Logo
Logo
×
   

রাজনীতি

‘সমাজতন্ত্রই মানব জাতির মুক্তির পথ’ বক্তব্যের দৃঢ়তায় ছিলেন বদরুদ্দীন উমর

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৪ এএম

‘সমাজতন্ত্রই মানব জাতির মুক্তির পথ’ বক্তব্যের দৃঢ়তায় ছিলেন বদরুদ্দীন উমর

বদরুদ্দীন উমর। ফাইল ছবি

‘সমাজতন্ত্রই মানবজাতির মুক্তির পথ’ এই বক্তব্যে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন মার্কসবাদী-লেনিনবাদী ও কমিউনিস্ট বিপ্লবী বদরুদ্দীন উমর। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) তার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাজনৈতিক জীবন ও কর্মের ওপর আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন।

সোমবার বিকাল ৫টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরে এ প্রদর্শনী শুরু হয়। বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মিতু সরকারের সভাপতিত্বে এবং সহসভাপতি দীপা মল্লিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ফয়জুল হাকিম।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৌরভ রায়, ছাত্র ফেডারেশন ঢাকা নগরের সভাপতি এহতেশাম ইমন, সাধারণ সম্পাদক বুরহান এবং নরসিংদী শাখার আহ্বায়ক আব্দুল কবির। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সহসভাপতি মুহাম্মদ কাইয়ুম ও বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের নেতা রফিক আহমেদ।

মিতু সরকার বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর এ দেশের মানুষ আরও বেশি রাজনৈতিক হয়ে উঠেছে এবং পরিবর্তনের তাগিদ অনুভব করছে। এ পরিবর্তনের পরিস্থিতির জন্য সক্রিয়ভাবে সাংগঠনিক কাজ করতে হবে। ছাত্র-তরুণদের বদরুদ্দীন উমরকে পাঠ করতে হবে এবং তার দেখানো পথে গণঅভ্যুত্থানের লাইনে সংগঠিত হতে হবে। এই উদ্দেশ্যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের এ আয়োজন।

ফয়জুল হাকিম বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বদরুদ্দীন উমরের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কাজ এবং গণ-অভ্যুত্থানের লাইনের কারণে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ছাত্র-তরুণদের কাছে তিনি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় ২৮ জুলাই দৈনিক বণিক বার্তাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বদরুদ্দীন উমর বলেছিলেন, এটি এ যাবৎকালে সংঘটিত অভ্যুত্থানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ব্যাপক ও আক্রমণাত্মক গণ-অভ্যুত্থান।

ফয়জুল হাকিম আরও বলেন, একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধে বাংলাদেশ গঠনের পটভূমি নির্মাণের পেছনেও বদরুদ্দীন উমরের ভূমিকা ছিল। পূর্ব বাংলার জনগণের বাঙালি জাতিগত উন্মেষ গঠনে তার ‘সাম্প্রদায়িকতা’, ‘সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা’ ও ‘সংস্কৃতির সংকট’সহ বিভিন্ন গ্রন্থের ভূমিকা অপরিসীম। এসব গ্রন্থ পাকিস্তান রাষ্ট্রের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিল এবং ছাত্র-তরুণদের মধ্যে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার বয়ান তৈরি করেছিল।

তিনি বলেন, সোভিয়েত ইউনিয়নের বিপর্যয়ের সময় গত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকে বদরুদ্দীন উমর ‘সমাজতন্ত্রই মানবজাতির মুক্তির পথ, পুঁজিবাদের কোনো ভবিষ্যৎ নেই’ এই বক্তব্যের পক্ষে বিভিন্ন ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ হাজির করে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য পর্ব শেষে সন্ধ্যায় বদরুদ্দীন উমর স্মরণে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘চিরন্তন দীপশিখা’ এবং তার দুটি সাক্ষাৎকার বড় পর্দায় প্রদর্শন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম