Logo
Logo
×
   

Advertisement

খেলা

বিশ্বকাপজয়ী দলকে কেন নকল ট্রফি দেওয়া হয়?

Advertisement

Icon

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম

বিশ্বকাপজয়ী দলকে কেন নকল ট্রফি দেওয়া হয়?

ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আসর ২০২৬ বিশ্বকাপের পর্দা নামতে যাচ্ছে মহারণের মধ্য দিয়ে।

Advertisement

ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আসর ২০২৬ বিশ্বকাপের পর্দা নামতে যাচ্ছে মহারণের মধ্য দিয়ে। ৪৮ দলের দীর্ঘ লড়াই শেষে শিরোপার দৌড়ে টিকে আছে মাত্র দুটি দল—আর্জেন্টিনা ও স্পেন। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালে দুই পরাশক্তির একটিই শেষ পর্যন্ত উঁচিয়ে ধরবে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ট্রফি।

বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের একটি কৌতূহল রয়েছে—চ্যাম্পিয়ন দল কি আসল ট্রফিটি নিজেদের কাছে রাখতে পারে? এর উত্তর হলো, না। বিশ্বকাপজয়ী দলগুলো আসল ট্রফি স্থায়ীভাবে নিজেদের কাছে রাখার সুযোগ পায় না।

ফাইনাল শেষে বিজয়ী দল মাঠে আসল ট্রফি হাতে উদযাপন করলেও আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর সেটি ফিফার কাছে ফিরিয়ে দিতে হয়। পরে চ্যাম্পিয়ন দলকে বিজয়ী দেশের নাম খোদাই করা সোনার প্রলেপযুক্ত ব্রোঞ্জ-অ্যালয়ের একটি প্রতিরূপ বা রেপ্লিকা ট্রফি দেওয়া হয়।

আসল বিশ্বকাপ ট্রফিটি সারা বছর সুইজারল্যান্ডের জুরিখে অবস্থিত ফিফা মিউজিয়ামে সংরক্ষিত থাকে। বিশেষ প্রদর্শনী, ট্রফি ট্যুর কিংবা বিশ্বকাপ আয়োজনের সময় নির্দিষ্ট অনুষ্ঠানে এটি জনসমক্ষে আনা হয়।

বিশ্বকাপের প্রথম ট্রফিটি ছিল ‘জুল রিমে ট্রফি’। ফরাসি ভাস্কর আবেল লাফ্লুর এর নকশা করেছিলেন। ট্রফিটিতে প্রাচীন গ্রিক বিজয়ের দেবী ‘নাইকি’র অবয়ব ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল। ৩৫ সেন্টিমিটার উচ্চতার এই ট্রফির ওজন ছিল ৩.৮ কেজি এবং এটি সোনার প্রলেপযুক্ত রুপা দিয়ে তৈরি।

তৎকালীন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দেশ তিনবার বিশ্বকাপ জিতলে ট্রফিটি স্থায়ীভাবে নিজেদের কাছে রাখার অধিকার পেত। ১৯৭০ সালে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতে ব্রাজিল সেই সম্মান অর্জন করে এবং জুল রিমে ট্রফির স্থায়ী মালিক হয়।

তবে ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ঘটনা হলো এই ট্রফির দুই দফা চুরি। ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডে প্রদর্শনীর সময় ট্রফিটি চুরি হয়ে যায়। পরে দক্ষিণ লন্ডনের একটি ঝোপের নিচে ‘পিকলস’ নামের একটি কুকুর সেটি খুঁজে পায়। দ্বিতীয়বার ১৯৮৩ সালে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের সদর দপ্তর থেকে ট্রফিটি চুরি হয়। সেই ট্রফি আর কখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ধারণা করা হয়, এটি গলিয়ে ফেলা হয়েছিল।

জুল রিমে ট্রফি যুগে বিশ্বকাপ জিতেছিল উরুগুয়ে (১৯৩০, ১৯৫০), ইতালি (১৯৩৪, ১৯৩৮), পশ্চিম জার্মানি (১৯৫৪), ব্রাজিল (১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০) এবং ইংল্যান্ড (১৯৬৬)।   

জুল রিমে ট্রফির বিদায়ের পর নতুন বিশ্বকাপ ট্রফির নকশা করেন ইতালীয় ভাস্কর সিলভিও গাজ্জানিগা। ১৯৭৪ সাল থেকে চালু হওয়া বর্তমান ট্রফিটি ইতালির প্রতিষ্ঠান জিডিই বার্টোনি তৈরি করে আসছে।

১৮ ক্যারেট সোনা দিয়ে নির্মিত এই ট্রফিতে দুই মানব অবয়বকে পৃথিবী ধরে রাখতে দেখা যায়। এর উচ্চতা ৩৬.৮ সেন্টিমিটার এবং ওজন ৬.২ কেজি।

বর্তমান ট্রফি প্রবর্তনের পর বিশ্বকাপ জিতেছে জার্মানি (১৯৭৪, ১৯৯০, ২০১৪), আর্জেন্টিনা (১৯৭৮, ১৯৮৬, ২০২২), ইতালি (১৯৮২, ২০০৬), ব্রাজিল (১৯৯৪, ২০০২), ফ্রান্স (১৯৯৮, ২০১৮) এবং স্পেন (২০১০)।

এবারের ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যে যে দলই জিতুক না কেন, তারা সাময়িকভাবে আসল ট্রফি হাতে উদযাপনের সুযোগ পাবে। তবে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের সেই সোনালি প্রতীকটি ফিরে যাবে ফিফার জাদুঘরেই, আর চ্যাম্পিয়নদের হাতে তুলে দেওয়া হবে তার নিখুঁত প্রতিরূপ।

Advertisement

Advertisement

ঘটনাপ্রবাহ: ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬


আরও পড়ুন

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম