Logo
Logo
×
   

রাজনীতি

জামায়াতের লিফলেট বিতরণ

লংমার্চে ১ হাজার গাড়ি অংশ নেবে: এনসিপি

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪২ পিএম

লংমার্চে ১ হাজার গাড়ি অংশ নেবে: এনসিপি

ছয় দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য ঘোষিত ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে ৫ সেপ্টেম্বরের শান্তিপূর্ণ লংমার্চ কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন ঐক্যের শীর্ষ নেতারা। ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বৃহস্পতিবার রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই আহ্বানের কথা জানান। শনিবারের লংমার্চ কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে রাজধানীতে লিফলেট বিতরণ করেছে জামায়াতে ইসলামী। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিনের নেতৃত্বে মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের নেতাকর্মীরা গোলাপ শাহ মাজার মসজিদ থেকে শুরু করে গুলিস্তান এলাকায় লিফলেট বিতরণ করেন। এদিকে জনভোগান্তি নিরসন ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে লংমার্চে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি বলেছে, লংমার্চে পাঁচ-ছয় হাজার গাড়ি থাকার কথা ছিল। তবে জ্বালানির সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় তারা এখন গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে এক হাজারে নামিয়ে আনছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানায় দলটি। সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, হামলা হলেও কর্মসূচি ঠেকানো যাবে না। জনগণই সেখানে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। এর আগে লংমার্চে অংশগ্রহণ ও সফল করার লক্ষ্যে সমন্বয় সভা করে এনসিপি।  

লংমার্চের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে-গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবার ঢাকার শাপলা চত্বরে সকাল ৭টায় অনুষ্ঠিতব্য জনসভা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চ শুরু হবে। কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে বিশাল সমাবেশের মাধ্যমে লংমার্চ কর্মসূচি সমাপ্ত হবে। লংমার্চে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, এলডিপি প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট একেএম আনোয়ারুল ইসলাম চান এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির আবু জাফর কাসেমীসহ শীর্ষ নেতারা নেতৃত্ব দেবেন।  

এদিকে ঘোষিত লংমার্চ কর্মসূচি সফল করতে রাজধানীর কাওরান বাজার, তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ড ও সাতরাস্তা এলাকায়ও প্রচারপত্র বিতরণ করেছে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর হাতিরঝিল অঞ্চল। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিমের নেতৃত্বে এ প্রচারপত্র বিতরণ করা হয়।  প্রচারপত্র বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার, তেজগাঁও দক্ষিণের আমির ইঞ্জিনিয়ার নোমান আহমেদ, সেক্রেটারি ফরিদ আহমেদ রুবেল প্রমুখ।

এনসিপির সংবাদ সম্মেলন : সংবাদ সম্মেলনে দলটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকার চূড়ান্ত ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক অবস্থায় আছে। সংসদ ভবনের সামনেও প্রকাশ্যে ছিনতাইকারীর হাতে মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে।

আখতার হোসেন বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের ব্যানারে ৫ সেপ্টেম্বর আমরা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লংমার্চের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সে লংমার্চ কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সেখানে এনসিপির অংশগ্রহণ কীভাবে হবে, সে বিষয় নিয়ে আজকে আমাদের একটি মিটিং ছিল। আমাদের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সভাপতিত্বে জাতীয় নাগরিক পার্টির সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন এবং তাদের সব নেতাকে সঙ্গে নিয়ে আমরা সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করেছি। আমরা সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের বর্তমান যে প্রেক্ষাপট দেখছি, তাতে করে জনভোগান্তি নিরসন করা এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা, সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা এই লংমার্চে উপস্থিত হচ্ছি।

জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে আখতার হোসেন বলেন, সরকার ক্ষমতায় আসার পর জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু তারপরও এখন ঘরে ঘরে লোডশেডিং। গ্রামাঞ্চলগুলোতে দিনে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং থাকে। কোনো কোনো অঞ্চলে তার থেকেও বেশি সময় লোডশেডিং থাকে। তিনি আরও বলেন, গ্যাসের সংকটের কারণে শিল্প-কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। যারা পারিবারিকভাবে রান্নাবান্নার কাজে গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল থাকেন, সে মানুষগুলো দারুণ ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন। 

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি একটা নাজুক অবস্থার মধ্যে রয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি, ছিনতাই, রাহাজানির মতো ঘটনা ঘটছে। এমনকি একজন শিক্ষিকা, যিনি ঢাকায় এসেছিলেন চিকিৎসা করানোর জন্য, সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইকারীর হামলায় তিনি রাস্তায় পড়ে আহত হলেন এবং তার জীবনের অবসান ঘটল।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জন্য পাঁচ-ছয় হাজার গাড়ি থেকে কমিয়ে এক হাজার গাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে। অর্থাৎ লংমার্চে ১ হাজার গাড়ি থাকবে। তিনি আরও বলেন, ৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় শাপলা চত্বর থেকে যাত্রা শুরু হবে। লংমার্চে জনদুর্ভোগের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা রাস্তায় একটি লাইন ধরে যাব। কোনো মানুষের ভোগান্তি যেন না হয়, কোনো অ্যাম্বুলেন্স যাতে কোথাও আটকা না পড়ে, সেজন্য আমরা এই ব্যবস্থা করেছি।

যে পথে যাবে লংমার্চ, যেখানে-যেখানে পথসভা 

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, প্রথমে আমরা ঢাকার শাপলা চত্বরে সকাল ৭টায় উপস্থিত হবো। সেখানে আপনারা সবাই অংশগ্রহণ করবেন। সকাল ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত আমাদের প্রোগ্রাম শাপলা চত্বরে অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে উদ্বোধনী বক্তব্য ও শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখবেন। এরপর আমরা গাড়ি ছেড়ে দেব। ঢাকা থেকে বের হওয়ার পর প্রথম পথসভা হবে চিটাগাং রোডের ট্রাকস্ট্যান্ডে, সিদ্ধিরগঞ্জে। সেখানে সকাল ৯টার সময় উপস্থিত হবো। এরপর কুমিল্লায় দুপুর ১২টায় উপস্থিত হবো। নূর হোটেলের লবিতে একটি খালি জায়গায় সেখানে আমরা কর্মসূচি করব। সেখানে দুপুরে খাবারদাবারের ব্যবস্থা থাকবে।

এরপর ফেনীর মহিপাল। সম্ভাব্য সময় দুপুর ৩টা। এরপর মীরসরাইয়ে আমরা উপস্থিত হবো। সেখানে বিকাল ৫টা পর্যন্ত থাকব। সেখানেও সবাই অংশগ্রহণ করবেন। এরপর আমরা চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড ময়দানে রাত ৯টায় উপস্থিত হবো। সেখানে লাখ লাখ লোক জমায়েত হবে এবং গাড়িবহরে যারা রয়েছেন তারাও জমায়েত হবেন। সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির যুগ্ম আহ্বয়ক মনিরা শারমিন, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রামে ১১ দলীয় ঐক্যের সংবাদ সম্মেলন : চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, শনিবারের লংমার্চ কর্মসূচি উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের সংবাদ সম্মেলন হয়েছে। এতে লিখিত বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান। তিনি বলেন, জনগণের মতামত ও গণরায় কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যাবে না। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন দলের চট্টগ্রাম মহানগরের নেতারা।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম