Logo
Logo
×
   

Advertisement

রাজনীতি

শ্রমবাজার ব্যবস্থাপনার পুনর্বিন্যাস প্রয়োজন: আসাদুজ্জামান রিপন

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪২ পিএম

শ্রমবাজার ব্যবস্থাপনার পুনর্বিন্যাস প্রয়োজন: আসাদুজ্জামান রিপন

Advertisement

দেশের শ্রমবাজার ব্যবস্থাপনার পুনর্বিন্যাস এবং অভিবাসন খাতের অনিয়ম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন। তিনি বলেছেন, প্রবাসীদের কষ্টের আয়ে চলা রেমিট্যান্সের বড় একটি অংশ আজ একশ্রেণির ধনী মানুষের বিদেশে অর্থ পাচার ও সন্তানদের বিলাসবহুল পড়াশোনার পেছনে ব্যয় হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি: ফের সিন্ডিকেট! অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়! বাড়তি ফি ও অর্থপাচারের ফাঁদে অসহায় বিদেশগামী নাগরিক’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনা সভায় অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) এ সভার আয়োজন করে।

অতীতের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, বিদেশে সাধারণ প্রবাসীরা রিয়াল-দিরহাম বাঁচিয়ে, হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে দেশের নেতাদের সম্মান জানান। অথচ দেশের একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী সেই প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভর করে দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করছে।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত ১২ বছরে প্রায় ৪০ হাজার প্রবাসী শ্রমিক মারা গেছেন, যাদের গড় বয়স মাত্র ২৫ থেকে ৩৭ বছরের মধ্যে। অতিরিক্ত কাজের চাপ, অসহনীয় তাপমাত্রা এবং অমানবিক জীবনযাপনের ফলেই মূলত স্ট্রোক ও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তারা মৃত্যুবরণ করছেন। কোটি কোটি ডলার রেমিট্যান্স এলেও এর পেছনে লুকিয়ে থাকা শ্রমিকের এই অমানবিক শোষণ এবং সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধে শ্রমবাজারের আমূল পুনর্বিন্যাস প্রয়োজন।

শুধু শ্রমবাজার নয়, দেশের বিচার অঙ্গনসহ প্রতিটি স্তরে সিন্ডিকেট ও নৈরাজ্য চলছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির এই নেতা।

তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট বারের প্রেসিডেন্ট নিজেই বলেছেন—বেঞ্চ ক্লার্ক থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরে ঘুষ না দিলে মামলার নিষ্পত্তি হয় না। নিম্ন আদালত থেকে শুরু করে উচ্চ আদালত পর্যন্ত আজ দালাল ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ জিম্মি।

আদালতের কার্যক্রমে অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, আদালতের গুরুত্বপূর্ণ নথি আজ আউটসোর্সিংয়ের নামে ডেপুটেশনে থাকা সাধারণ মানুষের হাতে চলে যাচ্ছে, যা বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, হাজার হাজার মানুষের প্রাণদান এবং শত শত তরুণের পঙ্গুত্ববরণ কোনো সিন্ডিকেট টিকিয়ে রাখার জন্য নয়। ৫ আগস্টের পর দেশের মানুষের মনে যে পরিবর্তনের স্বপ্ন তৈরি হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে প্রশাসন ও সমাজে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় এই আত্মত্যাগ বৃথা যাবে।

শ্রমবাজারের বিভিন্ন স্তরে চাঁদাবাজি, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় এবং অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, সরকার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রিক্রুটিং এজেন্সি নিয়োগ দেয়। দেশের নাগরিকদের আহ্বান করব, আপনারা যেসব দালাল বা এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশে যান, তাদের বিষয়ে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত ভাইদের কাছে খোঁজখবর নিয়ে এরপর টাকা লেনদেন করবেন। সাংবাদিকদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান করব, আপনারা এসব চক্রের বিরুদ্ধে দেশের মানুষকে সচেতন করুন।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত। শ্রমিকদের স্বার্থে সিন্ডিকেটনির্ভর ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

বিদেশে যাওয়ার আগে শ্রমিকদের সচেতন ও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জেনে-বুঝে এবং যথাযথভাবে যাচাই করে প্রবাসে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অনেক এজেন্সি ইতোমধ্যে ভাইভা নেওয়া শুরু করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, দেশের সরকার এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষকে শ্রমিকদের স্বার্থে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম