বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘ই’-তে নিজেদের প্রথম ম্যাচে প্রত্যাশিতভাবেই দাপট দেখাতে শুরু করেছে জার্মানি।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘ই’-তে নিজেদের প্রথম ম্যাচে প্রত্যাশিতভাবেই দাপট দেখাতে শুরু করেছে জার্মানি। হিউস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রেখে কুরাসাওকে চাপে রেখেছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। সেই আধিপত্যের পুরস্কারও পেয়ে যায় তারা ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে। ফেলিক্স নমেচার গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় জার্মানরা।
কিন্তু কুরাসাও’ও কম যায়নি। বল দখলের লড়াইয়ে পিছিয়ে থাকলেও পাল্টা আক্রমণে ঠিকই গোল আদায় করে নিয়েছে। দুর্দান্ত একটি গোল করলেন লিভানো কোমেনেনসিয়া।
সেই সঙ্গে জন্ম দিলেন অবিশ্বাস্য এক মুহূর্তের! বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম গোল পেল কুরাসাও, আর সেই গোলেই ১-১ সমতায় ফিরেছে দলটি।
দারুণ এক আক্রমণ থেকে শুরু হয় সুযোগটি। জার্গেন লোকাডিয়ার প্রথম শট জার্মান ডিফেন্ডারদের বাধায় আটকে যায়। তবে ফিরতি বলে নিয়ন্ত্রণ নেন লিভানো কোমেনেনসিয়া। বক্সের ভেতর থেকে তার বাঁ পায়ের শট জশুয়া কিমিখের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে গোলরক্ষক ম্যানুয়েল ন্যুয়ারকে ফাঁকি দিয়ে জালে জড়িয়ে যায়।
এই গোলের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম গোলের দেখা পেল কুরাসাও। আর সেই ঐতিহাসিক গোলেই চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিপক্ষে ১-১ সমতায় ফিরেছে ক্যারিবীয় অঞ্চলের দলটি।
৩৮তম মিনিটে দারুণ এক হেডে জার্মানিকে আবারও লিড এনে দিলেন ডিফেন্ডার নিকো শ্লটারবেক। প্রথমার্ধ শেষে ব্যবধান দাঁড়ায় জার্মানি ২-১ কুরাসাও।
মরক্কোর রেফারি জালাল জায়েদের বাঁশিতে খেলা শুরু হওয়ার পর থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে জার্মানি। হুলিয়ান নাগেলসম্যানের দল শুরু থেকেই শারীরিক শক্তি ও দ্রুত পাসিং ফুটবলের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে। তৃতীয় মিনিটেই নাথানিয়েল ব্রাউন বক্সে ঢোকার চেষ্টা করলেও সেই আক্রমণ সফল হয়নি।
ম্যাচের প্রথম পাঁচ মিনিটে বড় কোনো সুযোগ তৈরি না হলেও বলের দখলে ছিল পুরোপুরি জার্মানি। অন্যদিকে কুরাসাওয়ের জুনিনহো বাকুনা বাম দিক দিয়ে একবার আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করলেও ফাউলের কারণে সেই প্রচেষ্টা থেমে যায়।
ষষ্ঠ মিনিটে আসে ম্যাচের প্রথম গোল। এর আগে জামাল মুসিয়ালার একটি শট কুরাসাও ডিফেন্ডার আরমান্দো ওবিসপো ব্লক করেছিলেন। তবে বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে জার্মানি। এরপর লিভারপুল তারকা ফ্লোরিয়ান ভির্ৎজ দারুণ এক ছোট পাস বাড়িয়ে দেন ফেলিক্স নমেচার উদ্দেশে। সুযোগ বুঝে প্রথম ছোঁয়াতেই ডান কোণে নিখুঁত কার্লিং শটে বল জড়িয়ে দেন জালে। গোলরক্ষক এলোই রুমের কোনো সুযোগই ছিল না।
ভির্ৎজের চমৎকার অ্যাসিস্ট আর নমেচার দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় জার্মানি। গোলের পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি তাদের হাতেই রয়েছে।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে বক্সের ভেতরে নেমেচাকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় জার্মানি। ফলে বিরতিতে যাওয়ার আগেই ব্যবধান আরও বাড়ানোর দারুণ সুযোগ তৈরি হয় জুলিয়ান নাগেলসমানের দলের সামনে। সফল স্পটকিকে দলের ব্যবধান ৩-১ করেন কাই হাভার্টজ।

