Logo
Logo
×
   

Advertisement

খেলা

‘অভিভাবক’ মুশফিক যেভাবে দলকে আগলে রাখেন

Advertisement

জ্যোতির্ময় মন্ডল

জ্যোতির্ময় মন্ডল

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬, ০৮:২৯ পিএম

‘অভিভাবক’ মুশফিক যেভাবে দলকে আগলে রাখেন

সিলেটে দ্বিতীয় টেস্টের আগে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন মুশফিকুর রহিম

Advertisement

একশোর বেশি টেস্ট খেলা মুশফিকুর রহিম বাংলাদেশের ক্রিকেটের এক জীবন্ত কিংবদন্তি। এশিয়ার মধ্যে শচীন টেন্ডুলকারের পর সাদা পোশাকের ক্রিকেটে সবচেয়ে দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার এখন তারই। আর কিছুদিনের মধ্যেই টেস্টে ২১ বছর পূর্ণ করতে যাচ্ছেন এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার।

অধিনায়ক না হলেও বর্তমানে বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমের অন্যতম অভিভাবক মুশফিক। দলের কঠিন সময়ে নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করে সতীর্থদের পথ দেখানোর চেষ্টা করেন তিনি। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিলেট টেস্টের আগে সংবাদ সম্মেলনে জানালেন, কীভাবে তিনি দলকে আগলে রাখেন।

সিলেটে শুক্রবার সারাদিনই ছিল বৃষ্টি। দুই দলকেই ইনডোরে অনুশীলন করতে হয়েছে। দলের অনেক ক্রিকেটারই মুশফিককে অভিভাবকের মতো মনে করেন। কঠিন সময়ে ড্রেসিংরুমে সতীর্থদের কীভাবে সামলান?

যুগান্তরের এমন প্রশ্নে মুশফিক বলেন, ‘আমি শুধু আমার অভিজ্ঞতাগুলো ভাগাভাগি করার চেষ্টা করি। এত বছর ক্রিকেট খেলতে গিয়ে নানা ধরনের পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছি, তাই সেগুলো নিয়েই জুনিয়রদের সঙ্গে কথা বলি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ দলের মধ্যে আমার অনেকের সঙ্গেই দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। অনেককে ২০-২৫ বছর ধরে চিনি। বয়সভিত্তিক ক্রিকেট, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট কিংবা জাতীয় দল সব জায়গাতেই একসঙ্গে খেলেছি। ফলে বোঝাপড়াটাও অন্যরকম। আমি চাই, এতদিনে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি, সেগুলো যেন দলের কাজে লাগে এবং দলের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।’

নিয়মশৃঙ্খলা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে নিজেকে বাংলাদেশ ক্রিকেটে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন মুশফিক। তরুণদের উদ্দেশ্যে বার্তাও দিয়েছেন তিনি। দেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসাবে খেলেছেন একশোর বেশি টেস্ট। ৩৯ বছর বয়সে এসেও তরুণদের মতো রানের খুদা নিয়ে থাকেন।

মুশফিক বলেন, ‘খেলাটা এমন একটা জিনিস, যেটা আপনার রুটি-রুজির জায়গা। তাই এর সঙ্গে বেঈমানি করা যায় না। এটা এমন না যে একদিন ভালো লাগল সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অনুশীলন করলাম, আরেকদিন ভালো লাগল না বলে সারাদিন ঘুমিয়ে থাকলাম। সাংবাদিক হিসেবে আপনাদের যেমন নিয়ম-কানুন আছে, তেমনি পেশাদার খেলোয়াড়দেরও শৃঙ্খলা মেনে চলতে হয়।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘যে কোনো পেশাতেই যদি আপনি শ্রম ও মেধা বিনিয়োগ করেন, তাহলে তার প্রতিদান অবশ্যই পাবেন। আর কেউ যদি সেটা না করে, তাহলে সে আসলে নিজের সঙ্গেই বোকামি করছে।’

দুই দশক আগের নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর সময়ের কথাও স্মরণ করেন মুশফিক। তিনি বলেন, ‘আমি যখন ক্যারিয়ার শুরু করেছি, তখন বছরে সর্বোচ্চ তিন-চার মাস আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতাম। এমনকি ঘরোয়া ক্রিকেট মিলিয়েও পাঁচ মাসের মতো ব্যস্ততা থাকত। এখন প্রায় ১১ মাসই আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেট নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। এখান থেকেই বোঝা যায়, একজন খেলোয়াড়ের জন্য শৃঙ্খল জীবন ও ফিটনেস কতটা গুরুত্বপূর্ণ।’

পাকিস্তানের বিপক্ষে শনিবার দ্বিতীয় টেস্টে মুখোমুখি হবে সকাল ১০টায়।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম