ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঘটলে রাষ্ট্রই থাকবে না: রিজভী
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম
রুহুল কবির রিজভী। সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি ঘটলে গণতন্ত্র তো দূরের কথা, রাষ্ট্রই আর টিকবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তিনি বিরোধী দলসহ সবার প্রতি জাতীয় ঐক্যের ধারা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বিএফইউজের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ আহ্বান জানান।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখতে হলে যত কর্মসূচি, বিতর্ক বা তীব্র সমালোচনা থাকুক না কেন, একটি ন্যূনতম জোটসূত্র বা বোঝাপড়ার জায়গায় কাজ করতে হবে। অন্যথায় ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঘটলে কেউ রক্ষা পাবেন না। কারণ তারা অত্যন্ত ভয়ংকর জায়গা থেকে মদদ পাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশের ফরেন পলিসি স্বাধীনভাবে করা এবং অর্থনৈতিক সংকট সত্ত্বেও নিজ পায়ে দাঁড়ানোর যে আস্থার জায়গাটি তৈরি হয়েছে, তা আমাদের ধরে রাখতে হবে। অতীতে শেখ হাসিনার আমলে বিরোধী দলের লংমার্চ বা কর্মসূচিতে পদে পদে পুলিশ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ বাধা দিত এবং সাধারণ মানুষের বাস আক্রমণ করে রক্তাক্ত করা হতো। অথচ বর্তমান সময়ে বিরোধী দলের কর্মসূচিতে বা লংমার্চে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি, যা শেখ হাসিনার আমলে যা ছিল অবিশ্বাস্য।
দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা জেলায় জেলায় নির্দেশনা দিয়েছিলাম যেন বিরোধী দলের কর্মসূচিতে কেউ কোনো বাধা না দেয় এবং সেটি আমরা বজায় রেখেছি। গণতন্ত্রে বিরোধী দল তাদের কর্মসূচি পালন করবে, কথা বলবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু গণতন্ত্র মানে যা ইচ্ছা তা বলা নয়।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে ‘তুই করে সম্বোধন করার সংস্কৃতি’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি সজীব ওয়াজেদ জয়ের কালচার। তিনি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে এভাবেই সম্বোধন করতেন। ১৭ বছর ধরে আমরা বিরোধী দলের রাজনীতি করার অধিকার হরণ এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের অপপ্রচার দেখেছি। সেই সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি রোধে আমরা মার্জিত অথচ কঠিন ও তীব্র ভাষায় সমালোচনা করার চেষ্টা করছি।
সভায় রুহুল আমিন গাজীর স্মৃতিচারণ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমরা যখন কঠিন দুর্দিনে ফ্যাসিবাদের নিপীড়নের শিকার হচ্ছিলাম, তখন আল্লাহর কাছে একটাই দোয়া করতাম—কমপক্ষে হাসিনার পতন যেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেখে যেতে পারেন। গাজী ভাইও আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু হাসিনার পতন উনি দেখে যেতে পেরেছেন—এটাই বড় সান্ত্বনা।
রুহুল আমিন গাজীকে 'সময়ের বিবেকের প্রতিনিধি' ও 'সত্য ভাষণের অনন্য প্রতিকৃতি' হিসেবে উল্লেখ করে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন রুহুল কবির রিজভী।
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী আক্রমণ থেকে প্রেস ক্লাবও মুক্ত ছিল না। প্রেস ক্লাবের ভেতর থেকে পুলিশ যেভাবে ৬০-৭০ জন ফোর্স নিয়ে এসে তাকে গ্রেফতার করেছিল, তা এক বিরল ও ফ্যাসিবাদের চরম বহিঃপ্রকাশ। হিটলার বা মুসোলিনির আমলেও যেমন কিছু বুদ্ধিজীবী ও সাংবাদিক ফ্যাসিজমকে সমর্থন জুগিয়েছিল, তেমনি আমাদের দেশেও অনেকে তাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। কিন্তু রুহুল আমিন গাজী সব নিপীড়ন সহ্য করে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিলেন।
তিনি গণতন্ত্র ও ইসলাম পছন্দ করতেন এবং দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করতেন বলেই শেখ হাসিনার শত্রু পক্ষে পরিণত হয়েছিলেন।
অনুষ্ঠানে জ্বালানি সংকট ও বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, চারপাশের পরিস্থিতি এখনও শঙ্কামুক্ত নয়।
ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের একটি প্রতিবেদনের উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে টেলিফোনে বোমা হামলা চালিয়ে তার ছবি পাঠানোর নির্দেশ দেওয়ার মতো ভয়ংকর তথ্যও সংবাদে আসছে। সুতরাং, বাংলাদেশকে কোনো দেশের 'পেছনের উঠান' বা পশ্চাৎভূমিতে পরিণত করার ষড়যন্ত্র যেন সফল না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
ডিইউজের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক খুরশিদ আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ডিইউজের সাবেক সভাপতি এলাহি নেওয়াজ খান সাজু, যুগান্তর সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার, বিএফইউজের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাসির জামাল, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভুঁইয়া, বিএফইউজের সহ-সভাপতি একে এম মোহসিন ও খাইরুল বাশার, প্রয়াত রুহুল আমিন গাজীর ছেলে আফ্ফান আবরার আমীন প্রমুখ।

-6ab4f59d49df1.jpg)