Logo
Logo
×
   

Advertisement

রাজনীতি

কাটেনি ছাত্রদলের সংকট, দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন আব্বাস-গয়েশ্বর

Advertisement

Icon

যুগান্তর রিপোর্ট

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০১৯, ১২:১৬ পিএম

কাটেনি ছাত্রদলের সংকট, দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন আব্বাস-গয়েশ্বর

মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর রায়। ফাইল ছবি

Advertisement

নতুন কমিটি গঠন ও কাউন্সিল ঘিরে চলমান জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। ছাত্রদলের জাদরেল সাবেক নেতাদের দিয়ে গঠিত সার্চ কমিটি, নির্বাচন পরিচালনা কমিটি, বাছাই কমিটি, আপিল কমিটি করেও সামাল দেয়া যাচ্ছে না। অবশেষে বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সমন্বয় করে একটি সার্থক কাউন্সিল করার দায়িত্ব দেয়া হয় স্থায়ী কমিটির দুই প্রভাবশালী সদস্য মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে। পরিস্থিতি এতটাই ঘোলাটে যে, এ দুই নেতাও তাদের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে চাচ্ছেন। এমতাবস্থায় ছাত্রদলের পূর্বঘোষিত কাউন্সিল নিয়ে দেখা দিয়েছে এক ধরনের অনিশ্চয়তা।    

বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দলের ভ্যানগার্ড হিসেবে পরিচিত ছাত্রদলের সংকট অচিরেই কাটছে না। ক্ষুব্ধ নেতাদের দাবি অনুযায়ী কাউন্সিলের আগে আহ্বায়ক কমিটি গঠনে রাজি হননি সংগঠনটির সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সমন্বয়ে গঠিত সার্চ কমিটির নেতারা। এ অবস্থায় ফের আন্দোলনে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন ক্ষুব্ধ নেতারা।

এদিকে ছাত্রদলের সংকট সমাধানে দায়িত্বপ্রাপ্ত স্থায়ী কমিটির দুই নেতা মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সরে দাঁড়াতে চাইছেন। সার্চ কমিটির নেতাদের আচরণ ‘সম্মানজনক’ না হওয়ায় তারা সরে দাঁড়াতে চাইছেন বলে দুই নেতার ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে। 

সূত্র জানায়, বুধবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্কাইপের মাধ্যমে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর রায় ছাত্রদলের চলমান সংকট নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন। পর দিন ক্ষুব্ধ নেতাদের সঙ্গেও দুই নেতার বৈঠকের কথা ছিল। 

ছাত্রদলের ক্ষুব্ধ নেতারা বলেন, সার্চ কমিটির নেতাদের প্রতি আমাদের কোনো আস্থা নেই। আমরা দায়িত্বপ্রাপ্ত স্থায়ী কমিটির দুই নেতার মাধ্যমে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে লাঞ্ছিত করাসহ প্রতিটি অপ্রীতিকর ঘটনার তদন্ত দাবি করেছি। ওই ঘটনায় সার্চ কমিটিতে থাকা একাধিক নেতাসহ বিএনপিরও সিনিয়র অনেকের ইন্ধন ছিল, যা খুঁজে বের করতে হবে।

বিএনপির প্রভাবশালী এক নেতা যুগান্তরকে বলেন, ছাত্রদলের কমিটি ৩ জুন বিলুপ্ত করার পর সৃষ্ট সংকট সমাধানে সার্চ কমিটি ব্যর্থ হলে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্রকে দায়িত্ব দেন। তারা দ্রুত বিষয়টি সমাধানের দিকেও নিয়ে যান। এ নিয়ে গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে ধন্যবাদ জানানো হয়। 

ওই বৈঠকে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এই ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। কিন্তু সম্প্রতি সার্চ কমিটির কোনো কোনো নেতার কর্মকাণ্ড তাদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি করেছে। সার্চ কমিটির কর্মকাণ্ডে মনে হয়েছে, আব্বাস-গয়েশ্বর এবং সার্চ কমিটি মুখোমুখি অবস্থানে, যা দলের ও ওই দুই নেতার জন্য সম্মানজনক নয়। এ কারণেই তারা সরে দাঁড়াতে চাইছেন।  

