বিদেশ থেকে চিকিৎসক আনছেন না কেন: বিএনপিকে আইনমন্ত্রী
jugantor
বিদেশ থেকে চিকিৎসক আনছেন না কেন: বিএনপিকে আইনমন্ত্রী

  সংসদ প্রতিবেদক  

২৫ নভেম্বর ২০২১, ২৩:০১:২১  |  অনলাইন সংস্করণ

অসুস্থ খালেদা জিয়াকে বিদেশ পাঠানোর দাবি না তুলে তার জন্য বিদেশ থেকে চিকিৎসক আনছেন না কেন- বিএনপির প্রতি এমন প্রশ্ন করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় বিদেশ থেকে চিকিৎসক আনতে আমরা বলেছি। কিন্তু তারা সেটা নিয়ে চিন্তা করছে না। কোনো পদক্ষেপও নিচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার সংসদে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বিশেষ আলোচনার জন্য দাঁড়িয়ে দলীয় নেত্রীকে চিকিৎসার জন্য বিদেশ পাঠানোর দাবি বিএনপি নেতা হারুনুর রশীদ সংসদে তোলার পর তাকে এই জবাব দেন আইনমন্ত্রী।

বিএনপির দলীয় সংসদ হারুনুর রশিদ তার বক্তব্যে বলেন, আমি একাধিকবার সংসদ নেতার সঙ্গে কথা বলেছি। আমি বলেছি, আজ ওনার (খালেদা জিয়া) শারীরিক যে অবস্থা ওনাকে বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার ক্ষেত্রে আপনার অনুমতি দিতে অসুবিধা কোথায়? আপনি তাকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগটি দিন। এতে আপনি সম্মানিত হবেন।

জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বিএনপির সবাই বলে আমাদের নেত্রীকে এখনই বিদেশে পাঠাতে হবে। ওনার চিকিৎসা করাতে হবে বিদেশে। আমাদের দেশের চিকিৎসা খুব খারাপ। খালেদা জিয়া তিন-তিনবার হাসপাতালে গেছেন। সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরেছেন। আমরা বলেছি বিদেশ থেকে যদি চিকিৎসক আনতে চান, আনতে পারেন। সেই কথা চিন্তাও করবে না, পদক্ষেপও নিবে না। শুধু বলবে বিদেশ পাঠিয়ে দেন।

৭৬ বছর বয়সী সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী বহু বছর ধরে আর্থ্রারাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। অসুস্থতার জন্য টানা ২৬ দিন ওই হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ৭ নভেম্বর বাসায় ফেরেন তিনি। এর ছয়দিনের ব্যবধানে খালেদা জিয়াকে আবার ঢাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তির পর ১৪ নভেম্বর দিবাগত রাত থেকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে সিসিইউতে রাখা হয়েছে।

এর আগে এপ্রিলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন খালেদা জিয়া। পরে করোনা পরবর্তী জটিলতায় ২৭ এপ্রিল হাসপাতালে ভর্তি হন। সে সময় এক মাসের বেশি সময় হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি ছিলেন। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে ১৯ জুন বাসায় ফেরেন। পরে করোনার টিকা নিতে তিনি দুই দফায় মহাখালীর শেখ রাসেল ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালে যান।

উল্লেখ্য, দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে খালেদা জিয়া ২০০৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যান। করোনা মহামারির প্রেক্ষাপটে গত বছরের ২৫ মার্চ সরকার শর্তসাপেক্ষে তাকে সাময়িক মুক্তি দেয়। এ পর্যন্ত তিন দফায় খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়। তবে বিএনপির নেতারা খালেদা জিয়ার শর্তসাপেক্ষে এ মুক্তিকে ‘গৃহবন্দি’ বলছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার আবেদন করা হলেও সরকার তা নাকচ করে দেয়। তাকে দেশে থেকেই চিকিৎসা নিতে হবে বলে শর্তও দেওয়া হয়েছে।

বিদেশ থেকে চিকিৎসক আনছেন না কেন: বিএনপিকে আইনমন্ত্রী

 সংসদ প্রতিবেদক 
২৫ নভেম্বর ২০২১, ১১:০১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

অসুস্থ খালেদা জিয়াকে বিদেশ পাঠানোর দাবি না তুলে তার জন্য বিদেশ থেকে চিকিৎসক আনছেন না কেন- বিএনপির প্রতি এমন প্রশ্ন করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় বিদেশ থেকে চিকিৎসক আনতে আমরা বলেছি। কিন্তু তারা সেটা নিয়ে চিন্তা করছে না। কোনো পদক্ষেপও নিচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার সংসদে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বিশেষ আলোচনার জন্য দাঁড়িয়ে দলীয় নেত্রীকে চিকিৎসার জন্য বিদেশ পাঠানোর দাবি বিএনপি নেতা হারুনুর রশীদ সংসদে তোলার পর তাকে এই জবাব দেন আইনমন্ত্রী। 

বিএনপির দলীয় সংসদ হারুনুর রশিদ তার বক্তব্যে বলেন, আমি একাধিকবার সংসদ নেতার সঙ্গে কথা বলেছি। আমি বলেছি, আজ ওনার (খালেদা জিয়া) শারীরিক যে অবস্থা ওনাকে বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার ক্ষেত্রে আপনার অনুমতি দিতে অসুবিধা কোথায়? আপনি তাকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগটি দিন। এতে আপনি সম্মানিত হবেন। 

জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বিএনপির সবাই বলে আমাদের নেত্রীকে এখনই বিদেশে পাঠাতে হবে। ওনার চিকিৎসা করাতে হবে বিদেশে। আমাদের দেশের চিকিৎসা খুব খারাপ। খালেদা জিয়া তিন-তিনবার হাসপাতালে গেছেন। সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরেছেন। আমরা বলেছি বিদেশ থেকে যদি চিকিৎসক আনতে চান, আনতে পারেন। সেই কথা চিন্তাও করবে না, পদক্ষেপও নিবে না। শুধু বলবে বিদেশ পাঠিয়ে দেন।

৭৬ বছর বয়সী সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী বহু বছর ধরে আর্থ্রারাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। অসুস্থতার জন্য টানা ২৬ দিন ওই হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ৭ নভেম্বর বাসায় ফেরেন তিনি। এর ছয়দিনের ব্যবধানে খালেদা জিয়াকে আবার ঢাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তির পর ১৪ নভেম্বর দিবাগত রাত থেকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে সিসিইউতে রাখা হয়েছে।

এর আগে এপ্রিলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন খালেদা জিয়া। পরে করোনা পরবর্তী জটিলতায় ২৭ এপ্রিল হাসপাতালে ভর্তি হন। সে সময় এক মাসের বেশি সময় হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি ছিলেন। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে ১৯ জুন বাসায় ফেরেন। পরে করোনার টিকা নিতে তিনি দুই দফায় মহাখালীর শেখ রাসেল ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালে যান।

উল্লেখ্য, দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে খালেদা জিয়া ২০০৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যান। করোনা মহামারির প্রেক্ষাপটে গত বছরের ২৫ মার্চ সরকার শর্তসাপেক্ষে তাকে সাময়িক মুক্তি দেয়। এ পর্যন্ত তিন দফায় খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়। তবে বিএনপির নেতারা খালেদা জিয়ার শর্তসাপেক্ষে এ মুক্তিকে ‘গৃহবন্দি’ বলছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার আবেদন করা হলেও সরকার তা নাকচ করে দেয়। তাকে দেশে থেকেই চিকিৎসা নিতে হবে বলে শর্তও দেওয়া হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : খালেদা জিয়ার চিকিৎসা

আরও খবর