Logo
Logo
×
   

Advertisement

খেলা

গোল নেই অ্যাসিস্টও নেই, তাও যেভাবে বিশ্বকাপের সেরা হলেন রদ্রি

Advertisement

Icon

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ১০:০৫ এএম

গোল নেই অ্যাসিস্টও নেই, তাও যেভাবে বিশ্বকাপের সেরা হলেন রদ্রি

Advertisement

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ জিতে ফুটবল বিশ্বের নতুন চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। এই ঐতিহাসিক সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছেন দলের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার রদ্রি। গোল কিংবা অ্যাসিস্টের খাতায় তার নাম না থাকলেও পুরো আসরে অসাধারণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ফিফার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত সম্মান ‘গোল্ডেন বল’ নিজের করে নিয়েছেন তিনি।

স্বাভাবিকভাবেই অনেক ফুটবলপ্রেমীর মনে প্রশ্ন উঠেছে—গোল বা অ্যাসিস্ট ছাড়াই কীভাবে টুর্নামেন্টসেরা খেলোয়াড় হলেন রদ্রি?

এর উত্তর লুকিয়ে আছে তার মাঠের ভূমিকার মধ্যেই। একজন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে রদ্রির প্রধান দায়িত্ব কখনোই গোল করা নয়। বরং দলের খেলার ছন্দ নিয়ন্ত্রণ, মাঝমাঠে আধিপত্য বজায় রাখা, রক্ষণ ও আক্রমণের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করা এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ শুরু হওয়ার আগেই তা ভেঙে দেওয়াই তার মূল কাজ।

পুরো বিশ্বকাপজুড়ে স্পেনের খেলার কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন এই মিডফিল্ডার। তার উপস্থিতিতে স্পেনের মাঝমাঠ ছিল সুসংগঠিত, নিয়ন্ত্রিত এবং আত্মবিশ্বাসী।

ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকা বলের দখল ধরে রাখা, দ্রুত ও নিখুঁত পাস দেওয়া এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ নষ্ট করার ক্ষেত্রে ছিলেন অনন্য। স্পেনের রক্ষণভাগ পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একটি গোল হজম করেছে, আর সেই সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি ছিল রদ্রির অসাধারণ রক্ষণাত্মক অবদান। প্রতিপক্ষের আক্রমণ মাঝমাঠেই থামিয়ে দেওয়ার দক্ষতায় তিনি স্পেনকে বাড়তি নিরাপত্তা দিয়েছেন প্রতিটি ম্যাচে।

পরিসংখ্যানও রদ্রির প্রভাবের পক্ষে শক্ত প্রমাণ হাজির করে। বিশ্বকাপের আটটি ম্যাচে তিনি ৬৫০টির বেশি সফল পাস সম্পন্ন করেছেন। পাশাপাশি মাঠজুড়ে তার দৌড়, বল পুনরুদ্ধারের সক্ষমতা এবং উচ্চগতির স্প্রিন্টের সংখ্যাও ছিল অন্যদের তুলনায় উল্লেখযোগ্য।

স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের কৌশল বাস্তবায়নে রদ্রি ছিলেন সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ফুটবলার। আক্রমণ গড়ে তোলা থেকে শুরু করে রক্ষণকে সংগঠিত রাখা—দুই ক্ষেত্রেই তার ভূমিকা ছিল সমান গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে, ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে রানার্সআপ হওয়া আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে ছিলেন দুর্দান্ত। পুরো টুর্নামেন্টে তিনি করেছেন ৮ গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৪টি গোল। তবুও গোল্ডেন বলের দৌড়ে শেষ পর্যন্ত মেসিকে ছাড়িয়ে যান রদ্রি। বিষয়টি অনেকের কাছে বিস্ময়কর মনে হলেও ফিফার মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শুধু গোল বা অ্যাসিস্টই শেষ কথা নয়।

বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচনের সময় ফিফা একজন ফুটবলারের সামগ্রিক অবদান, ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা, ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, কৌশলগত গুরুত্ব এবং দলের সাফল্যে তার প্রভাবকে বিশেষভাবে বিবেচনা করে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে রদ্রি পুরো টুর্নামেন্টে ছিলেন স্পেনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার। নিজের নিখুঁত পজিশনিং, খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ এবং দলকে ভারসাম্য এনে দেওয়ার অসাধারণ সক্ষমতার মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন, ফুটবলে একজন খেলোয়াড়ের অবদান শুধু গোল বা অ্যাসিস্টের সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়। আর সেই কারণেই ২০২৬ বিশ্বকাপের গোল্ডেন বলের সবচেয়ে যোগ্য দাবিদার হিসেবে শেষ পর্যন্ত রদ্রির হাতেই উঠেছে আসরের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার।

Advertisement

Advertisement

ঘটনাপ্রবাহ: ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬


আরও পড়ুন

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম