Logo
Logo
×
   

Advertisement

খেলা

এ কথা বলার জন্য মানুষ আমাকে ধাওয়া করতে পারে: ওয়াসিম আকরাম

Advertisement

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬, ১২:৪২ পিএম

এ কথা বলার জন্য মানুষ আমাকে ধাওয়া করতে পারে: ওয়াসিম আকরাম

পাকিস্তানের কিংবদন্তি ক্রিকেটার ওয়াসিম আকরাম। ফাইল ছবি

Advertisement

পাকিস্তানের দুই প্রধান শহর করাচি ও লাহোরের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে খাবারের স্বাদ ও ঐতিহ্য নিয়ে তর্কে জড়ান না, এমন পাকিস্তানি খুঁজে পাওয়া দায়। এবার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এ দুই শহরের ‘খাদ্য-যুদ্ধ’ থামাতে ময়দানে নামলেন কিংবদন্তি ক্রিকেটার ওয়াসিম আকরাম। ‘সুইংয়ের সুলতান’ স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, লাহোরে ঐতিহ্যবাহী পদের মান ভালো হলেও বৈচিত্র্যের দিক থেকে করাচিই যোজন যোজন এগিয়ে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় আকরাম দাবি করেন, দুই শহরেই দীর্ঘ সময় কাটানোর অভিজ্ঞতার কারণে এ বিতর্কের মীমাংসা করার জন্য তিনিই সঠিক ব্যক্তি।

আকরাম বলেন, ‘আমি সামাজিক মাধ্যমে দেখছি করাচি বনাম লাহোর বিতর্ক বেশ জমে উঠেছে। দেখুন, আমি ৪২ বছর লাহোরে কাটিয়েছি, সেখানেই আমার জন্ম। আবার গত ১৪ বছর ধরে আমি করাচিতে থাকছি। তাই আমি মনে করি, এ তর্কের ইতি আমিই টানতে পারি’।

সম্প্রতি পাকিস্তানের রাজনীতিবিদ ফাওয়াদ চৌধুরী লাহোরের খাবারকে এগিয়ে রেখে এক্স-এ (সাবেক টুইটার) পোস্ট করার পর এ বিতর্ক নতুন করে চাঙ্গা হয়। ফাওয়াদ লিখেছিলেন, ‘করাচির খাবার চলনসই, কিন্তু লাহোরের মতো আভিজাত্য নেই। লাহোরে এমন সব রেস্তোরাঁ আছে যারা এক শতাব্দীর বেশি সময় ধরে একই পদ পরিবেশন করছে। খাবারের পেছনের ইতিহাসই একে বিশেষ করে তোলে’। তিনি আরও যোগ করেন, লাহোরের ওয়ারিস নিহারি বা ফিকা-র সামনে করাচির খাবারের কোনো ইতিহাস নেই।

ফাওয়াদের এ মন্তব্যের সরাসরি জবাব দিয়েছেন ওয়াসিম আকরাম। সাবেক এ মন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি প্রশ্ন করেন, ফাওয়াদ আসলে করাচির কোন এলাকায় ঘুরেছেন? নিজের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে আকরাম বলেন, ‘পিএসএল-এর ফাইনাল চলাকালীন আমি লাহোরে ছিলাম। ভেবেছিলাম পুরোনো পছন্দের জায়গাগুলো থেকে খেয়ে আসি। গুলবার্গের বিখ্যাত সব জায়গা থেকে ছোলা আর ঐতিহ্যবাহী পদ আনিয়েছিলাম, কিন্তু সত্যি বলতে মরিচের ঝাল ছাড়া আর কোনো স্বাদই পেলাম না’।

করাচির শ্রেষ্ঠত্বের পেছনে শহরটির সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন আকরাম। তার মতে, করাচিতে পাখতুন, বেলুচ, পাঞ্জাবিসহ সব জাতির মানুষের সহাবস্থান রয়েছে, যার প্রতিফলন ঘটেছে তাদের খাবারে।

আকরাম বলেন, ‘করাচির খাবারের বৈচিত্র্য অবিশ্বাস্য। লাহোরে অবশ্যই ওয়ারিস নিহারি বা ফাজ্জে-র পায়া-র মতো চমৎকার সব জায়গা আছে। কিন্তু করাচির একটি রেস্তোরাঁতেই আপনি অসংখ্য স্বাদ আর পদের সন্ধান পাবেন। এটাই করাচিকে অনন্য করে তুলেছে।’

লাহোরের খাবারের বর্তমান ধারা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে এই কিংবদন্তি পেসার বলেন, ‘আমরা লাহোরে খেয়ে বড় হয়েছি, কিন্তু এখন সেখানকার খাবারে অতিরিক্ত মরিচ আর ক্রিমের ব্যবহার হয়। জানি না এ ধারা কোথা থেকে এলো। এমনকি বাদশাহি মসজিদ সংলগ্ন ফুড স্ট্রিটেও অতিরিক্ত ঝাল দেওয়া হয়।’

ভিডিওর শেষে হাস্যরসের ছলে আকরাম তার চূড়ান্ত রায় দেন, ‘তর্ক শেষে আমি এটাই বলব—লাহোরের খাবার ভালো, কিন্তু করাচির খাবারে বৈচিত্র্য অনেক বেশি। এখন এ কথা বলার জন্য মানুষ আমাকে ধাওয়া করতে পারে’!

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম