Logo
Logo
×
   

খেলা

যে শহর কাঁদিয়েছিল ম্যারাডোনাকে, সেখানেই মেসির প্রতিশোধের মিশন

Icon

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০১:৫৫ এএম

যে শহর কাঁদিয়েছিল ম্যারাডোনাকে, সেখানেই মেসির প্রতিশোধের মিশন

স্কালোনির দলের সামনে এবার এক মধুর প্রতিশোধের সুযোগ!

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জয় পেলেই বিশ্বকাপে শেষ ৩২ বা দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত হবে আর্জেন্টিনার। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ২৪ নম্বর দলের বিপক্ষে সোমবার (২১ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় মুখোমুখি হবে লিওনেল স্কালোনির দল। লিওনেল মেসি-হুলিয়ান আলভারেজরা এমন এক এক শহরে নামছে, যা আর্জেন্টিনা ফুটবলের পাড় ভক্তদের মনে কিছু তিক্ত স্মৃতি জাগিয়ে তোলার কথা। আর একটা নির্দিষ্ট বাক্য তো অনেকের হৃদয়ে আজীবন ক্ষতের মতো খোদাই হয়ে আছে।  ‘ওরা আমার পা দুটো কেটে দিল!’—১৯৯৪ সালের ৩০ জুন ডালাসের ‘ফোর সিজনস’  হোটেল থেকে আসা কিংবদন্তি দিয়োগো ম্যারাডোনার একটি আকুতি আজও ফুটবলবিশ্বে প্রতিধ্বনিত হয়।

নিয়তির কী অদ্ভুত খেলা! আজ থেকে প্রায় ৩২ বছর আগে, যেদিন আর্জেন্টিনা ২-১ ব্যবধানে নাইজেরিয়াকে হারিয়েছিল, ম্যাচ শেষে নার্স সু এলেন কার্পেন্টার ডোপ টেস্টের জন্য ম্যারাডোনার হাত ধরে মাঠের বাইরে নিয়ে যান। সেই ঘটনার পর আলফিও বাসিলের অধীনে অভাগা আর্জেন্টিনা দল ফিফা কর্তৃক নিষিদ্ধ ম্যারডোনাকে ছাড়াই তাদের প্রথম ম্যাচটি খেলেছিল এই ডালাসে। টেক্সাসের উত্তর-মধ্যাঞ্চলীয় এই শহরে বুলগেরিয়ার কাছে সেই হারটাই যেন ৯৪-এর বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নভঙ্গের পূর্বাভাস ছিল। আজ সেই ডালাসেই আবার ফিরছে আলবিসেলেস্তেরা।

এই তাৎপর্য প্রতিপক্ষ বা ম্যাচের গুরুত্বের জন্য যতটা না, তার চেয়ে অনেক বেশি ম্যাচের ভেন্যু জন্য। এক অদ্ভুত কাকতালীয় ব্যাপার হলো, আর্জেন্টিনা তাদের ইতিহাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২১টি শহরে খেললেও, গত ৩২ বছরে এত এত ম্যাচ খেলার পরও মহাদেশীয় কোনো টুর্নামেন্টের ম্যাচের জন্য কখনোই ডালাসে ফিরে আসেনি; কেবল ২০১৫ সালে মেক্সিকোর বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছিল তারা।

এবার আর সেই কটন বোল স্টেডিয়াম নয়, যেখানে রিস্টো স্টইচকভের বুলগেরিয়ার কাছে ২-০ ব্যবধানে হেরে বুক ভেঙেছিল আলবিসেলেস্তেদের। আর্জেন্টিনার এবারের মিশন আর্লিংটনে অবস্থিত ২০০৯ সালে উদ্বোধন হওয়া বিশালাকার এবং চোখধাঁধানো ইনডোর স্টেডিয়াম ‘এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে’। তবে ভেন্যু যা-ই হোক, ডালাসের মাটিতে পা রাখা মাত্রই সমর্থকদের মনে পুরনো সেই ক্ষতে দোলা লাগাটাই স্বাভাবিক। বর্তমান স্কোয়াডের ২৬ জন ফুটবলারের মধ্যে মাত্র ৬ জনের (লিওনেল মেসি, নিকোলাস ওটামেন্দি, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজ, জেরোনিমো রুলি এবং হুয়ান মুসো) জন্ম হয়েছিল সেই বিশ্বকাপের সময়। তবে বাকিরা ছোট থেকে বড় হয়েছেন ডিয়েগোর ডোপিং ট্র্যাজেডির সেই কিংবদন্তি রূপকথা শুনেই—যে ডোপিং কেলেঙ্কারি এক নিমেষেই একটা গোটা জাতির আনন্দকে বিষাদে রূপ দিয়ে কেড়ে নিয়েছিল নিশ্চিত এক বিশ্বকাপ।

ম্যারাডোনার ডোপ টেস্ট পজিটিভ আসার খবরটি যখন নিশ্চিত হয়, তখন রেডন্ডো, বাতিস্তুতা, কানিজিয়া, বালবোদের মতো তারকাদের নিয়ে গড়া এক অতিমানবীয় দলের স্বপ্ন এক পলকেই চুরমার হয়ে গিয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই, সেই মরণাঘাতের পর আর্জেন্টিনা দল আর মানসিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি; গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তারা বুলগেরিয়ার কাছে হারে এবং পরবর্তীতে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে রোমানিয়ার কাছে ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যায়।   

এফিড্রিন পজিটিভ হওয়ার কারণে সেবার ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে ১৫ মাসের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল ফিফা। সেটি ছিল ম্যারাডোনার জীবনের অন্যতম কঠিন এক অধ্যায়, যে নির্বাসনের দিনগুলোতে তিনি রেসিং ক্লাব ও মান্দিয়ুর কোচ হিসেবে ডাগআউটে ভাগ্য পরীক্ষা করেছিলেন; এবং পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালের অক্টোবরে আবারও প্রিয় বোকা জুনিয়র্সের জার্সি গায়ে চড়ে ফুটবল মাঠে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।

আলজেরিয়ার বিপক্ষে লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে চড়ে এবারের আসরটা দুর্দান্তভাবে শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। গ্রুপ পর্বের এক ম্যাচ হাতে রেখেই ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা নকআউট পর্ব নিশ্চিত করতে উন্মুখ। ফুটবলের এই বর্তমান সমীকরণের মাঝেও বারবার ফিরে আসছে ডিয়েগোর সেই অশ্রুসিক্ত মুখাবয়ব, যেখানে তিনি আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ‘ওরা আমার স্বপ্নগুলোকে গুঁড়িয়ে দিল, ওরা আমাকে ফুটবল থেকেই বের করে দিল।’ 

প্রায় ৩২টি বছর কেটে গেছে, স্কালোনির দলের সামনে এবার এক মধুর প্রতিশোধের সুযোগ। ডালাসের মাটিতে ফিরে আরও একটি দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়ে পরের রাউন্ড নিশ্চিত করা তো বটেই, তার চেয়েও বড় কথা- বুলগেরিয়ার কাছে সেই পুরোনো হারের প্রতিশোধ নেওয়া এবং এই শহরটিকে ঘিরে থাকা নেতিবাচক আবহকে এক ফুঁৎকারে উড়িয়ে দেওয়া। এই ম্যাচের ঠিক পাঁচ দিন পরই জর্ডানের মুখোমুখি হতে আর্জেন্টিনাকে আবারও এই ডালাসেই ফিরে আসতে হবে। ফেলে আসা সময়কে কেউ আর অতীতে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারবে না ঠিকই, তবে পুরোনো হিসেব-নিকেশ চুকিয়ে নেওয়ার জন্য মেসি ও তার সতীর্থদের ডালাসে ফেরার চেয়ে দারুণ আর কী-ই বা হতে পারে!

ঘটনাপ্রবাহ: ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬


আরও পড়ুন

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .