Logo
Logo
×

Advertisement

রাজনীতি

বদরুদ্দীন উমরের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম

বদরুদ্দীন উমরের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

বদরুদ্দীন উমরের ১ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পাবনা প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

Advertisement

জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, উপমহাদেশের মার্কসবাদী-লেনিনবাদী রাজনীতিবিদ ও তাত্ত্বিক বদরুদ্দীন উমরের ১ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।   

শনিবার (২৬শে সেপ্টেম্বর) বিকাল ৫টায় পাবনা প্রেসক্লাবে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ কৃষক ও গ্রামীণ মজুর ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ফয়জুল হাকিম, বাংলাদেশ কৃষক ও গ্রামীণ মজুর ফেডারেশনের সভাপতি সজীব রায়, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ লেখক শিবিরের কেন্দ্রীয় সদস্য আমীরুল ইসলাম, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল পাবনা অঞ্চলের সংগঠক আমজাদ হোসেন, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল ঈশ্বরদী শাখা সংগঠক মনোয়ার হোসেন। আলোচনা সভা পরিচালনা করেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল পাবনা অঞ্চল সংগঠক শ্রমিক নেতা মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ।  

আলোচনা সভার শুরুতে প্রয়াত বদরুদ্দীন উমরের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরাবতা পালন করেন সবাই।  

এ সময় আলোচনা সভার সভাপতি মজিবর রহমান বলেন, বদরুদ্দীন উমরের সমগ্র জীবন তিনি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট বিপ্লবী আন্দোলন বিকাশে কাজ করে গিয়েছিলেন। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পরে ১৯৭২ সাল থেকে কীভাবে এ দেশের শাসন ক্ষমতা লুটেরা, সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ ও শাসক শ্রেণীর দখলে গিয়েছে তা তিনি বিশ্লেষণ করে দেখিয়ে গেছেন। কীভাবে জাতীয় সংসদ, সরকার এই ব্যবসায়ী শ্রেণীর নিয়ন্ত্রণে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সাম্রাজ্যবাদের কবলে দেশ চলে গিয়েছে তা ব্যাখা করে দেখিয়েছেন এবং তা প্রতিরোধে রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক লড়াই অব্যাহত রাখতে বিপ্লবী সংগঠন গড়ে তুলেছিলেন। শ্রমিক কৃষক জনগণের হাতে ক্ষমতা আনার সংগ্রামের পথ নির্বাচন নয়, গণঅভ্যুত্থান তা সামনে এনেছিলেন।    

জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ফয়জুল হাকিম বলেন, বদরুদ্দীন উমর বিদ্যমান শোষণ বৈষম্য নির্যাতন লুণ্ঠন দুর্নীতির এই ব্যবস্থা উচ্ছেদের রাজনৈতিক সংগ্রাম জোরদার করতে শ্রমিক কৃষক নিপীড়িত জাতি ও জনগণের রাজনৈতিক শিক্ষা বিস্তারের উপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। বিপ্লবী আন্দোলনের বিকাশ ও জোরদার করতে বিপ্লবী তত্ত্বের গুরুত্ব অনুধাবন করতে তিনি বলেছিলেন। প্রকৃত অর্থে তিনি ছিলেন মার্কস এঙ্গেলস লেনিনের যোগ্য শিষ্য। 

ফয়জুল হাকিম আরও বলেন, বাংলাদেশের নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ঐতিহাসিক বাস্তবতায় বিপ্লবের রণনীতি ও রণকৌশল নির্ধারণে তিনি ছিলেন একজন বিশেষজ্ঞ। ২৪শের জুলাইয়ের আন্দোলন যে এ অঞ্চলের সব থেকে ব্যাপক, বিস্তৃত ও আক্রমণাত্মক এক গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়েছে তা তিনিই সর্ব প্রথম চিহ্নিত করেছিলেন। তার শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে নব প্রজন্মকে সংগঠন ও সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে।  

সজীব রায় বলেন, বদরুদ্দীন উমর সারাজীবন দুই ধরনের কাজ করে গিয়েছিলেন। একদিকে তিনি সমাজ বিপ্লবের লক্ষ্যে লেখালেখি করে গেছেন, বাংলাদেশের নির্দিষ্ট বাস্তবতায় বিপ্লবের তত্ত্ব নির্মাণ করে গেছেন, শ্রমিক কৃষকসহ শোষিত বঞ্চিত মানুষের মধ্যে সংগঠন গড়ে তুলেছিলেন। তার বিপ্লবী রাজনৈতিক লাইন আমরা আকড়ে ধরে আছি। 

সজীব রায় আরও বলেন, উমর ব্যক্তিগতভাবে আত্মপ্রতিষ্ঠার পথ বর্জন করেছিলেন, নিজ শ্রেণীর সাথে তিনি সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন। বলা যায়, যে জীবন তিনি ছেড়ে এসেছিলেন সে জীবনে তিনি আর কোনোদিন ফিরে যাননি। প্রকৃত অর্থে উমর ছিলেন একজন সাচ্চা কমিউনিস্ট। 

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল পতিত ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার ও রাষ্ট্রের নির্বিচারে হত্যা-নির্যাতন, উচ্ছেদে জনগণের শক্তি প্রয়োগের গণঅভ্যুত্থান, জনগণের এই শক্তি প্রয়োগের ক্ষমতাকে লুটেরা সন্ত্রাসী দুর্নীতিবাজ শাসক শ্রেণী ও সাম্রাজ্যবাদের দালালেরা একে ‘ম্যাটিকুলাস ডিজাইন’, ‘সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্ত’ ইত্যাদি ট্যাগ লাগিয়ে জনগণের ক্ষমতাকে আড়াল করতে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।  

আবুল কালাম আজাদ বলেন, একদল বামপন্থি নামে পরিচিত সুবিধাবাদী দল বদরুদ্দীন উমরকে কমিউনিস্ট বিপ্লবী হিসেবে নয় ‘বুদ্ধিজীবী’ হিসেবে দেখে বিচার করে এসেছে। সুবিধাবাদী, বুর্জোয়া লেজুড়বৃত্তিকারী বামপন্থিদের মুখোশ উন্মোচন করেছিলেন বদরুদ্দীন উমর।     

আমীরুল ইসলাম বলেন, বদরুদ্দীন উমরের সঙ্গে সংগঠন করতে গিয়ে স্লোগান তুলেছিলাম, এখনো তুলে যাচ্ছি ‘নির্বাচনে মুক্তি নাই, বিপ্লব ছাড়া উপায় নাই’।  

তিনি আরও বলেন, ৫৫ বছরে বাংলাদেশে বহু নির্বাচন হয়েছে কিন্তু জনগণের অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি।

আমজাদ হোসেন বলেন, কমরেড বদরুদ্দীন উমর শোষণ বৈষম্য মুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য শ্রমিক কৃষক নিপীড়িত জাতি ও জনগণকে রাজনৈতিকভাবে সচেতন ও শিক্ষিত করতে শতাধিক গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। একই সঙ্গে শ্রমিক কৃষক জনগণের মধ্যে সংগঠন ও সংগ্রাম গড়ে তুলতে চেষ্টা চালিয়ে গেছেন।

মনোয়ার হোসেন বলেন, কমরেড উমর বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানকে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের প্রশ্নটিকে সর্বপ্রথম সূত্রায়িত করেন ও সামনে নিয়ে আসেন।  

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম