টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় হওয়ার দৌড়ে আছেন যারা
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আইসিসি পুরুষ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ চলাকালীন দারুণ পারফরম্যান্স করা কয়েকজন ক্রিকেটার জায়গা পেয়েছেন টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের সংক্ষিপ্ত তালিকায়। ব্যাট ও বল হাতে অসাধারণ খেলায় তারা নিজেদের আলাদা করে তুলেছেন।
ভারতের উইকেটকিপার ব্যাটার সাঞ্জু স্যামসন এই তালিকায় অন্যতম আলোচিত নাম। চার ম্যাচে তিনি করেছেন ২৩২ রান। তার গড় ৭৭.৩৩ এবং স্ট্রাইক রেট ২০১.৭৩। টুর্নামেন্টের শেষ দুই ম্যাচে টানা ম্যাচসেরা হন তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সুপার এইট পর্বে মাত্র ৫০ বলে অপরাজিত ৯৭ রান করেন স্যামসন। এরপর সেমিফাইনালেও দারুণ ব্যাটিং করেন। সেখানে ৪২ বলে করেন ৮৯ রান।
নিউজিল্যান্ডের অলরাউন্ডার রাচিন রবীন্দ্র ব্যাট ও বল দুই বিভাগেই অবদান রেখেছেন। আট ম্যাচে তিনি নিয়েছেন ১১ উইকেট। করেছেন ১২৮ রানও। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে তিনি ৩২ রান করেন। পরে বল হাতে নেন ৪ উইকেট। ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও তিনি ৩ উইকেট নেন।
নিউজিল্যান্ডের আরেক ব্যাটার টিম সেইফার্ট টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক রান করেছেন। আট ম্যাচে তার সংগ্রহ ২৭৪ রান। গড় ৪৫.৬৬। স্ট্রাইক রেট ১৬১.১৭। টুর্নামেন্টের শুরুতেই আফগানিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে অর্ধশতক করেন। সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৫৮ রানের ইনিংসটি ছিল খুব গুরুত্বপূর্ণ। সেই ম্যাচে তিনি ফিন অ্যালেনের সঙ্গে ১১৭ রানের জুটি গড়েন।
ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডার উইল জ্যাকস দলকে সেমিফাইনালে তুলতে বড় অবদান রেখেছেন। আট ম্যাচে তিনি করেছেন ২২৬ রান। নিয়েছেন ৯ উইকেট। টুর্নামেন্টে চারবার ম্যাচসেরা হন তিনি। ব্যাট হাতে শেষ দিকে দ্রুত রান তোলার দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করেন জ্যাকস। ইতালির বিপক্ষে ২২ বলে অপরাজিত ৫৩ রান করেন। সেই ইনিংসে তিনি তিনটি চার ও চারটি ছক্কা মারেন। বল হাতেও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট নিয়েছেন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চার ওভারে ৩ উইকেট নেন তিনি।
দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার লুঙ্গি এনগিদি টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক বোলিং করেছেন। সাত ম্যাচে তিনি নিয়েছেন ১২ উইকেট। তার ইকোনমি ৭.১৯। কানাডার বিপক্ষে চার উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেন তিনি। আফগানিস্তানের বিপক্ষেও তিন উইকেট নেন। সুপার এইট পর্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আবার তিন উইকেট পান।
দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক এইডেন মার্করাম ব্যাট হাতে বড় ভূমিকা রেখেছেন। আট ম্যাচে তিনি করেছেন ২৮৬ রান। তিনটি অর্ধশতক আছে তার। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অপরাজিত ৮৬ রান করে দলকে জিতিয়েছিলেন তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও অপরাজিত ৮৬ রান করেন।
পাকিস্তানের ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি রান করেছেন। সাত ম্যাচে তার রান ৩৮৩। গড় ৭৬.৬০ এবং স্ট্রাইক রেট ১৬০.২৫। এক আসরে দুইটি শতক করা প্রথম খেলোয়াড়ও তিনি। শ্রীলঙ্কা ও নামিবিয়ার বিপক্ষে শতক করেন ফারহান। যদিও পাকিস্তান সেমিফাইনালে উঠতে পারেনি। তবু ব্যাট হাতে আলো ছড়িয়েছেন তিনি। ওপেনিংয়ে তাকে সহায়তা করেন ফখর জামান।
যুক্তরাষ্ট্রের পেসার শ্যাডলি ফন স্কাল্কউইক কম ম্যাচ খেলেও নজর কেড়েছেন। চার ম্যাচে তিনি নিয়েছেন ১৩ উইকেট। তার ইকোনমি ৬.৮০। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ উইকেটের তালিকায় তিনি শীর্ষে আছেন। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে চার উইকেট নেন। পাকিস্তানের বিপক্ষেও একইভাবে পারফরম করেছেন তিনি।
এই পারফরম্যান্সের কারণেই এই ক্রিকেটাররা এখন টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হওয়ার দৌড়ে আছেন।
