বড়লেখার সাবেক এমপি সিরাজুল আর নেই
jugantor
বড়লেখার সাবেক এমপি সিরাজুল আর নেই

  বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি  

০৫ এপ্রিল ২০২০, ১০:৩৫:৪৩  |  অনলাইন সংস্করণ

সিরাজুল ইসলাম

মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধকালে বৃহত্তর সিলেটের প্রথম সারির মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক সিরাজুল ইসলাম আর নেই।

শনিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ... রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও চার মেয়ে, আত্মীয়স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার সকাল ৭টায় সিরাজুল ইসলামের ছেলে আনিসুল ইসলাম তার বাবার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বাবা দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। গত রাত সাড়ে ১১টায় আমার সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে। গত রাতে হঠাৎ অসুস্থবোধ করে মাটিতে পড়ে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে নেয়ার পর চিকিৎসকরা বাবাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরও জানান, সিরাজুলের জানাজার সময় এখনও নির্ধারণ হয়নি। লাশ দেশে আনার চেষ্টা চলছে।
মহান মরহুম সিরাজুল ইসলাম ছিলেন একজন সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধা।

বৃহত্তর সিলেটের প্রথম সারির একজন মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক। তার ছিল বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ার। তিনি ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বৃহত্তর সিলেট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক।

বড়লেখা উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক। অত্যন্ত সজ্জন, পরিচ্ছন্ন রাজনীতির ধারক ও বাহক, তৃণমূলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের অত্যন্ত আপনজন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম ১৯৭৩ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পার্লামেন্ট ইলেকশনে মৌলভীবাজার-৪ (বড়লেখা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৭৯ সালে তিনি দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ সালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বড়লেখায় তিনি পুলিশের হাতে গুলিবিদ্ধ হন। ১৯৮৮ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। নানা কারণে রাজনীতিতে তিনি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন।

অভিমানী মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক ও সাবেক এমপি সিরাজুল ইসলাম প্রায় ১৫ বছর ধরে ইউরোপ এবং আমেরিকায় নিভৃতচারী জীবন বেঁচে নেন। সর্বশেষ তিনি গত ডিসেম্বর মাসে বড়লেখায় ঘুরে গেছেন।

এদিকে বীর মুক্তিযাদ্ধা সিরাজুল ইসলামের মৃত্যুতে তাৎক্ষণিকভাবে গভীর শোক ও শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন বড়লেখা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ উদ্দিন, লন্ডন ইউকে-বাংলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মুনেজর আহমদ চৌধুরী, সিলেট প্রেসক্লাবের সহসভাপতি আবদুল কাদের তাপাদার, বড়লেখা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকবৃন্দ।

বড়লেখার সাবেক এমপি সিরাজুল আর নেই

 বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি 
০৫ এপ্রিল ২০২০, ১০:৩৫ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
সিরাজুল ইসলাম
সিরাজুল ইসলাম। ছবি: যুগান্তর

মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধকালে বৃহত্তর সিলেটের প্রথম সারির মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক সিরাজুল ইসলাম আর নেই। 

শনিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ... রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও চার মেয়ে, আত্মীয়স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার সকাল ৭টায় সিরাজুল ইসলামের ছেলে আনিসুল ইসলাম তার বাবার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বাবা দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। গত রাত সাড়ে ১১টায় আমার সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে। গত রাতে হঠাৎ অসুস্থবোধ করে মাটিতে পড়ে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে নেয়ার পর চিকিৎসকরা বাবাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

তিনি আরও জানান, সিরাজুলের জানাজার সময় এখনও নির্ধারণ হয়নি। লাশ দেশে আনার চেষ্টা চলছে।
মহান মরহুম সিরাজুল ইসলাম ছিলেন একজন সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধা। 

বৃহত্তর সিলেটের প্রথম সারির একজন মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক। তার ছিল বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ার। তিনি ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বৃহত্তর সিলেট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক। 

বড়লেখা উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক। অত্যন্ত সজ্জন, পরিচ্ছন্ন রাজনীতির ধারক ও বাহক, তৃণমূলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের অত্যন্ত আপনজন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম ১৯৭৩ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পার্লামেন্ট ইলেকশনে মৌলভীবাজার-৪ (বড়লেখা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। 

১৯৭৯ সালে তিনি দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ সালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বড়লেখায় তিনি পুলিশের হাতে গুলিবিদ্ধ হন। ১৯৮৮ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। নানা কারণে রাজনীতিতে তিনি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। 

অভিমানী মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক ও সাবেক এমপি সিরাজুল ইসলাম প্রায় ১৫ বছর ধরে ইউরোপ এবং আমেরিকায় নিভৃতচারী জীবন বেঁচে নেন। সর্বশেষ তিনি গত ডিসেম্বর মাসে বড়লেখায় ঘুরে গেছেন।    

এদিকে বীর মুক্তিযাদ্ধা সিরাজুল ইসলামের মৃত্যুতে তাৎক্ষণিকভাবে গভীর শোক ও শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন বড়লেখা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ উদ্দিন, লন্ডন ইউকে-বাংলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মুনেজর আহমদ চৌধুরী, সিলেট প্রেসক্লাবের সহসভাপতি আবদুল কাদের তাপাদার, বড়লেখা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকবৃন্দ।