সেই দাবির পর ফকল্যান্ড ফিরে পেতে যে পথে হাঁটছে আর্জেন্টিনা
Advertisement
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬, ০২:০৫ পিএম
সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা যে মালভিনাস বা ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের পতাকা প্রদর্শন করেছিলেন, তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুললেন প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। তার মতে, ফুটবলের সঙ্গে রাজনৈতিক বিষয় মেশানো উচিত নয়। এই দ্বীপপুঞ্জ ফিরে পাওয়ার লক্ষ্য শুধুমাত্র কূটনৈতিক পথেই অর্জন করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।
একটি সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থানের সমর্থনে এলভিস প্রেসলির সঙ্গে তুলনা টানেন প্রেসিডেন্ট মিলেই। তিনি বলেন, ‘একটা সাক্ষাৎকারে তাকে ভিয়েতনাম যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, তিনি রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করেন না, কারণ তিনি বিনোদন জগতের মানুষ।’ এরপর নিজের যুক্তিকে আরও এগিয়ে নিয়ে তিনি বলেন, ‘পানি আর তেল মেশানো ঠিক না, এটা একটা খেলা, একটা প্রতিযোগিতা।’
এ ছাড়া জাতীয় দলের কোচের অবস্থানের প্রশংসাও করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘স্কালোনি যা বলেছেন, আমিও একই অবস্থানে আছি।’ এরপর খেলোয়াড় এবং নেতাদের ভূমিকার মধ্যে পার্থক্য টেনে তিনি বলেন, ‘খেলোয়াড়রা মুহূর্তের আবেগ থেকে এমনটা করতেই পারেন। কিন্তু একজন রাজনীতিকের ক্ষেত্রে এমনটা হতে পারে না, কারণ এমন মন্তব্য যুদ্ধ ঘোষণার মতো পরিণতি ডেকে আনতে পারে।’
সবচেয়ে বেশি প্রতিক্রিয়া তৈরি করা আরেকটি অংশ ছিল ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ডিয়েগো ম্যারাডোনার ঐতিহাসিক গোল নিয়ে তার মন্তব্য। তিনি বলেন, ‘সংযত থাকতে হবে। ম্যারাডোনা ইংলিশদের বিপক্ষে যে গোলটাই করুন না কেন, তাতে আমরা মালভিনাস ফেরত পাইনি।’
এই দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে আন্তর্জাতিক দাবিতে নিজের সরকারের অগ্রগতির কথাও জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘কূটনীতির মাধ্যমেই আমরা এই ফিরে পাওয়ার পথে অগ্রগতি করেছি। জাতিসংঘকে দিয়ে ইংল্যান্ডকে বসে আলোচনায় বাধ্য করেছি, এটা ইতিমধ্যে ঘটেছে। আমরা যেভাবে কূটনৈতিক কাজ করছি, তাতে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, চীন এবং ইংল্যান্ডেরও একটা অংশ এই বিষয়টা বিবেচনা করছে।’
এর কয়েকদিন আগেও একই বিষয়ে মন্তব্য করেছিলেন মিলেই। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের পর ঐতিহ্যবাহী ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্তিনাস’ স্লোগানের সঙ্গে বিশ্বকাপজয়ী দলের উদযাপনের সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেছিলেন তিনি। সেই সময় তিনি বলেছিলেন, ‘খেলোয়াড়রা কূটনীতির অংশ নয়। এটা একটা অবিবেচক আচরণ।’
সার্বভৌমত্বের এই দাবিকে ফুটবল ম্যাচের সঙ্গে যুক্ত করা উচিত নয় বলেও জোর দিয়ে বলেন তিনি। তিনি বলেন, ‘ভাগ্যক্রমে, এই ধরনের অসংগত মন্তব্য এমন মানুষদের কাছ থেকেই আসে যাদের কোনো গুরুত্ব নেই, কেউই তাদের গুরুত্ব দেয় না। এসব মেশানো উচিত না। একটা ফুটবল ম্যাচ শুধুই একটা ফুটবল ম্যাচ। কিছু ভুল অগ্রহণযোগ্য। মালভিনাস আর্জেন্টিনার, আর আমরা কূটনৈতিক পথেই এটা ফিরে পাব।’
