Logo
Logo
×
   

Advertisement

রাজনীতি

সন্তানতূল্য হাদি আমার প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, প্রতিযোগী: মির্জা আব্বাস

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:৫২ পিএম

সন্তানতূল্য হাদি আমার প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, প্রতিযোগী: মির্জা আব্বাস

মির্জা আব্বাস। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদিকে নিজের সন্তানতূল্য উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, হাদি আমার নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, প্রতিযোগী। একইসঙ্গে হাসপাতালে হাদিকে দেখতে যাওয়ার পর যে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, সেটিকে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে দাবি করেছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমি ঢাকার ছেলে। দীর্ঘ ৫০ বছর ঢাকায় রাজনীতি করি। আমি শান্ত ছিলাম। আমার নির্দেশনা পেলে কর্মীরা তোমাদের তুলোধুনো করত কিন্তু আমরা শান্ত না থাকলে হাদির চিকিৎসা ব্যাহত হতো।’

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার প্রতিবাদে এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

গুলিবিদ্ধ স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, 'সে আমার সন্তানতূল্য। হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার সংবাদ পেয়ে আমি মানসিকভাবে আহত হয়েছি। এ আঘাত গণতন্ত্রের ওপর আঘাত। হাদি আমার নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, প্রতিযোগী। সে রাজপথের সাহসী সৈনিক। তাকে আমি নির্বাচনী মাঠে আবারও সক্রিয় পাবো সেই প্রত্যাশা করি।'

হাসপাতালে স্লোগান ও হট্টগোলের ঘটনায় অভিযোগ তুলে মির্জা আব্বাস বলেন— ‘দুপুর দুইটার দিকে হাদি গুলিবিদ্ধ হন। আধাঘণ্টার মধ্যেই একটি গোষ্ঠী উত্তেজনা ছড়াতে ফেসবুকে পোস্ট দিতে শুরু করে। পরে হাসপাতালে গিয়ে আমি বুঝতে পারি, পুরো ঘটনাই ছিল পরিকল্পিত। যারা হাসপাতালে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, তারা হাদির সমর্থক নয়; তারা একটি বিশেষ দলের লোক। তাদের উদ্দেশ্য ছিল হাদির চিকিৎসা ব্যাহত করা এবং তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া।’

নাম উল্লেখ না করে একটি রাজনৈতিক দলের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘একটি দলের ষড়যন্ত্র আমরা ১৯৭১ ও ১৯৮৬ সালসহ অনেক দেখেছি। এদের মূল শক্তিই ষড়যন্ত্র। এরা স্থির রাষ্ট্র সহ্য করতে পারে না। তাই রাষ্ট্রকে সবসময়ই অস্থিতিশীল রাখতে চায়। হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাদের এক-দেড়শ লোক ফেসবুকে মব সৃষ্টির জন্য উস্কানি দিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘৭৭ সাল থেকে নির্বাচন করে আসছি। কারও সঙ্গে মারামারি হয়নি। একসঙ্গে প্রার্থীরা কোলাকুলি করেছি, খেয়েছি। মারামারি করে আওয়ামী লীগ। আর নির্বাচনসহ রাষ্ট্রকে অস্থির করে সেই বিতর্কিত রাজনৈতিক দল। আমরা চাই হাদির ওপর হামলাকারী গ্রেফতার হোক এবং বিশেষ দলের মুখোশ উন্মোচিত হোক।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এছাড়া বক্তব্য রাখেন যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন, যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্নাসহ অনেকে।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়ে বিজয়নগর ও ফকিরাপুল মোড় ঘুরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম