চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩
কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে হারুন-বুলবুল
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৫৩ পিএম
হারুনুর রশীদ ও নুরুল ইসলাম বুলবুল। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজশাহী বিভাগের ৩৯টি আসনের মধ্যে সর্বপশ্চিমের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি আসনে এবারের নির্বাচনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাচ্ছে। জেলার সব আসনেই বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে ভোট যুদ্ধ কড়া এবং উভয় দলের প্রচার-প্রচারণায় উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ভোটকেন্দ্রে আধিপত্য বিস্তার ও সহিংসতার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন উভয় পক্ষ। কালোটাকা বিতরণের অভিযোগও উঠেছে। পাশাপাশি, দুই দলের প্রার্থীরা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থক ভোটারদের টানতে সরাসরি প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনটিতে বিএনপি-জামায়াতের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিএনপির হারুনুর রশীদ ও জামায়াতের নুরুল ইসলাম বুলবুলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পারদ এখন তুঙ্গে।
ভোটাররা বলছেন, কে জিতবেন এই আসনে এটা অনুমান করা বেশ কঠিন। প্রচারণার মাত্রাও সমানে সমান। বিএনপির হারুনুর রশীদ এই আসনে ১৯৯৬ সালে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে প্রথমবার সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ২০০১ এবং ২০১৮ সালে আরও দুবার এমপি হন। বিএনপি প্রার্থী হারুন বলেন, জামায়াত ভোটের পরিবেশকে সহিংস করতে উসকানি দিচ্ছে। কালোটাকা ছড়ানো হচ্ছে। ধর্মকে বর্ম বানিয়ে মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত পরিবেশ স্বাভাবিক থাকলেও নির্বাচনের দিনে সহিংসতার প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াতের নেতাকর্মীরা। আমরা প্রশাসনকে সবকিছু জানাচ্ছি। আশা করি চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের মানুষ বিপুল ভোটে আমাকে আরও একবার সংসদে যাওয়ার সুযোগ দেবেন।
জামায়াতের বুলবুল ২০১৮ সালে স্বতন্ত্র হয়ে এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তৃতীয় হয়েছিলেন। তবে জামায়াতের লতিফুর রহমান ১৯৮৬ ও ১৯৯১ সালে এই আসনে সংসদ-সদস্য হয়েছিলেন। জামায়াত নেতাকর্মীরা আসনটিতে আরও একবার জয়ের স্বপ্ন দেখছেন। জামায়াতের প্রার্থী নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, জামায়াত নয়, বিএনপি প্রার্থী নিজেই প্রতিনিয়ত উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন। কালোটাকার মালিক আওয়ামী লীগের লোকজনকে প্রকাশ্যে দলে ভিড়িয়ে টাকা ছড়াচ্ছেন। এসব আমি এসপি-ওসিকে জানিয়েছি কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৪৭৯ জন। আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ৫ জন। অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (ভোলাহাট-গোমস্তাপুর-নাচোল) আসনটিতেও বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে যাচ্ছে। আসনটিতে ১৯৮৬ সালে জামায়াতের প্রার্থী জয়ী হয়েছিলেন। এই আসনে এবার ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপির আমিনুল ইসলাম ও জামায়াতের ড. মিজানুর রহমানের মধ্যে। বিএনপির আমিনুল ২০১৮ সালে ধানের শীষ প্রতীকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছিলেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) দেশের অন্যতম বৃহৎ সংসদীয় আসনগুলোর একটি। এই আসনে ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৯ হাজার ৩১৭ জন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৬ জন প্রার্থী। তবে দুই প্রধান প্রার্থী হলেন বিএনপির বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক শাহজাহান মিঞা ও জামায়াতে ইসলামীর ড. কেরামত আলী।
ভোটাররা বলছেন, বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে ভোটের লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। জানা গেছে, বিএনপি প্রার্থী অধ্যাপক শাহজাহান মিঞা একজন প্রবীণ জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ১৯৭৯ সালে প্রথমবার এই আসনে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে সংসদ-সদস্য হয়েছিলেন। বয়সে প্রবীণ হলেও বিশাল এই নির্বাচনি এলাকার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছেন অধ্যাপক মিঞা। সঙ্গে থাকছে বিশাল কর্মীবাহিনী। তিনি প্রতিদিন অন্তত পাঁচটি করে নির্বাচনি সমাবেশ করছেন। এলাকাভিত্তিক উন্নয়নের অঙ্গীকার করছেন। পদ্মার ভাঙনকবলিত গ্রাম ও চরাঞ্চলে গিয়ে প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও নদীভাঙন প্রতিরোধের কথা বলছেন। সোনামসজিদ স্থলবন্দরের আধুনিকায়ন ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। দলটির নেতাকর্মীরা এলাকার আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোট টানতেও তাদের প্রকাশ্যে প্রচার সভাগুলোতে হাজির করছেন।
শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক বলেন, আমাদের নেতাকর্মীরা শুরু থেকেই অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রাখলেও প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের নেতাকর্মীরা উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে পরিবেশকে উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের উসকানির ফাঁদে পা দিচ্ছেন না। শিবগঞ্জের মানুষ ফের ধানের শীষে বিপুল সংখ্যায় ভোট দিয়ে অধ্যাপক শাহজাহান মিঞাকে নির্বাচিত করে সংসদে পাঠাবেন বলে আমরা দৃঢ়ভাবে আশাবাদী। অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ড. কেরামত আলী এবারই প্রথম সংসদ নির্বাচন করছেন। এর আগে তিনি দুবার শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
দলীয় সূত্র জানায়, সারা দেশে যেসব আসন জামায়াতের জন্য সম্ভাবনাময়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ তার অন্যতম। ফলে দলটির নেতাকর্মীরা ভোটের মাঠে মাটি কামড়ে পড়েছেন। দাঁড়িপাল্লায় ভোট চেয়ে দলটির নারীকর্মীরা যাচ্ছেন ঘরে ঘরে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ভোট টানতে ঘরে ঘরে যাচ্ছেন। জামায়াত নির্বাচনে জিতে সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে তাদের বিভিন্ন ধরনের হয়রানি থেকে রক্ষা করবেন বলেও প্রকাশ্যে ঘোষণা দিচ্ছেন প্রচার সমাবেশগুলোতে।
জানতে চাইলে জামায়াতের প্রার্থী ড. কেরামত আলী বলেন, সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন হলে আমরা বিপুল ভোটে জিতব ইনশাআল্লাহ। তিনি আরও বলেন, উসকানি তারাই (বিএনপি) দিচ্ছেন। আমাদের নেতাকর্মীরা সহনশীলতার সঙ্গে ও দলীয় নির্দেশনা মেনে প্রচার প্রচারণা করছেন।
এলাকার ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাকি দুটি আসনের মতো চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনেও বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে যাচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে ভোটার ৪ লাখ ৬১ হাজার জন।