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাদের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। আমরা ছাত্রদলের সবার সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করাসহ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছি। বিষয়গুলো দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানও জানেন। এখন বাকি যে কাজ আছে তা দায়িত্বপ্রাপ্ত ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা সমাধান করতে পারবেন বলে আমরা বিশ্বাস করছি। তবে প্রয়োজন হলে যেকোনো সহযোগিতা তাদের প্রতি থাকবে।

সার্চ কমিটি ও ছাত্রদলের ক্ষুব্ধ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছাত্রদলের ক্ষুব্ধ নেতারা তারেক রহমানের সব সিদ্ধান্ত মেনে তারা সার্চ কমিটির অধীনে একটি সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির দাবি করেছিলেন। যার নাম 'আহ্বায়ক কমিটি' হতে পারে বলে জানান। কিন্তু স্থায়ী কমিটির দুই নেতা চাইলেও সার্চ কমিটির নেতারা তা মানতে চান না। বরং সার্চ কমিটি গত মঙ্গলবার বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ক্ষুব্ধ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের ক্ষোভ প্রশমন করবেন। এ জন্য যার যার অনুসারীকে নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্বও ভাগ করে নিয়েছেন। 

সার্চ কমিটির অন্যতম নেতা বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন যুগান্তরকে বলেন, ছাত্রদলের কাউন্সিলের জন্য তিনটি কমিটি করা হয়েছে। নির্বাচনের শিডিউলও ঘোষণা করা হয়েছে। যেহেতু ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে নতুন করে আবার আহ্বায়ক কমিটি করলে অনেক জটিলতার সৃষ্টি হবে। এটি গঠনতন্ত্রের পরিপন্থীর পর্যায়েও। তার পর আবার এখানে কে আহ্বায়ক হবে, কে ভোটার হবে তা নিয়েও অনেক সমস্যা। এসব নিয়ে আমরা অনেক পর্যালোচনা করেই এখন একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি। 

তিনি বলেন, ক্ষুব্ধ নেতাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা, আগামী দিনে দলের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনে, মূল দলে, এলাকায় যোগ্যতার ভিত্তিতে তাদের অবশ্যই সব জায়গায় মূল্যায়িত করা হবে। তারা আমাদের ছোট ভাই। তাদের দলে অনেক ত্যাগ রয়েছে, মামলা-হামলায় তারা জর্জরিত, জেল খেটেছেন। তাদের বিষয়টিও আমরা গুরুত্বসহকারে দেখছি। তাদের নিয়ে আমরা সব কিছু করব। তাদের সঙ্গে কথা বলেই ছাত্রদলের কাউন্সিলের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হবে। 

ছাত্রদলের সাবেক এক সহসভাপতি যুগান্তরকে বলেন, নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণে ২০০০ সালে এসএসসি পাসের বাধ্যবাধকতাও আমরা মেনে নিয়েছি। আমরা নির্বাচন পরিচালনাসহ তিন কমিটি মেনেই কাউন্সিল করতে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠনের দাবি করেছি। সুতরাং আমাদের নিয়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠনে কারও প্রশ্ন থাকতে পারে না। আমরা দায়িত্বপ্রাপ্ত স্থায়ী কমিটির সদস্যেদের প্রতি আস্থাশীল। আমাদের নেতা তারেক রহমানও আমাদের বিষয়টি বিবেচনা করবেন।

ছাত্রদলের তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৫ জুলাই ভোটগ্রহণের দিন ধার্য থাকলেও সংগঠনের সংকট সমাধান না হওয়ায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য ফরমই বিক্রি করতে পারেনি। জানা গেছে, চলতি মাসের শেষের দিকে কাউন্সিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন সার্চ কমিটির নেতারা।

 


 

Advertisement

ছাত্রদল মির্জা আব্বাস ছাত্রদলে সংকট

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম