জামায়াতকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য রাশেদ খানের
Advertisement
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম
নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, জামায়াত একটি হঠকারী রাজনৈতিক দল। তারা সিদ্ধান্তহীনতায় সবসময় ভোগে। একাত্তরেও জামায়াতে ইসলামী সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছিল। জনগণের পক্ষে অবস্থান করবে নাকি সেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পক্ষে অবস্থান করবে? একাত্তরে জামায়াত সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করেছে। পরবর্তীতে প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে জামায়াত সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগেছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ঝিনাইদহ শিশু কুঞ্জু স্কুল অ্যান্ড কলেজে অনুষ্ঠিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, জামায়াতের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক সম্পর্ক নাই। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শরীয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার রাজনীতি করে। আর জামায়াতে ইসলামী মুখে শরীয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার কথা বললেও তারা আসলে মুনাফেকি রাজনীতি করে।
রাশেদ খানের ভাষায়, দুইটা ইসলামিক দলের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। জামায়াতের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মতাদর্শিক পার্থক্য থাকার কারণে মূলত একসঙ্গে তারা নির্বাচন করতে পারেনি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতারা যে বিষয়টি বলেছেন- তাদের নাকি বলা হয়েছিল সব ইসলামিক ভোট একটা বাক্সে যাবে; কিন্তু পরবর্তীতে তারা যে চরিত্র ধারণ করেছে- সেটি আসলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাদের বিপরীত মন্তব্য আছে।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী আরও বলেন, আমার কাছে মনে হয় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সম্মানিত আমির সাহেব আসলে একটি রাজনৈতিক সমালোচনা করেছেন এবং তার এই সমালোচনাকে আমি সাধুবাদ জানাই। ঠিক একইভাবে জামায়াতে ইসলামী যদি সরকারের যৌক্তিক সমালোচনা করত সেই সমালোচনাকে অবশ্যই আমরা সাধুবাদ জানাতাম। দলটি (জামায়াত) একদিকে জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে বলছে জ্বালানি সংকট একটি জাতীয় সংকট এবং সরকার আন্তরিকতার সহিত এই সংকট সমাধানে কাজ করছে। অন্যদিকে লংমার্চ করছে। এই যে জামায়াতের দ্বিচারিতা- এই দ্বিচারিতা নিয়ে জনগণের প্রশ্ন আছে। এই লংমার্চের আসলে ভিত্তিটা কী? কেন মাত্র সাত মাসের সরকারের বিরুদ্ধে এভাবে চরম কর্মসূচি?
তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ বলেন, বাংলাদেশের আশপাশে যে রাষ্ট্রগুলো রয়েছে সেখানে যদি বেড়ে যায় ডিজেলসহ অন্যান্য তেলের মূল্য, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ যদি আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে দাম সমন্বয় বা মূল্য সমন্বয় না করে সেক্ষেত্রে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোতে বাংলাদেশ থেকে জ্বালানি তেল পাচারের একটি আশঙ্কা থাকে। সেই জায়গা থেকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। কিন্তু এই জ্বালানি সংকটের মধ্যে ১ হাজার গাড়ি নিয়ে রংপুরে যাওয়ার অর্থটা কী? তার মানে এই জ্বালানি সংকটকে আরও বেশি ঘনীভূত করা। নতুন কূপ খনন করা, গ্যাসের সন্ধান করা এবং নতুন টার্মিনালের কাজ শুরু হয়েছে।
আগের তুলনায় লোডশেডিং এখন কিন্তু কম। দিন যত যাবে জ্বালানি সংকট তত কমে আসবে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান।
