জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ দেশবাসীকে জিএম কাদেরের শুভেচ্ছা
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পবিত্র জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ দেশবাসীর প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের।
এক শুভেচ্ছা বার্তায় জিএম কাদের বলেন, ‘শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি জন্মাষ্টমী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। শ্রীকৃষ্ণের জীবনাদর্শে মানবপ্রেম, ন্যায়, সত্য, সহমর্মিতা ও শান্তির যে শিক্ষা রয়েছে, তা শুধু একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের জন্য নয়—সমগ্র মানবসমাজের জন্যই তাৎপর্যপূর্ণ। তার জীবন ও দর্শন যুগে যুগে মানুষকে অন্যায়, অসত্য ও অশান্তির বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর প্রেরণা দিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বাংলাদেশের সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের ধর্মীয় অধিকার ও মর্যাদার বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন ছিলেন। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব জন্মাষ্টমীকে যথাযথ মর্যাদায় পালনের সুযোগ করে দিতে তার সরকার জন্মাষ্টমীর দিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করে। বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ইতিহাসে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’
জিএম কাদের বলেন, ‘জাতীয় পার্টি সবসময় অন্যায়, নিপীড়ন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে এবং নিপীড়িত মানুষের পক্ষে। কোনো মানুষ তার ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে নির্যাতন, সহিংসতা কিংবা বৈষম্যের শিকার হবে—এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত ধর্মীয় সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনায় আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে রংপুরে সনাতন ধর্মবলম্বী একই পরিবারের চার সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত এ ধরনের সকল ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত করতে হবে।’
উগ্রপন্থী ধর্মান্ধ গোষ্ঠির মানুষদের দ্বারা পরিকল্পিতভাবে দেশে হিন্দু নিধন ও ভয়-ভীতির মাধ্যমে তাদের দেশত্যাগে বাধ্য করার উদ্যোগ গ্রহন করা হচ্ছে বলে হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। তারা তাদের উদ্বেগের বিষয়টি সরকারসহ সকল স্তরের সাধারন মানুষের কাছে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালন করছেন।
তাদের মতামত ও যুক্তিসমূহ যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা ও সন্তোষজনকভাবে তদন্ত করে ফলাফল জনসম্মুখে প্রকাশ করা বাঞ্চনীয়। তাছাড়া, প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে এমন ভাবে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। এতে করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের মনে স্বস্তি ও আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি হবে।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য ঐতিহ্যের দেশ। হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারাবাহিকতায় এ দেশের মানুষ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পাশাপাশি বসবাস করে আসছে। এই সম্প্রীতি আমাদের জাতীয় শক্তি। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর উসকানি, বিদ্বেষ কিংবা সহিংসতার কারণে এই ঐতিহ্য নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে প্রত্যেক মানুষ নির্বিঘ্নে নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে, প্রত্যেক নাগরিক নিরাপদে বসবাস করবে এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সমান মর্যাদা ও অধিকার ভোগ করবে। এ লক্ষ্য অর্জনে রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জন্মাষ্টমী উপলক্ষে দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাই-বোনদের সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গলময় জীবন কামনা করেন।
