Logo
Logo
×
   

রাজনীতি

জিয়ার আদর্শ অনুসরণ করা কঠিন সাধনা: গয়েশ্বর

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫০ পিএম

জিয়ার আদর্শ অনুসরণ করা কঠিন সাধনা: গয়েশ্বর

বক্তব্য রাখছেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনীতি অনুশীলন করা সহজ নয়; এটি একটি কঠিন সাধনা। ভোটের সময় কিংবা দৈনন্দিন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অনেকেই জিয়ার নাম ব্যবহার করেন। কিন্তু তার আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শন কতটা ধারণ করা হচ্ছে, সেটিই বড় প্রশ্ন।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকালে বাংলা একাডেমিতে জিয়া স্মৃতি বইমেলার চতুর্থ দিনের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, দীর্ঘদিন সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করলেও জিয়াউর রহমান দেশের মাটি ও মানুষের আকাঙ্ক্ষা গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলেন। তিনি বুঝেছিলেন, এ দেশের মানুষ গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার চায়। সেই উপলব্ধিই তাকে জনগণের নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল।

জিয়াউর রহমানকে সংস্কৃতিমনস্ক মানুষ উল্লেখ করে গয়েশ্বর বলেন, দেশাত্মবোধ, সংস্কৃতি ও জাতীয় পরিচয়কে তিনি রাষ্ট্রগঠনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে দেখতেন। ধর্ম-বর্ণ-গোত্রনির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে ‘বাংলাদেশি জাতি’ ধারণার মাধ্যমে তিনি জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি গড়ে তুলেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার সময় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি সীমিত ছিল। তার দূরদর্শী পররাষ্ট্রনীতির ফলে বাংলাদেশ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বীকৃতি ও মর্যাদা অর্জন করে।

জুলাই আন্দোলনের একটি পক্ষের বক্তব্যের সমালোচনা করে গয়েশ্বর বলেন, তাদের রক্ত এতটাই গরম যে বক্তব্য শুনলে মনে হয়, হেমায়েতপুরের পাগলাগারদেও এমন কাউকে পাওয়া যাবে না। তিনি দাবি করেন, একাত্তরের পরাজিত শক্তি বর্তমান সরকারকে ব্ল্যাকমেইল করছে।

গয়েশ্বর বলেন, সরকার আসে-যায়, কিন্তু জাতীয়তাবাদী শক্তিকে দমন করা যায় না। জিয়াউর রহমানের পর খালেদা জিয়া এবং তার পর তারেক রহমান—নেতৃত্ব পরিবর্তিত হতে পারে, কিন্তু জাতীয়তাবাদী আদর্শ টিকে থাকবে।

অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ডিজিটাল যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চললেও জ্ঞান অর্জনের জন্য বই পড়ার অভ্যাস ধরে রাখতে হবে। প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদেরও মানিয়ে নিতে হবে।

আলাল আরও বলেন, জ্ঞান ও আত্মোন্নয়নের জন্য বই অত্যন্ত উপকারী। জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের উদ্যোগে বইমেলার আয়োজন প্রশংসনীয়। জ্ঞানচর্চা ও নতুন প্রজন্মকে বই পড়ায় উৎসাহিত করতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা উচিত।

ছাত্রদল নেতা মো. আমান উল্লাহ আমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামানসহ অন্যান্য বক্তা বক্তব্য দেন। 

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি জিয়া স্মৃতি পাঠাগার কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ফরহাদ হোসেন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম