জন্মদিনে দুই মেয়ের ফোনে ঘুম ভাঙে ফখরুলের 
jugantor
জন্মদিনে দুই মেয়ের ফোনে ঘুম ভাঙে ফখরুলের 

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৬ জানুয়ারি ২০২১, ১৫:০৭:৪৭  |  অনলাইন সংস্করণ

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ৭৪তম জন্মদিন আজ। জন্মদিনে তেমন কোনো আয়োজন পছন্দ করেন না বর্ষীয়ান এই নেতা। শুধু নেতাকর্মীরা এই দিনে তাকে শুভেচ্ছা জানান।

বিশেষ এই দিনে পরিবার-পরিজন মির্জা ফখরুলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে থাকে। আজও দুই মেয়ের টেলিফোনে ঘুম ভেঙেছে বিএনপি মহাসচিবের।

আজ ভোরে প্রবাস থেকে বড় মেয়ে মির্জা সামারুহ ও ঢাকায় ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহ বাবাকে টেলিফোন করেন। তাদের ফোনে ঘুম ভেঙেছে বিএনপি মহাসচিবের।

মির্জা ফখরুল এ বিষয়ে বলেন, জন্মদিন মানে আরও একটি বছর চলে গেছে। বড় মেয়ে অস্ট্রেলিয়া থেকে টেলিফোন করেছে, শুভ জন্মদিন বলল। ছোট মেয়ে ঢাকায় থাকে, সেও ভোরে ঘুম ভাঙিয়েছে, উইশ করেছে।

দুই মেয়েকে নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও রাহাত আরা বেগমের সংসার।

বিএনপি মহাসচিবের বড় মেয়ে মির্জা সামারুহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। তিনি এখন অস্ট্রেলিয়ায় স্বামী-সন্তান নিয়ে আছেন। সেখানে সিডনির একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্ট ডক্টরিয়াল ফেলোশিপ নিয়েছেন।

ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহ ধানমণ্ডির ‘স্যানি ডেল’ স্কুলে শিক্ষকতা করেন।

বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান জানান, ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জন্মগ্রহণ করেন।

মির্জা ফখরুলের বাবার নাম মির্জা রুহুল আমিন। তিনি ছিলেন সাবেক মন্ত্রী। মির্জা ফখরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়ার সময়েই ছাত্ররাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ’৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় ছিলেন ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি। এসএম হল শাখারও নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে হয়ে যান সরকারি চাকুরে। অর্থনীতির প্রভাষক হিসেবে ঢাকা কলেজে শিক্ষকতা জীবন শুরু করলেও কয়েকটি কলেজ ঘুরে পরে সরকারের পরিদর্শন ও আয়-ব্যয় পরীক্ষণ অধিদফতরে নিরীক্ষক হিসেবে কাজ করেন। তবে সাত বছরের মধ্যে রাজনীতিতে আবারও ফিরে আসেন।

জিয়াউর রহমান সরকারের উপপ্রধানমন্ত্রী এসএ বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে নিজ জেলায় ফিরে আবারও শিক্ষকতা পেশা শুরু করেন। ১৯৮৮ সালে আবারও শিক্ষকতা ছেড়ে সার্বক্ষণিক রাজনীতিতে ফেরার প্রস্তুতি নেন। নির্বাচিত হন ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান। এক বছর পরে যোগ দেন বিএনপিতে।

১৯৯১ ও ১৯৯৯ সালে বিএনপির টিকিটে জাতীয় সংসদে নির্বাচন করে জয় না পেলেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ২০০১ সালে। চারদলীয় জোট সরকারের এই শাসনামলে প্রথমে কৃষি মন্ত্রণালয় ও পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বিএনপির সহযোগী সংগঠন কৃষক দলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন দীর্ঘদিন। পরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও পরে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালে বিএনপির কাউন্সিলে তাকে মহাসচিব করা হয়।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়ার একটি আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হলেও সংসদে যোগ দেননি ফখরুল।


জন্মদিনে দুই মেয়ের ফোনে ঘুম ভাঙে ফখরুলের 

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৬ জানুয়ারি ২০২১, ০৩:০৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ৭৪তম জন্মদিন আজ। জন্মদিনে তেমন কোনো আয়োজন পছন্দ করেন না বর্ষীয়ান এই নেতা। শুধু নেতাকর্মীরা এই দিনে তাকে শুভেচ্ছা জানান। 

বিশেষ এই দিনে পরিবার-পরিজন মির্জা ফখরুলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে থাকে।  আজও দুই মেয়ের টেলিফোনে ঘুম ভেঙেছে বিএনপি মহাসচিবের।

আজ ভোরে প্রবাস থেকে বড় মেয়ে মির্জা সামারুহ ও ঢাকায় ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহ বাবাকে টেলিফোন করেন। তাদের ফোনে ঘুম ভেঙেছে বিএনপি মহাসচিবের।  

মির্জা ফখরুল এ বিষয়ে বলেন, জন্মদিন মানে আরও একটি বছর চলে গেছে। বড় মেয়ে অস্ট্রেলিয়া থেকে টেলিফোন করেছে, শুভ জন্মদিন বলল। ছোট মেয়ে ঢাকায় থাকে, সেও ভোরে ঘুম ভাঙিয়েছে, উইশ করেছে।

দুই মেয়েকে নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও রাহাত আরা বেগমের সংসার।

বিএনপি মহাসচিবের বড় মেয়ে মির্জা সামারুহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। তিনি এখন অস্ট্রেলিয়ায় স্বামী-সন্তান নিয়ে আছেন। সেখানে সিডনির একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্ট ডক্টরিয়াল ফেলোশিপ নিয়েছেন। 

ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহ ধানমণ্ডির ‘স্যানি ডেল’ স্কুলে শিক্ষকতা করেন।

বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান জানান, ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জন্মগ্রহণ করেন।

মির্জা ফখরুলের বাবার নাম মির্জা রুহুল আমিন। তিনি ছিলেন সাবেক মন্ত্রী। মির্জা ফখরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়ার সময়েই ছাত্ররাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ’৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় ছিলেন ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি। এসএম হল শাখারও নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে হয়ে যান সরকারি চাকুরে। অর্থনীতির প্রভাষক হিসেবে ঢাকা কলেজে শিক্ষকতা জীবন শুরু করলেও কয়েকটি কলেজ ঘুরে পরে সরকারের পরিদর্শন ও আয়-ব্যয় পরীক্ষণ অধিদফতরে নিরীক্ষক হিসেবে কাজ করেন। তবে সাত বছরের মধ্যে রাজনীতিতে আবারও ফিরে আসেন। 

জিয়াউর রহমান সরকারের উপপ্রধানমন্ত্রী এসএ বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে নিজ জেলায় ফিরে আবারও শিক্ষকতা পেশা শুরু করেন। ১৯৮৮ সালে আবারও শিক্ষকতা ছেড়ে সার্বক্ষণিক রাজনীতিতে ফেরার প্রস্তুতি নেন। নির্বাচিত হন ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান। এক বছর পরে যোগ দেন বিএনপিতে। 

১৯৯১ ও ১৯৯৯ সালে বিএনপির টিকিটে জাতীয় সংসদে নির্বাচন করে জয় না পেলেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ২০০১ সালে। চারদলীয় জোট সরকারের এই শাসনামলে প্রথমে কৃষি মন্ত্রণালয় ও পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।    

মির্জা ফখরুল বিএনপির সহযোগী সংগঠন কৃষক দলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন দীর্ঘদিন। পরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও পরে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালে বিএনপির কাউন্সিলে তাকে মহাসচিব করা হয়। 

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়ার একটি আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হলেও সংসদে যোগ দেননি ফখরুল।