জামায়াত ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ‘অস্তিত্বের সংকটে’ পড়ে গেছে, অভিমত সাবেক নেতার
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১২ পিএম
সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক তার লেখা বইয়ে মন্তব্য করেছেন, দলের নেতৃত্ব একাধিক নীতিগত ও মারাত্মক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার ফলে জামায়াত এখন পড়েছে ‘অস্তিত্বের সংকটে’। ‘বাংলাদেশ জামায়াত-ই-ইসলামী: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিকস’ শিরোনামের বইটিতে তিনি এই মূল্যায়ন তুলে ধরেছেন।
দলের সঙ্গে দীর্ঘ ৩৩ বছরের সম্পর্কের অভিজ্ঞতা থেকে লেখা এই বইয়ে রাজ্জাক মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকা, একাত্তর ইস্যুতে ক্ষমা চাওয়ার প্রসঙ্গ ও দলের অভ্যন্তরীণ নানা টানাপোড়েনের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, একাত্তরে ভূমিকার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার খসড়া তৈরি হয়েছিল এবং এ নিয়ে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা দফায় দফায় বৈঠকও করেছিলেন। তবে কখনো নেতৃত্বের মত পরিবর্তন, কখনো দলীয় কমিটির বিরোধিতা, আবার কখনো প্রভাবশালী ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে সেই উদ্যোগ থেমে যায়।
বইয়ের ‘রিফর্ম এজেন্ডা উইদইন জামায়াত’ অধ্যায়ে তিনি লিখেছেন, ২০১৯ সালে এক পর্যায়ে জামায়াতের নির্বাহী কমিটি একাত্তরের বিষয়টি মোকাবিলা করে দল বিলুপ্ত করে নতুন দল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে পরবর্তীতে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে দলটি। এর পরপরই রাজ্জাক দল থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, আবদুর রাজ্জাক তার বইয়ে দেখেছেন, জামায়াতের নেতৃত্বে ঘাটতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষয় হয়েছে। জামায়াত যেভাবে সংগঠন ও কর্মসূচি তৈরি করে, সেখানে কোনো ভিশনারি লিডারশিপ আছে কিনা—তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি। আলী রীয়াজের মতে, আদর্শিক অবস্থানের কারণে দলটির জন্য বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার সুযোগ সীমিত হয়ে এসেছে এবং আগামী দিনের পথচলায়ও তাদের অনেক বাধা অতিক্রম করতে হবে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরীও একই সুরে বলেন, মূল ধারার রাজনীতিতে টিকে থাকতে হলে জামায়াতের ভেতরে সংস্কার প্রয়োজন। তার মতে, দলটি এখনো দাওয়া ও রাজনীতিকে আলাদা করতে পারেনি, যা তাদের আলাদা করতে হবে।
তবে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ রাজ্জাকের এসব মূল্যায়ন প্রসঙ্গে সরাসরি প্রতিক্রিয়া না দিলেও, দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া মজলিসে শূরা, কর্মপরিষদ ও নির্বাহী পরিষদ—এই তিনটি ফোরামের মাধ্যমে পরামর্শের ভিত্তিতে পরিচালিত হয় বলে দাবি করেন তিনি।
দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যে চিকিৎসাধীন থাকা রাজ্জাক ২০২৫ সালের ৪ মে দেশে ফেরার পর ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
