সংকট মোকাবিলায় সরকারের অদক্ষতা জাতির কাছে স্পষ্ট: হামিদুর রহমান
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম
মিন্টো রোডে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির জরুরি বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে কথা বলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, সরকার বিভিন্ন সংকটের ক্ষেত্রে অদক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে, জাতির সামনে তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ছয় মাস সরকারের জন্য বেশি সময় নয়, কিন্তু বিকল্প পরিকল্পনা ও সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়ে অপেক্ষা করার সুযোগও নেই।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) মিন্টো রোডে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির জরুরি বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলন।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জুলাই আন্দোলনের প্রতিশ্রুতি ও চেতনা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংস্কার ও বিচারের যে দাবি উঠেছিল, সংসদে ১১ দলের প্রতিনিধিরা শুরু থেকেই সে বিষয়ে ভূমিকা রেখে আসছেন। সাংবিধানিক সংস্কারের বিষয়ে জনগণের মতামত জানতে গণভোট হয়েছে এবং সেখানে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোট পড়েছে। সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে যে শপথ নেওয়ার কথা ছিল, সেটিও তারা না দিয়ে গণরায় উপেক্ষা করেছে।
তিনি বলেন, সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়গুলোর একটি ছিল পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও তেল সংকট। এ সংকটের কারণে রাস্তায় গাড়ি চলাচল ব্যাহত হয়েছে, কৃষকরাও সমস্যায় পড়েছেন। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিষয়টি সংসদে আলোচনার জন্য তোলা হয়েছিল। সরকারকে আলোচনার মাধ্যমে সংকট মোকাবিলার আহবান জানানো হলেও তারা কোনো কার্যকর সমাধান দিতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, সরকারি দল ও বিরোধী দলকে নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে সংকট মোকাবিলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে ১০টি প্রস্তাবও দেওয়া হয়। কিন্তু সরকার সেগুলোর কোনোটিই আমলে নেয়নি। বরং তেল সংকটের অজুহাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে।
গ্যাস সংকটের বিষয়ে ১১ দলের সমন্বয়ক বলেন, গ্যাসের অভাবে শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। দেশের প্রায় ১২০০ বেকারি বন্ধ হয়ে গেছে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর এসেছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পও এর প্রভাবের মধ্যে পড়ছে। অর্ডার বাতিল হয়ে গেলে তা পার্শ্ববর্তী দেশে চলে যেতে পারে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ভয়াবহ হবে।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইন্টেরিম সরকারের সময় দ্রব্যমূল্য নিয়ে অনেক সমালোচনা করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকার আসার পর দ্রব্যমূল্য হুহু করে বেড়ে গেছে। বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, মনিটরিং এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে হামিদুর রহমান বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। একের পর এক লোমহর্ষক ঘটনা ঘটছে। গুম, খুন ও অপহরণের ঘটনা ঘটছে।
পুলিশ সদর দপ্তর ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ৫১৮টি শিশু অপহরণের মামলা হওয়ার তথ্য সামনে এসেছে। রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে নিজ বাসায় হত্যা করা হয়েছে। বিরোধী দলের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বহরে হামলা এবং জামায়াতে ইসলামীর পাঁচ নেতাকর্মী নিহত হওয়ার ঘটনাও তিনি উলেখ করেন। একটি স্কুল কমিটি দখল করতে গিয়ে মানুষ হত্যার ঘটনাও ঘটেছে।
দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব বন্ধ হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার দুর্নীতি দমন, চাঁদাবাজি বন্ধ ও দখলদারিত্ব বন্ধের কথা বলেছিল, কিন্তু বাস্তবে এগুলোর কোনোটিই বন্ধ হয়নি। দেশের অর্থনৈতিক সংকট সমাধানে রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রয়োজন। সমবেতভাবে এ সংকট সমাধানে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। কিন্তু সরকার বিরোধী দলের কোনো প্রস্তাব আমলে নিচ্ছে না।
এ অবস্থায় ১১ দলীয় ঐক্য রাজপথে আন্দোলন অব্যাহত রাখবে জানিয়ে তিনি বলেন, সংসদে সমস্যার সমাধান না হওয়ায় তারা রাজপথে কর্মসূচি দিচ্ছেন। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে প্রথম লংমার্চ শেষ হয়েছে। সেখানে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি মানুষের সাড়া পাওয়া গেছে। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। ঐদিন সকাল ৭টায় মানিক মিয়া এভিনিউতে জমায়েত হবে। এক ঘণ্টার উদ্বোধনী সভা শেষে লংমার্চ শুরু হবে। পথে পাঁচটি পথসভা অনুষ্ঠিত হবে এবং রংপুর জেলা স্কুল মাঠে গিয়ে সমাপনী জনসভা হবে।
তিনি বলেন, ছয় দফা দাবি এখন সাত দফায় রূপান্তরিত হয়েছে। দেশে দুর্নীতি প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে চলছে এবং দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজি বিগত ফ্যাসিস্ট আমলকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এ কারণে নতুন করে এ দাবি যুক্ত করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, এবি পার্টির অ্যাডভোকেট আব্দু্ল্লাহ আল মামুন, বিডিপির মহাসচিব নিজামুদ্দিন নাঈম, বাংলাদেশ লেবার পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান এসএম ইউসুফ আলীসহ ১১ দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের প্রস্তুতি সভা: ৭ দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য আহুত ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রংপুরের লংমার্চ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে এক প্রস্তুতি সভা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে রোববার বেলা ১২টায় মহানগরীর বারিধারাস্থ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, নাজিম উদ্দীন মোল্লা, ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, ইয়াসিন আরাফাত, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য জিয়াউল হাসান, জামাল উদ্দিন, আতাউর রহমান সরকার প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, জামায়াতসহ ১১ দলের গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নসহ ৭ দফা দাবি সরকার যত দ্রুত মেনে নিবে ততই কল্যাণকর হবে। না হয় এদেশের জনগণকে সংগঠিত করে তা বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করা হবে। তিনি লং মার্চ বাস্তবায়নে নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।


