Logo
Logo
×
   

রাজনীতি

ঢাকার দুই সিটির মসনদ কাঁপাতে প্রস্তুত দুই তরুণ তুর্কি

শিপন হাবীব

শিপন হাবীব

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৫ পিএম

ঢাকার দুই সিটির মসনদ কাঁপাতে প্রস্তুত দুই তরুণ তুর্কি

রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সামনে রেখে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। এর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই শীর্ষ নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। 

ভোটার এলাকা অদলবদলের মধ্য দিয়ে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এই দুই তরুণ নেতা।

ইতোপূর্বে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে নির্বাচন করবেন বলে প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছিলেন। দল থেকেও তাকে দক্ষিণ সিটিতে মেয়র প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছিল। তবে এখন তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন থেকে নির্বাচন করবেন বলে এনসিপি সূত্রে জানা গেছে।

অন্যদিকে, দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে মেয়র পদে নির্বাচন করবেন। এ লক্ষ্যে সোমবার তারা দুজনই ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন।

এনসিপির শীর্ষ কয়েকজন নেতা যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচনী আইন ও কৌশলের অংশ হিসেবে দুই নেতার ভোটার এলাকা অদলবদল করা হয়েছে। বুড়িগঙ্গা থেকে তুরাগ—পুরো ঢাকায় প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যেই তরুণ নেতৃত্বের এ কৌশল। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি হিসেবে আগামী দু-একদিনের মধ্যে শীর্ষ এ দুই নেতার প্রার্থিতা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

দলীয় নেতারা বলছেন, আসিফ মাহমুদ উত্তর সিটির হাল ধরবেন, আর পাটওয়ারী দক্ষিণ সিটির। তরুণ নেতৃত্বের এ দ্বিমুখী লড়াই ঢাকা সিটির নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

এ বিষয়ে সোমবার সন্ধ্যায় এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন যুগান্তরকে বলেন, ‘আমাদের শীর্ষ এ দুই নেতা ইতোমধ্যে ভোটার এলাকা অদলবদল করেছেন। নির্বাচনী আইন ও কৌশলের অংশ হিসেবে এটি করা হয়েছে। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে দল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে, তারা দুজন ঢাকার নির্ধারিত দুই সিটি করপোরেশন থেকে নির্বাচন করবেন।’

এদিকে সোমবার সন্ধ্যায় আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছি। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে কাজ করব। কয়েক দিনের মধ্যেই সার্বিক বিষয়ে আমাদের দল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। আমি মানুষের জন্য কাজ করছি, সাধারণ মানুষের হয়েই লড়ছি।’

আসিফ মাহমুদ এর আগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত ছিলেন। সম্প্রতি তার ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন আফতাবনগর এলাকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ভোটার এলাকা পরিবর্তনের বিষয়ে নিজের ফেসবুক পোস্টে আসিফ মাহমুদ জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ফরম-১৩-এর মাধ্যমে তিনি আবেদন করেন। আবেদনের পর প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পরীক্ষা শেষে নির্বাচন কমিশন তার আবেদন অনুমোদন করে।

এর ফলে আসিফ মাহমুদের ভোটার নিবন্ধন এখন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত হয়েছে বলে জানানো হয়।

অন্যদিকে, সোমবার এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকা থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ভোটার স্থানান্তর করেছেন। এদিনই এ তথ্য জানা যায়।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচন করেন। আসনটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন। ঢাকা-৮ আসনের মধ্যে ডিএসসিসির ৮ থেকে ১৩ এবং ১৯ থেকে ২১ নম্বর ওয়ার্ড রয়েছে। আসনটিতে মোট ভোটার ছিল ২ লাখ ৭৫ হাজার ৪৭১ জন।

নির্বাচনে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন পাটওয়ারী। বিএনপির মির্জা আব্বাসের কাছে অল্প ব্যবধানে পরাজিত হন তিনি। ফল অনুযায়ী, নাসীরুদ্দীন ৫৪ হাজার ১২৭ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন। মির্জা আব্বাস ৫৯ হাজার ৩৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।

নির্বাচনের পর ভোটে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে ভোট পুনর্গণনা এবং শপথ স্থগিত রাখার আবেদন করেছিলেন পাটওয়ারী।

তবে নির্বাচনের সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ভোটার এলাকা ঢাকা-৮ আসনের বাইরে থাকায় তিনি নিজের প্রার্থিতার আসনে ভোট দিতে পারেননি। ভোটের দিন তিনি জানিয়েছিলেন, আগে সবার ভোটাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি দেখছেন, পরে নিজের ভোট দেওয়ার কথা ভাববেন।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম