তিনটি মন্ত্রণালয়ের প্রধান দায়িত্ব নারীদের দেওয়ার আহ্বান
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৬, ১০:১৭ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নারীর ক্ষমতায়নের প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে নতুন সরকারের অন্তত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের প্রধান দায়িত্ব নারীদের ওপর অর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।
তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক নেতারা নারীদের ভোটে নির্বাচনে জিততে চান, কিন্তু তাদের ন্যায্য অধিকার দিতে চান না।
রোববার আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে শ্রমজীবী নারী মৈত্রীর উদ্যোগে ‘নতুন সরকার, পুরুষতন্ত্র ও নারী অধিকারের লড়াই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন সাইফুল হক।
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সাইফুল হক বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরও সমাজে নারীর অধিকার ও নিরাপত্তা অনেক ক্ষেত্রে সংকুচিত হয়েছে। নারীরা আরও অনিরাপদ হয়ে পড়েছেন।
তিনি বলেন, অধিকাংশ রাজনৈতিক দল পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব দ্বারা পরিচালিত। তারা নারীদের ভোটে নির্বাচনে জিততে চায়, কিন্তু তাদের ন্যায্য অধিকার দিতে চায় না। কেউ কেউ নারী নেতৃত্বকেও মেনে নিতে চান না। তিনি নারীর ক্ষমতায়নের প্রতীকী প্রকাশ হিসেবে নতুন সরকারের কমপক্ষে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের প্রধান দায়িত্ব নারীদের ওপর অর্পণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নারীর অধিকার ও মর্যাদাবিরোধী সব অপতৎপরতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
শ্রমজীবী নারী মৈত্রীর সভাপতি নারী নেত্রী বহ্নিশিখা জামালীর সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক স্নিগ্ধা সুলতানা ইভার সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন- সংগঠনের সহসভাপতি রাশিদা বেগম, নারী নেত্রী তাসলিমা চৌধুরী রীতা, নার্গিস আক্তার লিমা, সোনিয়া আক্তার, সাবিনা রহমত, শাকিলা আক্তার শান্তা, আলেয়া বেগম, নূর বানু, মরিয়ম বেগম, হাওয়া বেগম ও শিউলী আক্তার।
সভাপতির বক্তব্যে বহ্নিশিখা জামালী বলেন, নারীরা পুরুষতান্ত্রিকতা ও শ্রেণি শোষণ—এই দ্বিবিধ নিপীড়নের শিকার। সমাজে এখনও অনেকেই নারীকে দ্বিতীয় শ্রেণির মানুষ হিসেবে বিবেচনা করেন। তারা নারীর গুণ ও রূপের প্রশংসা করলেও সমান অধিকার দিতে চান না।
তিনি বলেন, স্বাধীন নারীকে এখনও সমাজ ভয় পায় এবং অনেক ক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে অপবাদ ছড়ানো হয়। গত এক বছরে নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনা প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্যাতিত নারী দরিদ্র হলে বাস্তবে তার ন্যায়বিচার পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
বহ্নিশিখা জামালী আরও বলেন, এখনও সমান কাজে নারীরা সমান মজুরি পান না এবং সম্পত্তির ন্যায্য উত্তরাধিকার থেকেও বঞ্চিত হন। নারী বিদ্বেষী সব তৎপরতা আইন করে বন্ধ করার দাবি জানান তিনি।
সভায় সংহতি বক্তব্য দেন বিপ্লবী শ্রমিক সংহতির সভাপতি মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাক ও সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক ফিরোজ আলী।
বক্তারা বলেন, অধিকার আদায়ে নারীদের সামাজিক ও রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে সংগঠিত হতে হবে। নারীর সমান অধিকার নিশ্চিত না হলে সমাজের সার্বিক অগ্রগতি সম্ভব নয়।
