পাবনা-৩ ও ৪ আসন
‘বিদ্রোহী’ বিভাজনে বেকায়দায় বিএনপি
Advertisement
আখতারুজ্জামান আখতার, পাবনা
প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:০২ এএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বহিষ্কারাদেশ মাথায় নিয়ে পাবনা-৩ ও ৪ আসনে বিএনপির স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। এতে চরম অস্বস্তিতে দলটির নেতাকর্মীরা। শুধু তাই নয়, ভোটররাও রয়েছেন দ্বিধা-দ্বন্দ্বে। বিশেষ করে পাবনা-৪ আসন হারানোর শঙ্কায় নেতাকর্মীরা। এ আসনে অতীতে বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দ্বিগুণ ভোট পেয়েও বিএনপির দলীয় প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের (বর্তমান কার্যক্রম নিষিদ্ধ) প্রার্থীর কাছে। এবারেও ওই আসনে দল থেকে তাকে বহিষ্কার করার পরও একজন বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। এ অবস্থায় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এখানকার বিএনপি কি একই পথে হাঁটছে?-এ প্রশ্ন শুধু ভোটারদের নয়, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদেরও।
পাবনার ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া উপজেলা নিয়ে পাবনা-৪ আসন। নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীসহ এ আসনে সর্বমোট প্রার্থী হয়েছেন ৮ জন। তাদের মধ্যে বিএনপির প্রার্থী দলের প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিদ্রোহী) বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ-সদস্য সিরাজুল ইসলাম সরদার, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু, জামায়াতের প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমির আবু তালেব মণ্ডল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা আনোয়ার শাহ, সিপিবি’র কমরেড সোহাগ হোসেন, জাপার সাইফুল আজাদ মল্লিক, নাগরিক ঐক্যের শাহনাজ হক।
২০ জানুয়ারি মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে সিরাজুল ইসলাম সর্দার মনোনয়ন প্রত্যাহার করলেও সরে যাননি জাকারিয়া পিন্টু। জাকারিয়া পিন্টুকে পরদিন দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু এরপরও পিন্টু তার কর্মী-সমর্থক নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিগত দিনের প্রাপ্ত ভোটের বিবেচনায় দেখা গেছে যে, এ আসনটিতে বিএনপির ভোট বেশি রয়েছে। কিন্তু দলীয় কোন্দল, দ্বন্দ্ব এবং একাধিক প্রার্থীর কারণেই বিএনপি প্রার্থী আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছেন। আসন্ন নির্বাচনে এখন পর্যন্ত বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী পিন্টু মাঠে থাকায় স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, এবারও কি বিএনপি অতীতের পথে হাঁটছে? অর্থাৎ অতীতে একাধিক প্রার্থীর কারণে বিএনপি প্রার্থী যেমন আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছেন, তেমনি এবারও কি বিএনপি প্রার্থী জামায়াত প্রার্থীর কাছে পরাজিত হতে যাচ্ছেন। কেননা, জামায়াত বিএনপির বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে বিজয়ের স্বপ্ন দেখছে-এ মন্তব্য রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
এ বিষয়ে বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, বিএনপির একমাত্র প্রার্থী হিসাবে আমাকে মনোনীত করেছেন। এর বাইরে কেউ যদি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করেন, এ বিষয়ে দল সিদ্ধান্ত নেবে। আমার বলার কিছু নেই। স্বতন্ত্র (বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত) প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টু (মোটরসাইকেল প্রতীক) বলেন, তৃণমূলের চাওয়া-পাওয়া বিবেচনা না করে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তাই জনগণের চাপে আমি প্রার্থী হয়েছি এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করছি। এদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবু তালেব মণ্ডল বলেন, বিএনপির বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে নয়, বরং জনগণের দোয়া ও ভালোবাসা নিয়ে আগামী নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী বিজয় লাভ করবে।
এদিকে চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত পাবনা-৩ আসনে স্বতন্ত্র (বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত) সাবেক এমপি কেএম আনোয়ারুর ইসলামকে নিয়েও স্বস্তিতে নেই দলটি। এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে পাবনা-২ আসনের সুজানগর এলাকার বাসিন্দা কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনকে। তাকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে মাঠে প্রার্থী হন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য, সাবেক এমপি কেএম আনোয়ারুল ইসলাম মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু বহিষ্কারাদেশ মাথায় নিয়েই চাটমোহর উপজেলার বাসিন্দা কেএম আনোয়ারুর ইসলাম বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।
