Logo
Logo
×
   

Advertisement

রাজনীতি

লংমার্চের মধ্য দিয়ে কি ‘বড় আন্দোলনের’ পথ খুঁজছে জামায়াত-এনসিপি?

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম

লংমার্চের মধ্য দিয়ে কি ‘বড় আন্দোলনের’ পথ খুঁজছে জামায়াত-এনসিপি?

Advertisement

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পাটির (এনসিপি) ১১ দলীয় ঐক্য জোট ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লংমার্চ ও পথসভা করেছে। আগামী দুই মাসে আরও তিনটি বিভাগে একই ধরনের কর্মসূচি রেখেছে তারা। কর্মসূচির শেষে নভেম্বরে ঢাকায় মহাসমাবেশ করারও কথা রয়েছে। খবর বিবিসির।

গত ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চের যাত্রাপথে বিভিন্ন স্থানে পথসভা করেন জোটের নেতারা এবং তুলে ধরেন ছয় দফা বাস্তবায়নের দাবি।

কিন্তু প্রথম দিনের কর্মসূচিতেই এমন মন্তব্য আসে- লংমার্চে বাধা দেওয়া হলে বা দাবি পূরণ না হলে সরকার পতনের একদফা দেওয়া হবে।

কর্মসূচির শুরুতে ঢাকায় যে সমাবেশ হয়, সেখানে জোটের অন্যতম শরিক দল এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার যদি লংমার্চে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে ‘ছয় দফা এক দফায় পরিণত হবে’।

অন্যদিকে কর্মসূচির শেষ হয় যেখানে, সেই লালদিঘীর সমাবেশে এগার দলীয় জোটের প্রধান দল জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান সরকারকে সতর্ক করেন, বিরোধী দলের আন্দোলন ‘ঈদের পরের আন্দোলন হবে না’।

সরকার থেকেও অবশ্য এর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

যদিও আগেই খোদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কর্মসূচিকে ইঙ্গিত করে বলেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করে অরাজকতা তৈরি চেষ্টা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদেও তিনি মন্তব্য করেন, আমরা দেখলাম, একটি বিশাল গাড়ির লংমার্চ আয়োজন করা হয়েছিল। বাইরে বিভিন্ন মানুষ একটি কথা বলে যে জনগণকে অযথা উত্তেজিত করে অন্য কিছু করার অপচেষ্টা করা হয়েছিল কিনা? গাড়ির লংমার্চ করে যদি গ্যাস বা বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান করাই যেত, তাহলে আমরাই সবচেয়ে আগে লংমার্চের আয়োজন করতাম।

এসব বক্তব্যের পর প্রশ্ন উঠছে, এ লংমার্চ কর্মসূচির মাধ্যমে বিরোধী দল কি সরকারকে বড় আন্দোলনের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে চায়?

সরকার কেন সন্দেহ করছে?

জামায়াত-এনসিপির কর্মসূচির দিনই ঢাকায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, দেশে অরাজকতার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা খেয়াল করছি কিছু রাজনৈতিক দল, কিছু ব্যক্তি, বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টি চেষ্টা করছে এবং বিভ্রান্তি তৈরির মাধ্যমে দেশে একটি অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে। কেউ যদি অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়, অবশ্যই দেশের আইনে বলে দেওয়া আছে কীভাবে অরাজকতাকে কন্ট্রোল করতে হবে।

পরদিন দলটির পক্ষ থেকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদও বিরোধী দলের কর্মসূচির সমালোচনা করেন।

কিন্তু সরকারের এমন সমালোচনা বা সন্দেহের কারণ কী? কিংবা বিরোধী দলের কর্মসূচি নিয়েই বা কেন উদ্বিগ্ন। এমন প্রশ্নে দুটি বিষয় উঠে আসছে।

একটি হচ্ছে, সরকার মাত্র ছয় মাস পার করেছে। এর মধ্যেই এমন আন্দোলনের যৌক্তিকতা দেখছে না বিএনপি।

দ্বিতীয়টি হচ্ছে, কর্মসূচি ঘিরে সম্ভাব্য ‘অস্থিরতা সৃষ্টির তথ্য’।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন বলেন, জামায়াতের এ লংমার্চকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ এক ধরনের সুযোগ নিতে চেয়েছিল- এ লংমার্চের মধ্যে ঢুকে তারা এক ধরনের অঘটন ঘটাবে। এখানে সরকারের কাছে তথ্য ছিল। যেকারণে সরকারের পক্ষ থেকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছিল যাতে করে সরকার পতন কিংবা সরকারকে দায় চাপানোর রাজনীতি কেউ না করতে না পারে।

তার মতে, গণভোটসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রতারণা করে গেছে এবং এর বাইরে আওয়ামী লীগ সরকারের ষোল বছরের যে ‘অব্যবস্থাপনা’ সেটার দায় বিএনপির নয়।

কিন্তু জামায়াত এসবের দায় ‘বিএনপির উপর চাপিয়ে চাপিয়ে লংমার্চ কর্মসূচি করছে’ বলেও তিনি মনে করেন।

‘বড় আন্দোলনের’ পথ তৈরি করছে জামায়াত?

লংমার্চে জামায়াত নেতৃত্বাধীন এগার দলীয় জোট থেকে দাবি তুলে ধরা হয়েছে মূলত ছয়টি।

যেখানে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাসের সংকট, দুর্নীতি- দলীয়করণ বন্ধ করা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের দাবি করা হয়েছে।

কিন্তু সরকারের ছয় মাস পার হতে না হতেই এসব দাবি সামনে রেখে বড় ধরনের কর্মসূচিকে সন্দেহ করছে বিএনপি।

আবার জামায়াতের কর্মসূচি থেকেও এটা স্পষ্ট যে, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে তারা সরকারকে রাজপথেও চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়ার পথ তৈরি করতে চায়।

জোটের ঘোষণা অনুযায়ী, পরবর্তী লংমার্চ হবে ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে ১৯ সেপ্টেম্বর।এরপর খুলনায় ১০ অক্টোবর। আর ২৪ অক্টোবর লংমার্চ হবে সিলেটে।

বিভাগীয় শহরে চারটি লংমার্চ শেষে নভেম্বরে ঢাকায় হবে মহাসমাবেশ। যেখান থেকে আসবে পরবর্তী কর্মসূচি বা ঘোষণা।

কিন্তু বিএনপি সরকার ক্ষমতা নেওয়ার মাত্র ছয় মাস হতেই কেন এরকম ধারাবাহিক কর্মসূচিতে যাচ্ছে এগার দলীয় জোট?

জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, সরকার একেবারে প্রথম দিনেই গণভোটের রায়কে অস্বীকার করেছে। যেকোনো একটা সরকারের কিছু সময় যাওয়ার পরে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের বিষয়গুলো আসে। কিন্তু এই সরকারের ক্ষেত্রে বিষয়টা এমন না। তারা একেবারে শুরুর দিনেই যে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ছিল যে, গণভোটের গণরায়কে তারা বাস্তবায়ন করবে- এটাকে তারা অস্বীকার করেছে।

তার মতে, পরিস্থিতিই তাদের আন্দোলনের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

অন্যদিকে একইরকম মত দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেন, প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডারে দুটো ম্যান্ডেটরি টাইম ছিল। সংসদের প্রথম অধিবেশন যেদিন শুরু হবে, তার ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকতে হবে। আপনি ডাকেন নাই। ছয়মাসের মধ্যে জুলাই চার্টার বাস্তবায়ন করে সংবিধানে তফশিল অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এই সেপ্টেম্বরে সেই ছয় মাসও শেষ হয়ে যাচ্ছে। 

মিয়া গোলাম পরওয়ার মনে করেন, সরকার গণভোটের রায় কিংবা জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন তো করছেই না বরং ‘ইচ্ছেমতো চলার’ প্রবণতা তৈরি হয়েছে; যেকোনো আইন পাশ থেকে শুরু করে সবখানেই এটা দেখা যাচ্ছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে আপনি যা ইচ্ছা, তা-ই করে যাবেন, এজন্য তো লোকেরা উনাদের ভোট দেয় নাই। আর আপনি যদি ৫০ শতাংশ ভোট পেয়ে মেজরিটি হন, তাহলে গণভোটে তো প্রায় ৭০ শতাংশ হ্যাঁ ভোটের পক্ষে পড়েছে। সেটা মানবেন না?

আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে তিনি বলেন, এখন এই যে, বলা হচ্ছে মাত্র ছয় মাস হলো, এখন এমন কী হয়েছে! ...কিন্তু এতোগুলো প্রাণের বিনিময়ে যে গণআকাঙ্ক্ষা, আপনি তাকে অস্বীকার করে যাচ্ছেন! এর চেয়ে বড় আর কী হতে পারে?।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম