Logo
Logo
×
   

রাজনীতি

আইনের শাসন ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানই গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখে: মির্জা ফখরুল

Icon

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম

আইনের শাসন ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানই গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখে: মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি

গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় করতে বিচার বিভাগ ও প্রশাসনসহ রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ এক দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে একটি ফ্যাসিস্ট ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। এখন নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করার। একটি স্বাধীন বিচার বিভাগ, দক্ষ প্রশাসন এবং সক্রিয় সংসদীয় কমিটি নিশ্চিত করা গেলে দেশ ও গণতন্ত্র অনেক দূর এগিয়ে যাবে।

রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা আইনজীবী সমিতি আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, নানা সমস্যা ও রাজনৈতিক বিরোধিতার মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র চর্চা করতে হয়। 

প্রতিবেশী দেশ ভারতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ভারতে নানা সমস্যা থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তাদের গণতন্ত্র টিকে থাকে, কারণ তাদের বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের মতো মৌলিক প্রতিষ্ঠানগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী ও স্বাধীন। পাশাপাশি তাদের গণমাধ্যমও যথেষ্ট শক্তিশালী। আমাদের দেশেও একই রকম শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

সমাজকে এগিয়ে নিতে বিচারব্যবস্থা ও আইনের শাসনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার—এই দুটি বিষয় ধরে রাখতে পারলে সমাজকে অনেকখানি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। দুর্ভাগ্যবশত, আমরা এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছি। তবে বর্তমান সরকার সমাজে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এ সময় তরুণ সমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মাদক এখন সারা বাংলাদেশের পাশাপাশি ঠাকুরগাঁওয়ের জন্যও একটি বড় সংকট। বহু তরুণ আজ মাদকের কারণে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের চেষ্টা করতে হবে।

ঠাকুরগাঁওয়ের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ক্ষুদ্র আয়তনের এই দেশে প্রায় ২০ কোটি মানুষের বাস এবং ঠাকুরগাঁও একটি দারিদ্র্যপ্রবণ অঞ্চল। এখানে বড় ধরনের শিল্পকারখানা না থাকায় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত। স্থানীয় সুগার মিলটি প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষের আয়ের পথ রুদ্ধ হয়ে পড়েছে। তাই স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে সরকার সেখানে কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। 

শহরের চলমান ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ঠাকুরগাঁওয়ে ইতোমধ্যে একটি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন পেয়েছে, যার উপাচার্য নিয়োগ এবং জমিও চূড়ান্ত করা হয়েছে। এছাড়া একটি নতুন মেডিকেল কলেজ অনুমোদিত হয়েছে, যেখানে আগামী বছর থেকেই পুরোনো হাসপাতাল ভবনে অস্থায়ীভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি ও শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে। একই সঙ্গে শহরকে অপরিকল্পিত অবস্থা থেকে মুক্ত করতে একটি সমন্বিত মাস্টার প্ল্যান হাতে নেওয়া হচ্ছে এবং শহরের যানজট নিরসনে প্রস্তাবিত ডাইভারশন বা রিং রোডের পরিকল্পনা ইতোমধ্যে গৃহীত হয়েছে।

এর আগে একই দিন সকালে ঠাকুরগাঁও ডায়াবেটিক সমিতির উদ্যোগে নেপাল ও বাংলাদেশের যৌথ পরিচালনায় আয়োজিত ‘ফ্রি আই ক্যাম্প-২০২৬’-এর উদ্বোধন করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .