯৫ শতাংশ। এই উপমহাদেশের কোনো বড় প্রকল্পে এককভাবে এত বিপুল পরিমাণ কোয়ালিটি রড (৫০ এমএম) সরবরাহ করে দেশে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন তারা।

তিনি সরকারপ্রধান তথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এত বড় একটি প্রকল্প সাহসিকতার সঙ্গে বাস্তবায়নের জন্য ধন্যবাদ জানান। তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বলেন, পদ্মা সেতুর কারণে আমাদের দেশের সক্ষমতা, দেশের প্রকৌশলীদের সক্ষমতা থাকার বিষয়টি প্রমাণ হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ, বাংলাদেশের প্রকৌশলীরা কঠোর পরিশ্রমী ও সক্ষম-এটিও প্রমাণ হয়েছে। তিনি চীন সরকারকেও ধন্যবাদ জানান পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিনিয়োগের জন্য।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : পদ্মা সেতু নির্মাণ