Logo
Logo
×
   

Advertisement

রাজনীতি

বিরোধী দলের উদ্দেশে রিজভী

২৪-এর পরাজিত শক্তিকে আস্কারা দেবেন না

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৮ পিএম

২৪-এর পরাজিত শক্তিকে আস্কারা দেবেন না

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল-পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

Advertisement

চব্বিশের পরাজিত শক্তিকে কোনো ধরনের ‘আস্কারা’, প্রশ্রয় না দেওয়ার জন্য বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি অভিযোগ করেছেন, দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে রাজনৈতিকভাবে পরাজিত শক্তিকে পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল-পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, চব্বিশের গণআন্দোলনের পরাজিত শক্তি বিভিন্নভাবে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে অস্থির করার অংশ হিসেবে সহিংসতা ও নাশকতার ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসন করা এবং আগের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই এসব ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। চব্বিশের গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে, তা নস্যাৎ করার কোনো অপচেষ্টাই সফল হতে দেওয়া যাবে না। 

দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, পরাজিত শক্তির রাজপথে কোনো কার্যক্রম চালানোর অধিকার নেই। তবে অন্যান্য সকল রাজনৈতিক দলের সমাবেশ করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।

বিরোধী দলগুলোর প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন ও সরকারের সমালোচনা করা গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে এমন কোনো কর্মকাণ্ড করা উচিত নয়, যার সুযোগ নিয়ে পরাজিত শক্তি আবারও রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে; কিন্তু দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক থাকতে হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে বাসে আগুন, বিস্ফোরণ ও বোমা হামলার মতো ঘটনা তুলে ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, এগুলো পরিকল্পিতভাবে দেশের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার অপচেষ্টা। এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও অধিকারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে আর দুর্বল হতে দেওয়া যাবে না। জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করাই রাজনৈতিক দলগুলোর মূল দায়িত্ব।

বর্তমান সরকার ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রিজভী বলেন, ছাত্র-জনতার উত্তাল আন্দোলনে শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর অনুষ্ঠিত শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে জয়লাভ করে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন তারেক রহমান। তিনি দেশের শান্তি ও সুরক্ষার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করেছে বলেই বিরোধী দলগুলো নির্বিঘ্নে বিভিন্ন কর্মসূচি, বিক্ষোভ ও মিছিল করতে পারছে।

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণের কথা তুলে ধরে রিজভী জানান, প্রধানমন্ত্রী ৩৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল নিয়ে এতে অংশ নিয়েছেন। জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন— মরণ নয়, অস্ত্র নয়—পরিবর্তনের হাতিয়ার হবে কূটনীতি, শিক্ষা ও শান্তি। 

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ পৃথিবীর সব দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও তাদের স্বাধীন রাষ্ট্র পাওয়ার অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের জন্য বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য সারা বিশ্বের শান্তিকামী ও গণতন্ত্রকামী মানুষের আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন।

জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা রেজাউল কবীর পল, বিল্লাল হোসেন তারেক, জিয়াউর রহমান জিয়া, জাহাঙ্গীর আলম দুলাল, কামরুজ্জামান জুয়েল, নুরুল ইসলাম সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক দলের নাজমুল হাসান, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, শ্যামল মালুম, আমান উল্লাহ আমান প্রমুখ বক্তব্য দেন। 

সমাবেশে ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। সমাবেশ শেষে অস্থিতিশীলতা তৈরির অপচেষ্টার প্রতিবাদে নয়াপল্টন থেকে মিছিল বের করা হয়।  

এর আগে বাদ জুমা বায়তুল মোকাররম এলাকায় ওলামা দলের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে রুহুল কবির রিজভী বক্তব্য রাখেন।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম