কে এই রফিকুল ইসলাম মাদানী
jugantor
কে এই রফিকুল ইসলাম মাদানী

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৮ এপ্রিল ২০২১, ১৮:৪৯:৩৬  |  অনলাইন সংস্করণ

রফিকুল ইসলাম মাদানী

বর্তমান সময়ে ইন্টারনেটে ‘শিশুবক্তা’ হিসেবে পরিচিত রফিকুল ইসলাম। তাকে রফিকুল ইসলাম মাদানী নামেও অনেকেই জানেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকার সফরের প্রতিবাদে বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। পরে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পরিবারের জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। এরপরই তিনি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসেন।

সর্বশেষ বুধবার দুপুরে ‘শিশুবক্তা’ রফিকুল ইসলাম মাদানীকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। রাষ্ট্রবিরোধী ও উসকানিমূলক কথাবার্তা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি। পরে তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, রফিকুল ইসলাম মাদানী নানা সময়ে বিভিন্ন বিষয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে থাকেন। তিনি রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, তিনি রাষ্ট্রবিরোধী নানা উসকানিমূলক কথাবার্তা বলেন। এতে জনমনে ভীতির সঞ্চার করেছে বলে আমাদের কাছে অভিযোগ রয়েছে।

‘রফিকুল ইসলামের এসব ঔদ্ধত্যপূর্ণ কথাবার্তা জনসাধারণের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। যা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানানো হবে।’

রফিকুল ইসলামের কণ্ঠ, শারীরিক গঠন ও মুখাবয়বের কারণে তাকে কম বয়সী ছেলেদের মতো মনে হয়। তার ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন, ১৯৯৪ সালে নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলায় তার জন্ম। সে হিসেবে তার বর্তমান বয়স ২৭ বছর। জানা গেছে, রফিকুল ইসলামের চার ভাই ও তিন বোন।

তিনি নেত্রকোনার একটি মাদ্রাসায় হিফজুল কোরআন পড়াশুনা করেন। এরপর তিনি ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় একটি মাদ্রাসায় আসেন। সেখানে কয়েক বছর পড়াশোনা শেষে তিনি চলে চলে যান গাজীপুরের কোনাবাড়িতে একটি মাদ্রাসায়। সেখানে কিছুদিন পড়াশোনা করার পর ঢাকার বারিধারা এলাকায় অবস্থিত একটি মাদ্রাসা থেকে তিনি দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্স সমমানের) পাশ করেন।

সর্বশেষ গত ৫ এপ্রিল ‘নুরিয়া ইসলামিক মিডিয়া’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেল থেকে রফিকুল ইসলামের বক্তব্যের একটি ভিডিও আপলোড করা হয়।

সেখানে দেখা গেছে, সোনারগাঁও এলাকার একটি রিসোর্টে হেফাজতে ইসলামের নেতা মামুনুল হককে অবরুদ্ধ করার ঘটনা নিয়ে ক্ষমতাসীন দল ও সরকারের সমালোচনা করেন তিনি।

রফিকুল ইসলামের নামের সঙ্গে মাদানী টাইটেল নিয়েও বিতর্ক ছড়িয়েছে। নামের শেষে মাদানী টাইটেল লাগানোর ঘটনায় তাকে লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছিলেন হেফাজতে ইসলামের মদিনা শাখার আমির ও সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সদস্য। তার নামও রফিকুল ইসলাম।

লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়, সৌদি আরবে মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা না করেও ‘মাদানী’ উপাধি ব্যবহার করছেন রফিকুল ইসলাম।

লিগ্যাল নোটিশ পাঠানোর পরে একটি অনুষ্ঠানে রফিকুল ইসলাম বলেন, মদিনা থেকে পড়াশুনা করলেই যে শুধু ‘মাদান‘ উপাধি ব্যবহার করা যাবে বিষয়টি সে রকম নয়।

ঢাকার বারিধারা এলাকায় অবস্থিত জামিয়া মাদানিয়া মাদ্রাসা থেকে দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্স সমমানের) ডিগ্রি লাভের পর তিনি নামের শেষে ‘মাদানী’ টাইটেল যুক্ত করেন।

কে এই রফিকুল ইসলাম মাদানী

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৮ এপ্রিল ২০২১, ০৬:৪৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
রফিকুল ইসলাম মাদানী
রফিকুল ইসলাম মাদানী। ফাইল ছবি

বর্তমান সময়ে ইন্টারনেটে ‘শিশুবক্তা’ হিসেবে পরিচিত রফিকুল ইসলাম।  তাকে রফিকুল ইসলাম মাদানী নামেও অনেকেই জানেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকার সফরের প্রতিবাদে বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। পরে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পরিবারের জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। এরপরই তিনি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসেন।

সর্বশেষ বুধবার দুপুরে ‘শিশুবক্তা’ রফিকুল ইসলাম মাদানীকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। রাষ্ট্রবিরোধী ও উসকানিমূলক কথাবার্তা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি। পরে তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, রফিকুল ইসলাম মাদানী নানা সময়ে বিভিন্ন বিষয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে থাকেন। তিনি রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, তিনি রাষ্ট্রবিরোধী নানা উসকানিমূলক কথাবার্তা বলেন। এতে জনমনে ভীতির সঞ্চার করেছে বলে আমাদের কাছে অভিযোগ রয়েছে।

‘রফিকুল ইসলামের এসব ঔদ্ধত্যপূর্ণ কথাবার্তা জনসাধারণের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। যা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানানো হবে।’

রফিকুল ইসলামের কণ্ঠ, শারীরিক গঠন ও মুখাবয়বের কারণে তাকে কম বয়সী ছেলেদের মতো মনে হয়।  তার ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন, ১৯৯৪ সালে নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলায় তার জন্ম। সে হিসেবে তার বর্তমান বয়স ২৭ বছর।  জানা গেছে, রফিকুল ইসলামের চার ভাই ও তিন বোন।

তিনি নেত্রকোনার একটি মাদ্রাসায় হিফজুল কোরআন পড়াশুনা করেন। এরপর তিনি ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় একটি মাদ্রাসায় আসেন। সেখানে কয়েক বছর পড়াশোনা শেষে তিনি চলে চলে যান গাজীপুরের কোনাবাড়িতে একটি মাদ্রাসায়। সেখানে কিছুদিন পড়াশোনা করার পর ঢাকার বারিধারা এলাকায় অবস্থিত একটি মাদ্রাসা থেকে তিনি দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্স সমমানের) পাশ করেন।

সর্বশেষ গত ৫ এপ্রিল ‘নুরিয়া ইসলামিক মিডিয়া’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেল থেকে রফিকুল ইসলামের বক্তব্যের একটি ভিডিও আপলোড করা হয়।

সেখানে দেখা গেছে, সোনারগাঁও এলাকার একটি রিসোর্টে হেফাজতে ইসলামের নেতা মামুনুল হককে অবরুদ্ধ করার ঘটনা নিয়ে ক্ষমতাসীন দল ও সরকারের সমালোচনা করেন তিনি।

রফিকুল ইসলামের নামের সঙ্গে মাদানী টাইটেল নিয়েও বিতর্ক ছড়িয়েছে।  নামের শেষে মাদানী টাইটেল লাগানোর ঘটনায় তাকে লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছিলেন হেফাজতে ইসলামের মদিনা শাখার আমির ও সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সদস্য। তার নামও রফিকুল ইসলাম।

লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়, সৌদি আরবে মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা না করেও ‘মাদানী’ উপাধি ব্যবহার করছেন রফিকুল ইসলাম।

লিগ্যাল নোটিশ পাঠানোর পরে একটি অনুষ্ঠানে রফিকুল ইসলাম বলেন, মদিনা থেকে পড়াশুনা করলেই যে শুধু ‘মাদান‘ উপাধি ব্যবহার করা যাবে বিষয়টি সে রকম নয়।

ঢাকার বারিধারা এলাকায় অবস্থিত জামিয়া মাদানিয়া মাদ্রাসা থেকে দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্স সমমানের) ডিগ্রি লাভের পর তিনি নামের শেষে ‘মাদানী’ টাইটেল যুক্ত করেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর