Logo
Logo
×
   

Advertisement

রাজনীতি

আমাদের ‘প্রাইস শক’ নয়, প্রয়োজন ‘প্রাইস এডজাস্টমেন্ট’: মঞ্জু

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২৪ পিএম

আমাদের ‘প্রাইস শক’ নয়, প্রয়োজন ‘প্রাইস এডজাস্টমেন্ট’: মঞ্জু

বক্তব্য রাখছেন মজিবুর রহমান মঞ্জু।

Advertisement

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, পরিবহণ ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির বাস্তবতা রয়েছে। তবে সেই চাপ একসঙ্গে জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে ধাপে ধাপে ও ভারসাম্যপূর্ণভাবে মূল্য সমন্বয় করা যেত। কিন্তু জনস্বার্থের তোয়াক্কা না করে ৭ মাসে ২ বার জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সরকারের দেউলিয়াত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বলে দাবি করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিজয়নগরে এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি: জনস্বার্থ ও অর্থনীতির ওপর প্রভাব’ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এসব কথা বলেন। 

জ্বালানির প্রভাব নিয়ে মূল বক্তব্য রাখেন দলের ছায়া সরকারবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান। আরও উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূইয়া, অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, মো. আলতাফ হোসাইন, শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান।

মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, সরকার ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে। কৃষি, সেচ, গণপরিবহণ ও পণ্য পরিবহণে ডিজেলের ব্যবহার বেশি হওয়ায় এ মূল্যবৃদ্ধির বহুমাত্রিক প্রভাব পড়বে কৃষক, শ্রমিক, পরিবহণ খাত ও সাধারণ ভোক্তার ওপর। আন্তর্জাতিক বাজারের বাস্তবতা সরকারকে মোকাবিলা করতে হবে। কিন্তু সেই চাপ একবারে জনগণের ওপর চাপিয়ে দিতে হবে, এমন কোনো নীতি নেই। আমাদের ‘প্রাইস শক’ নয়, প্রয়োজন ‘প্রাইস এডজাস্টমেন্ট’। 

এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ডিজেলের দাম বাড়ায় সেচ পাম্প, পাওয়ার টিলার, হারভেস্টার ও অন্যান্য কৃষিযন্ত্রের পরিচালন ব্যয় বাড়বে। ফলে কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও পরিবহণ ব্যয়ও বাড়তে পারে। আগস্টে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং জাতীয় মজুরি বৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ ছিল। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতার ওপর আরও চাপ তৈরি করবে।

আব্বাস ইসলাম খান নোমান বলেন, সরকার জানিয়েছে, মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে বেশি দামে জ্বালানি কিনে কম দামে বিক্রি করায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) প্রায় ২২ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকা লোকসান করেছে। এই চাপ বাস্তব হলেও আন্তর্জাতিক বাজারদর, পরিবহণ ব্যয়, বিমা, বিনিময় হার, কর, হ্যান্ডলিং ও বিতরণ ব্যয়সহ বিপিসির প্রকৃত ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব জনগণের সামনে প্রকাশ করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সংকটকালীন সময়ে আমদানি শুল্ক ও কর সাময়িকভাবে সমন্বয়, বিপিসির দক্ষতা বৃদ্ধি, অপচয় ও জ্বালানি চুরি বন্ধের বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

এবি পার্টির এই নেতা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন,

১. কৃষি, সেচ, গণপরিবহণ ও পণ্য পরিবহণে ব্যবহৃত ডিজেলের ওপর চাপ কমাতে পৃথক মূল্যনীতি গ্রহণ;

২. একবারে বড় মূল্যবৃদ্ধির পরিবর্তে ধাপে ধাপে মূল্য সমন্বয়;

৩. আন্তর্জাতিক বাজার, বিনিময় হার, আমদানি ব্যয় ও করের ভিত্তিতে স্বচ্ছ ও সূত্রভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি কার্যকর এবং দাম কমলে জনগণকে সুফল দেওয়া;

৪. সংকটকালে আমদানি শুল্ক ও কর সাময়িকভাবে সমন্বয়ের বিষয় বিবেচনা;

৫. প্রকৃত কৃষক ও কৃষিযন্ত্রের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক ডিজেল সহায়তা চালু;

৬. জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির সুযোগে অযৌক্তিক পরিবহণ ভাড়া বৃদ্ধি ঠেকাতে কার্যকর ভাড়া সমন্বয় ব্যবস্থা;

৭. বিপিসির আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহণ, বিতরণ, ক্রয়, ব্যবস্থাগত ক্ষতি ও জ্বালানি চুরির ওপর স্বাধীন পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষা;

৮. সীমান্তপথে জ্বালানি পাচার বন্ধে ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও চোরাচালান চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা;

৯. সংকট মোকাবিলায় কৌশলগত জ্বালানি জরুরি তহবিল গঠন;

১০. সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির নিরীক্ষা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা;

১১. দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় জ্বালানি অনুসন্ধান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জ্বালানি দক্ষতায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

ব্যারিস্টার নোমান আরও বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কৃষি উৎপাদন, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য রেখে নীতি গ্রহণ করতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারের বাস্তবতা মেনে নিয়েও জনগণের ওপর এককালীন বড় মূল্য-ধাক্কা এড়ানো সম্ভব। সরকারের রাজস্ব বাড়াতে হবে, কিন্তু মানুষের পকেট কেটে নয়। কর ফাঁকি বন্ধ, অপ্রয়োজনীয় সরকারি ব্যয় কমানো, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের অপচয় ও দুর্নীতি বন্ধ এবং ‘প্রগ্রেসিভ রিভিনিউ মবিলাইজেশন’-এর মাধ্যমে রাজস্ব বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। আমাদের প্রয়োজন স্বচ্ছ, পূর্বানুমানযোগ্য ও ন্যায়সংগত জ্বালানি মূল্যনীতি।

কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) গাজী নাসির, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির আহ্বায়ক কেফায়েত হোসাইন তানভীর, গণশিক্ষা ও পাঠাগারবিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার ফারুক, গণপরিবহনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, সদস্য সচিব সামিউল ইসলাম সবুজ, মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব বারকাজ নাসির আহমদ, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির সদস্য সচিব তোফাজ্জল হোসাইন রমিজ, সহসাংগঠনিক সম্পাদক (শাজাহান ব্যাপারী), নাটোর জেলার আহ্বায়ক মোকাররেবুর রহমান নাসিম, নারী উন্নয়নবিষয়ক সহসম্পাদক শাহিনুর আক্তার শিলা, আমেনা বেগম, সহদপ্তর সম্পাদক মশিউর রহমান মিলু, উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক সুমাইয়া শারমিন ফারহানা, ঢাকা মহানগর উত্তরের যুব পার্টির আহ্বায়ক মাহফুজার রহমান ইমতু, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব রাশিদা আক্তার মিতু, যুব পার্টির ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব ইশরাত জাহান লিজা, কেন্দ্রীয় নেতা আবু রাইয়ান আশয়ারী রছী, মোহসীনুল হক চৌধুরী, যাত্রাবাড়ী থানার আহ্বায়ক মিয়া সুলতান আরিফ, রমনা থানার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের মুন্সী ও বরিশালের নেতা জাকির হোসেন।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম