Logo
Logo
×

রাজনীতি

কৃষকের জমি দখল করে শতবিঘার খামার, ‘দুর্নীতির রাজা’ আ.লীগ নেতা

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৫, ১১:২৩ এএম

কৃষকের জমি দখল করে শতবিঘার খামার, ‘দুর্নীতির রাজা’ আ.লীগ নেতা

দরিদ্র কৃষকদের জমি দখল করে প্রায় একশ বিঘা জমিতে বিশাল কৃষি খামার তৈরি করেন যশোর জেলা আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন। স্থানীয়রা তাকে আখ্যা দিয়েছেন ‘দুর্নীতির রাজা’ হিসেবে। জমি দখলের পাশাপাশি সরকারি খাসজমি, টেন্ডারবাজি, নিয়োগ বাণিজ্য ও ঘুষের মাধ্যমে শতকোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। বর্তমানে তিনি হত্যা ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলায় কারাগারে রয়েছেন।

জমি দখলে গড়ে ওঠা বিশাল খামার

যশোর সদরের কাশিমপুর ইউনিয়নের রাহেলাপুর গ্রামে মিলনের এই কৃষি খামারটি গড়ে ওঠে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। প্রথমে মায়ের সম্পত্তি থেকে পাওয়া ১১ বিঘা জমি দিয়ে শুরু করলেও পরবর্তীতে স্থানীয়দের জমি দখল, অল্প দামে ক্রয় করে মূল্য না দেওয়া, অদলবদলের নামে প্রতারণা, এমনকি সরকারি খাসজমি দখল করে তিনি খামারের পরিধি বাড়ান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুটি খাস বিল—কালীদার বিল ও বৌদার বিল—মিলন ভরাট করে নিজের খামারের অন্তর্ভুক্ত করেন। এসব জমির পরিমাণ প্রায় ৪০ বিঘা। বর্তমানে ওই খামারে ৮-১০টি পুকুর, একটি গরুর ফার্ম, রাইস মিল, ধানক্ষেত ও বিশাল আমবাগান রয়েছে। 

ফার্মের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা আক্তারুজ্জামান জানান, ফার্মে প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ বিঘা জমি আছে। ৮টি পুকুরে মাছ চাষ হয়, একটি গরুর খামারে ১১টি গরু আছে। আরও একটি রাইস মিল ও ধানক্ষেত রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ

যশোর সদরের পাঁচবাড়িয়া কাছারিপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থাকাকালে মিলন আমার ২৬ শতক জমি অদলবদলের কথা বলে দখল করে নেন। তিন মাসের মধ্যে জমি ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও আর দেননি। বরং বছরে দু’বার ধান হিসেবে টাকা দিতেন। একইভাবে আমার ভাগিনা মইদুল-মিথুনদের দেড় বিঘা জমিও তিনি দখল করেন।

কাশিমপুর দফাদারপাড়ার বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, ২০১৯ সালে মিলন আমাদের ৭৬ শতক জমি মুখে মুখে অদলবদল করে নেন। পরিবর্তে পাশের নিচু জমি দেন, যা পরে পুকুর কেটে দখল করেন।

স্থানীয়রা আরও জানান, সরকারি চাকরি দেওয়ার নামে নগদ টাকা ও জমি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে। 

যশোর জেলা আওয়ামী লীগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শীর্ষ নেতা বলেন, বিগত সময়ে যশোরে যারা দুর্নীতি করে সম্পদ গড়েছেন, তাদের মধ্যে শহিদুল ইসলাম মিলনের নাম প্রথমেই আসবে। হামলা, লুটপাট, চাঁদাবাজি ও জমি দখল—সবখানেই তার সম্পৃক্ততা ছিল।

২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর রাতে রাজধানীর গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া এলাকা থেকে পুলিশ শহিদুল ইসলাম মিলনকে গ্রেফতার করে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা, চাঁদাবাজি, মালামাল লুট ও প্রাণনাশের ঘটনায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় তাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে যশোরের বিভিন্ন মামলায় তাকে স্থানান্তর করা হয়। 

২০২৪ সালের ২২ জুন যশোরের নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি মরহুম অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান মুকুলের দায়ের করা চাঁদাবাজি মামলাসহ একাধিক অভিযোগে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। তখন থেকেই তিনি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম