ক্ষমতা গেছে, টাকা পাচার থামেনি: এখনো মাসে কোটি টাকা ঢুকছে নানকের পকেটে
Advertisement
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০১ পিএম
সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পতনের ২ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও থামেনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের অর্থ পাচার। দেশে বসে থাকা তার বিপুল সম্পত্তি থেকে প্রতি মাসে যে পরিমাণ আয় হচ্ছে, তার প্রায় পুরোটাই অবৈধ পথে চলে যাচ্ছে ভারতে, যেখানে দুই বছর ধরে পলাতক জীবন যাপন করছেন তিনি।
অক্ষত সাম্রাজ্য
বরিশাল নগরীর বটতলা এলাকার এই নেতার নামে-বেনামে ছড়িয়ে থাকা সম্পত্তির পরিমাণ শত কোটি টাকারও বেশি বলে জানা গেছে। রাজধানীর উত্তরায় একটি ছয়তলা ও মোহাম্মদপুরে একটি আটতলা ভবনের পাশাপাশি বরিশাল শহরেও একাধিক বাড়ি রয়েছে তার। রুপাতলী, মতাসার, সার্কুলার রোড ও করিম কুটির এলাকাতেও ছোট-বড় একাধিক স্থাপনা থেকে নিয়মিত ভাড়া আদায় হচ্ছে। এসবের বাইরে বরিশালের নথুল্লাবাদ এলাকায় নানক দম্পতির মালিকানাধীন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ও প্রতি মাসে যথেষ্ট আয় করছে।
সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, সরকার পতনের পর এসব সম্পত্তির একটিতেও কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ হয়নি। বরিশালের বাড়িগুলোতে যেমন প্রতিবাদের কোনো চিহ্ন পড়েনি, তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমও চলছে আগের মতোই স্বাভাবিক গতিতে।
হিসাবে গরমিল
২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে জমা দেওয়া হলফনামায় নিজের ও স্ত্রীর নামে মাত্র ৬৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য দিয়েছিলেন নানক। ১৬ বছর পর ২০২৪ সালের নির্বাচনে সেই অঙ্ক দাঁড়ায় ১৯ কোটি টাকায়— কাগজে-কলমে প্রায় ৩০ গুণ বৃদ্ধি। তবে প্রকৃত সম্পদের পরিমাণ এর চেয়ে বহুগুণ বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে, কারণ হলফনামায় উল্লেখই করা হয়নি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়টির কথা, এমনকি এর আয়-ব্যয়ের কোনো হিসাবও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে দেওয়া হয়নি। বরিশালের প্রবেশপথে থাকা আট একর জমির তথ্যও রাখা হয়নি হলফনামায়।
টাকা যেভাবে দেশ ছাড়ে
সংগৃহীত ভাড়া ও প্রাতিষ্ঠানিক আয় নিয়মিতভাবে হুন্ডির মাধ্যমে পাঠানো হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে। বরিশাল শহরের দুই ব্যবসায়ী— একজন হোটেল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, অন্যজন স্বর্ণ ব্যবসার আড়ালে হুন্ডি কার্যক্রম চালান— সরাসরি এই অর্থ পাঠানোর দায়িত্বে রয়েছেন। অন্যদিকে ঢাকার সম্পত্তি থেকে আসা আয় পাঠানো হয় ভিন্ন পথে, বেনাপোল সীমান্তের একটি মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। যশোরে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা হওয়ার পর তা রুপি আকারে পৌঁছে যায় নানকের কাছে। পুরো প্রক্রিয়াটি তদারক করেন তার এক নিকটাত্মীয়।
এসব বিষয়ে জানতে জাহাঙ্গীর কবির নানকের পরিচিত সবকটি নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিটিই বন্ধ পাওয়া গেছে। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তারও কোনো জবাব দেননি তিনি।

