ফুল ও মিষ্টি নিয়ে ড. ওসমান ফারুকের বাসায় কর্নেল জেহাদ খান
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:৩৬ পিএম
ড. ওসমান ফারুককে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন কর্নেল জেহাদ খান। ইনসেটে কর্নেল জেহাদ খানকে মিষ্টিমুখ করাচ্ছেন ড. ওসমান ফারুক। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জে সবচেয়ে জমজমাট লড়াই হয়েছে করিমগঞ্জ-তাড়াইল আসনে। কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের এ লড়াইয়ে জামায়াত প্রার্থীকে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুক।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. ওসমান ফারুক ১ লাখ ১২ হাজার ৪৭৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। এই আসনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য অধ্যাপক ডা. কর্নেল (অব) জেহাদ খান পেয়েছেন ১ লাখ ২ হাজার ৪৬৬ ভোট।
বেসরকারিভাবে ফলাফল প্রকাশের পর তার বাসায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও দেশের প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. কর্নেল (অব) জেহাদ খান ফুল ও মিষ্টি নিয়ে হাজির হয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন করিমগঞ্জ জামায়াতের সাবেক উপজেলা আমির ও কিশোরগঞ্জ পৌর মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগী প্রধান আজিজুর রহমান ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর কিশোরগঞ্জ জেলা সভাপতি শেখ খায়রুল কবীর।
এই মুহূর্তটিকে নির্বাচনের পর পরস্পরের প্রতি সম্মান ও রাজনৈতিক সম্প্রীতির উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে দেখছেন এলাকার সাধারণ মানুষ। ড. ওসমান ফারুকের ফেসবুক পেজে এই ছবি প্রকাশের পর কর্নেল জেহাদ খানকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন নেটিজেনরা।
এ বি সিদ্দিকি নামের একজন তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, রাজনীতির ঊর্ধ্বে এমন ভ্রাতৃত্বের দৃশ্য সত্যিই প্রশংসনীয়। অভিনন্দন দুইজনকেই। এটাই সুন্দর রাজনীতি — প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষে ভালোবাসা ও সৌহার্দ্য। জয়-পরাজয় থাকবেই, কিন্তু সম্পর্ক আর সম্মানটাই আসল। দুইজন নেতাকেই শ্রদ্ধা।
মঞ্জুর কাদের নামের একজন লেখেন, সুশিক্ষায় শিক্ষিত লোকদের আচার-আচরণ এই ধরনের হওয়া উচিত। উভয়ের দীর্ঘায়ু কামনা করছি।
মোহাম্মদ রনি হোসাইন নামের একজন বলেন, এটা রাজনীতির সৌন্দর্য। এমন সম্প্রীতির বাংলাদেশ-ই আমরা চেয়েছিলাম। ধন্যবাদ ডা. জেহাদ খানকে।
শামীম আহমেদ নামের একজন বলেন, সুশিক্ষার গুণ। রাজনৈতিক অঙ্গনে আমরা সাধারণ মানুষ এটাই প্রত্যাশা করি।
ইফরান শামীম খান বলেন, আমরা এরকম রাজনীতিই চাই যেখানে সবার প্রতি সবার সম্মান থাকবে অটুট, দোয়া করি আপনারা এভাবে মিলেমিশে তাড়াইল করিমগঞ্জ কে এগিয়ে নিয়ে যান
নজরুল ইসলাম নামের একজন বলেন, দুইজনেই ভালো আর সাদা মনের মানুষ ছিল। সত্যি বলতে ওই অঞ্চলের ভোটাররাও কনফিউশনে ছিলেন কাকে রেখে কাকে ভোট দেয়।
নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ
জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কিশোরগঞ্জ-৩-এর আসন পরিচালক মাওলানা আজহারুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ছোটখাটো ত্রুটি, বিচ্চুতি হলেও নির্বাচন ভালো হয়েছে। কিন্তু ভোট গণনার সময় ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে, বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটগণনায় কারচুপি করে জেহাদ খান হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ব্যালট ধানের শীষের প্রতীকের বান্ডেলে ভরে গোনা হয়েছে, এভাবে ধানের শীষের ভোট বেশি দেখানো হয়েছে। দুটি কেন্দ্রের এজেন্ট সাহসী হওয়ায় চ্যালেঞ্জ করে ধানের শীষের বান্ডিল থেকে এরকম ৪০টি দাঁড়িপাল্লার ভোট বের করেছে।
তিনি বলেন, কেন্দ্রের ভেতরে এজেন্টদের জিম্মি করে এসব করা হয়েছে। তাদের কিছুই করার ছিল না, হাতে মোবাইল না থাকায় তারা আমাদের জানাতে পারেনি। অনেক এজেন্টকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের দিন মোটরবাইক চালানো নিষিদ্ধ থাকায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
কিশোরগঞ্জের জামায়াত নেতা আজহারুল ইসলাম বলেন, আমরা এসব অনিয়মের অভিযোগ জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে জানিয়েছি। আমরা এই আসনের ভোট পুনর্গননা চাই। আমরা মনে করি, নিরপেক্ষভাবে গণনা করলে এই আসনে কর্নেল জেহাদ খানই বিজয়ী হবেন।
