Logo
Logo
×
   

Advertisement

অন্যান্য

বদরুদ্দীন উমরের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের আলোচনাসভা

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০০ পিএম

বদরুদ্দীন উমরের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের আলোচনাসভা

বদরুদ্দীন উমর। ফাইল ছবি

Advertisement

উপমহাদেশের মার্কসবাদী-লেনিনবাদী তাত্ত্বিক ও রাজনীতিবিদ, ফ্যাসিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী কমিউনিস্ট বিপ্লবী, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের প্রয়াত প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কমরেড বদরুদ্দীন উমরের ১ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল আলোচনাসভা করেছে। 

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে এই আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়। 

জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ফয়জুল হাকিমের সভাপতিত্বে ও বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আমীর আব্বাসের সঞ্চালনায়   অনুষ্ঠিত এই আলোচনাসভায় বক্তব্য দেন- বাংলাদেশ কৃষক ও গ্রামীণ মজুর ফেডারেশনের সভাপতি সজীব রায়, বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সভাপতি পাভেল চৌধুরী, বাংলাদেশ কৃষক ও গ্রামীণ মজুর ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সদস্য ভুলন ভৌমিক, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের (মা-লে-মা) জেনারেল সেক্রেটারি ডা. আবদুল হাকিম, বাঙ্গালা গবেষণা প্রকাশক ও লেখক আফজালুল বাসার, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সদস্য মিনহাজ আহমেদ ও বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৌরভ রায়। 

বক্তব্যের শুরুতে কমরেড বদরুদ্দীন উমরের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে সভার সভাপতি ফয়জুল হাকিম বলেন, বদরুদ্দীন উমর তার সমগ্র জীবন শ্রমিক কৃষক নিপীড়িত জাতি ও জনগণের মুক্তির লক্ষ্যে ব্যবহার করে গেছেন। এ লক্ষ্য অর্জনে তিনি কমিউনিস্ট বিপ্লবী আন্দোলন গড়ে তোলায় নিজেকে নিযুক্ত করেছিলেন। 

তিনি বলেন, গত শতাব্দীর ষাটের দশকে বদরুদ্দীন উমরের সাম্প্রদায়িকতা, সংস্কৃতির সংকট, সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা গ্রন্থগুলো পাকিস্তান রাষ্ট্রের বয়ান ভেঙে দিয়েছিল।বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর আওয়ামী লীগের ৫২-এর ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে, ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে বদরুদ্দীন উমর নির্মম লড়াই  করে গেছেন। তিনি লিখেছিলেন, বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর এদেশের শাসক শ্রেণির হাতে প্রথম শহীদ যে হয় তার নাম ইতিহাস।

কমিউনিস্ট আন্দোলনের পর্যালোচনা করে বদরুদ্দীন উমর কমরেড সইফ উদ দাহার, কমরেড দেবেন শিকদার অন্যান্যদের নিয়ে গঠন করেছিলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী)। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি, পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টির সুবিধাবাদীতা বিলোপবাদীতার বিরুদ্ধে লিখে কমিউনিস্ট আন্দোলনের সঠিক পথ নির্দেশ করে গিয়েছেন। বিপ্লবী আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশের শ্রমিক, কৃষক, ছাত্র, লেখক, জাতিসত্তার জনগণকে সংগঠিত করতে সংগঠন গড়ে তুলতে নেতৃত্বমূলক ভূমিকা রেখেছিলেন।

ফয়জুল হাকিম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত জাতীয় স্বার্থবিরোধী বাণিজ্য চুক্তির কঠোর সমালোচনা করে বলেন, জাতীয় সংসদে এই চুক্তি বাতিল করতে হবে। তিনি সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ জোটে বাংলাদেশকে যুক্ত না করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

সজীব রায় বলেন, বাংলাদেশের বিপ্লবী আন্দোলনের পথ বদরুদ্দীন উমরের নেতৃত্বে তার পার্টি ও সংংগঠন নির্দেশিত করেছে- তিনি তার যথাসাধ্য কাজ করে গেছেন তা বাস্তবায়িত করা এখন তার সংগঠন ও কমরেডদের ওপর দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে।

পাভেল চৌধুরী বলেন, ৫২-এর ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে  তিনি বলেছিলেন, এই আন্দোলন এক গণতান্ত্রিক আন্দোলন। বাংলাদেশ লেখক শিবিরের মাধ্যমে তিনি বিপ্লবী রাজনৈতিক কর্মী তৈরি করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম